প্রতীকী ছবি।
টাকাও গেল আবার আবার মাথাকটুকুও পেলেন না। ৩৩ লক্ষ টাকা দিয়ে বহুতলের ৩৫ তলায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন যুবক। কিন্তু গৃহপ্রবেশ করতে গিয়ে জানতে পারলেন ওই বহুতল ৩২ তলাতেই শেষ। তা হলে বাকি তিন তলা গেল কোথায়? তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছে, তত ক্ষণে ওই যুবক বুঝে ফেলেছিলেন। কিন্তু তখন আর কিছুই করার ছিল না। শেষমেশ পুলিশে প্রতারণার একটি অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি চিনের শাংসি প্রদেশের। ক্রেতার নাম শেন। ২০১৩ সালে তিনি ৩৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শিয়ান গ্রামের কাছে একটি বহুতল আবাসনে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন তিনি। ১০০০ বর্গফুটের ওই ফ্ল্যাটটি তখন তিনি কেনেন ৩৩ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকায়। কয়েকটি কিস্তিতে প্রোমোটারকে টাকা দেন শেন। কিন্তু সেই সময় ফ্ল্যাট কিনলেও গৃহপ্রবেশ করেননি তিনি। ২০১৫ সালে তাঁকে ফ্ল্যাটটি দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রোমোটার।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালের মধ্যে ফ্ল্যাট দিতে পারেনি নির্মাণকারী সংস্থা। সময় পিছিয়ে দিয়ে শেনকে জানানো হয় ২০১৭ সালের মধ্যে ফ্ল্যাটটি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হবে। শেনকে বলা হয় ৩৩ তলা পর্যন্ত কাজ হয়ে গিয়েছে, তিনি চাইলে সেখানে ফ্ল্যাট নিতে পারেন। কিন্তু দাম বেশি পড়বে। সেই বাড়তি টাকা সময়মতো জোগাড় করতে না পারায় সেটি অন্য গ্রাহককে বিক্রি করে দেওয়া হয়। শেনের অভিযোগ, বার বার ফ্ল্যাটের জন্য প্রোমোটারকে জিজ্ঞাসা করেও সদুত্তর পাননি। তখন তাঁকে বলা হয়, খুব শীঘ্রই সেই ফ্ল্যাট হস্তান্তরিত করা হবে। কিন্তু সেই ফ্ল্যাট তাঁকে হস্তান্তর করা হয়নি। শুধু তা-ই নয়, যে ৩৫ তলার কথা বলা হয়েছিল, বহুতলটি ৩৩ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করেই শেষ করেছেন প্রোমোটার। এমনকি, শেন তাঁর টাকা ফেরত চাইতে গেলে জানিয়ে দেওয়া হয়, সংস্থা আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। পুরো টাকা ফেরানো সম্ভব নয়। তার পরই পুলিশ এবং আদালতের দ্বারস্থ হন শেন। শেনকে পুরো টাকা মিটিয়ে দিতে নির্মাণকারী সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।