Benefits of Rice

ভাত মানেই কি কেবল কার্বোহাইড্রেট? সুস্থ শরীরের চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকতে পারে আপনার রোজকার পাতেই

‘ভাত খেলে মেদ বাড়বে’, ‘ওতে কেবল কার্বোহাইড্রেট’— এই জুজুতে অনেকেই এখন সাদা ধোঁয়া ওঠা থালা থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন অন্য কথা।

এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো
শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩১
সুস্থ থাকার ‘রাইস থেরাপি’

সুস্থ থাকার ‘রাইস থেরাপি’

বাঙালির বারো মাসের রুটিনে চাল যেন ধ্রুবক। কিন্তু ইদানীং ফিটনেস আর ডায়েটের রমরমার বাজারে প্রথম কোপটি পড়ছে সেই ভাতের ওপরেই। ‘ভাত খেলে মেদ বাড়বে’, ‘ওতে কেবল কার্বোহাইড্রেট’— এই জুজুতে অনেকেই এখন সাদা ধোঁয়া ওঠা থালা থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন অন্য কথা। তাঁদের মতে, ভাতকে ব্রাত্য করে নয়, বরং চালের সঠিক গুণাগুণ বুঝে পাতে সাজাতে পারলেই মিলবে নিরোগ শরীরের হদিস।

কার্বোহাইড্রেটের আড়ালে খনিজ ভাণ্ডার

ভাত মানেই কি কেবল ওজন বৃদ্ধি? আদৌ নয়। ভাত শক্তির প্রধান উৎস। ভাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি১ (থায়ামিন), যা স্নায়ুতন্ত্রকে সচল রাখে। এ ছাড়া ম্যাঙ্গানিজ় এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ উপাদানগুলি হাড়ের গঠন মজবুত করতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষত যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে বা পেটের গোলমাল লেগেই থাকে, তাঁদের জন্য সেদ্ধ চালের ভাত অমৃতের সমান। এটি অত্যন্ত সহজপাচ্য এবং অন্ত্রে ভাল ব্যাকটিরিয়াদের পুষ্টি জোগায়।

সাদা ভাত বনাম লাল চাল: কার পাল্লা ভারী?

বিতর্ক চিরকালীন। আধুনিক পুষ্টিবিদদের মতে, সাদা পালিশ করা চালের চেয়ে লাল চাল বা ব্রাউন রাইস অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। কারণ, লাল চালের উপরের স্তরে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়তে দেয় না। যার ফলে ডায়াবিটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি আশীর্বাদের মতো। আবার পরিমিত পরিমাণে সাদা ভাল খেলে এবং সঙ্গে পর্যাপ্ত শাকসবজি থাকলে তা শরীরে সমপরিমাণ শক্তি জোগাতে সক্ষম।

সুস্থ থাকার ‘রাইস থেরাপি’: কিছু সুলুকসন্ধান

সুস্থ থাকতে ভাত খাওয়ার অভ্যাসে আনুন সামান্য কিছু বদল:

ফ্যান ভাত এবং পান্তা: গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পান্তা ভাতে যে প্রোবায়োটিক গুণ থাকে, তা পেটের বহু জটিল অসুখ থেকে মুক্তি দেয়। গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং পেটের অ্যাসিডিটি কমাতে এর জুড়ি মেলা ভার।

খিচুড়ি: চাল আর ডালের যুগলবন্দিতে তৈরি খিচুড়িকে পুষ্টিবিজ্ঞানে ‘কমপ্লিট প্রোটিন’ বলা হয়। মাছ-মাংসের সমতুল্য অ্যামিনো অ্যাসিড মেলে এই সহজ পদটি থেকে।

সবজির সঙ্গত: ভাতের পরিমাণ কমিয়ে তাতে প্রচুর পরিমাণে মরসুমি সবজি মিশিয়ে ‘মিক্সড রাইস’ বানিয়ে নিন। এতে কার্বোহাইড্রেটের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং পেটও দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে।

সাবধানতা কোথায়?

সমস্যা ভাতে নয়, সমস্যা লুকিয়ে আছে তার পরিমাণে। ডায়েট থেকে ভাতকে একেবারে মুছে না ফেলে, বরং নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় পাতে রাখুন। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, রাতের চেয়ে দুপুরে ভাত খাওয়া শরীরের জন্য বেশি সুবিধাজনক। কারণ দিনের বেলায় আমাদের বিপাক হার বেশি থাকে।

পরিশেষে, খাদ্যতালিকায় ভাত রাখা বা না রাখা আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ হতে পারে, কিন্তু একে কেবল ‘শর্করা’ ভেবে খলনায়ক সাজানোর আগে তার গুণাগুণগুলি ঝালিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। এই যেমন লালবাবা চাল। যা শুধু পদের স্বাদই বাড়ায় না। খেয়াল রাখে স্বাস্থ্যেরও। অর্থাৎ লালবাবা চালে আপনি পাবেন স্বাদ এবং স্বাস্থ্য একসঙ্গে। পরিমিতি বোধ আর রান্নার সঠিক শৈলী জানা থাকলে আপনার রোজকার পাতের ওই সাদামাঠা চালই হতে পারে দীর্ঘায়ুর চাবিকাঠি।

এই প্রতিবেদনটি ‘লালবাবা রাইস’—এর সঙ্গে এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।

আরও পড়ুন