Accenture on AI for Promotion

কাজের জায়গায় কৃত্রিম মেধার ব্যবহার না করলে পদোন্নতি নয়! ১১,০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের পর সিদ্ধান্ত নিল বিখ্যাত সংস্থা

কাজের জায়গায় কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তি ‘নিয়মিত’ ব্যবহার না করলে পদোন্নতি হবে না সিনিয়র আধিকারিকদের। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইমেল মারফত কর্মীদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বহুজাতিক টেক জায়ান্ট অ্যাকসেনচার, খবর সূত্রের।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৪
Representative Picture

—প্রতীকী ছবি।

কাজের সময় কে কতটা কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, তার উপর নির্ভর করবে পদোন্নতি! চলতি আর্থিক বছর (পড়ুন ২০২৫-’২৬) শেষ হওয়ার মুখে এ বার সে কথা জানিয়ে দিল বহুজাতিক টেক জায়ান্ট অ্যাকসেনচার। তাদের এ-হেন সিদ্ধান্তে কর্পোরেট দুনিয়ায় পড়ে গিয়েছে শোরগোল। এর জেরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কর্মক্ষেত্রে যে আমূল বদল আসতে চলেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

Advertisement

সূত্রের খবর, সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর এবং সিনিয়র ম্যানেজার পদমর্যাদার আধিকারিকদের বিশেষ ইমেল পাঠায় অ্যাকসেনচারের পরিচালন বোর্ড। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কাজের সময় ‘নিয়মিত’ কৃত্রিম মেধা বা এআই টুল ব্যবহার করতে হবে তাঁদের। যিনি বা যাঁরা এতে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁদের সম্ভবত হবে না কোনও পদোন্নতি। ওই ইমেলে অবশ্য ছাঁটাইয়ের কোনও কথা বলা হয়নি।

গত কয়েক বছর ধরেই কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির দিকে বেশি করে মনোযোগ দিতে শুরু করেছে অ্যাকসেনচার কর্তৃপক্ষ। নয়াদিল্লিতে চলা এআই সম্মেলনে এই নিয়ে মুখ খোলেন সংস্থার চিফ এগ্‌জ়িকিউটিভ অফিসার (সিইও) জুলি সুইট। তাঁর কথায়, ‘‘দৈনন্দিন কাজ কী ভাবে হবে, তা নিয়ে দুনিয়ার তাবড় টেক জায়ান্টদের নতুন করে চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন। কারণ, কৃত্রিম মেধা চলে আসায় সেটা আর আগের নিয়মে চালানো সম্ভব নয়।’’

জুলি মনে করেন, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে কর্মীদের সম্পৃক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে কয়েক কোটি ডলার লগ্নি করতে হবে। গত বছরের (পড়ুন ২০২৫ সাল) সেপ্টেম্বরে ১১ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করে অ্যাকসেনচার। কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি ব্যবহারে তাঁরা একেবারেই দক্ষ নন। এর জেরে কাজ হারাতে হয়েছে তাঁদের। শুধু তা-ই নয়, কর্মীছাঁটাইয়ের প্যাকেজ হিসাবে গত তিন বছরে ২০০ কোটি ডলার খরচ করেছে এই বহুজাতিক টেক জায়ান্ট।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, অ্যাকসেনচারই যে প্রথম কর্মক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির উপর বেশি করে জোর দিচ্ছে, এমনটা নয়। গত বছরের (পড়ুন ২০২৫ সাল) জুনে এ ব্যাপারে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে মাইক্রোসফ্‌ট। সেখানে বলা হয়, ‘‘কৃত্রিম মেধা ব্যবহার আর ঐচ্ছিক নয়। কর্মীদের এটা দ্রুত শিখে নিতে হবে এবং প্রযুক্তিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে।’’ পরে সিনিয়র এগ্‌জ়িকিউটিভ পদমর্যাদার আধিকারিকদের এই ইস্যুতে সতর্ক করেন খোদ মাইক্রোসফ্‌টের সিইও সত্য নাদেলা।

গত বছর (পড়ুন ২০২৫ সাল) ম্যানেজার পদের কর্মীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে এআই ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনাধীনে আনার প্রস্তাব দেন মার্কিন টেক জায়ান্টটির এগ্‌জ়িকিউটিভ জুলিয়া লিউসন। ঠিক তার কয়েক সপ্তাহ পড়েই সিনিয়র এগ্‌জ়িকিউটিভ পদমর্যাদার আধিকারিকদের হুঁশিয়ারি দেন নাদেলা। সূত্রের খবর, তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য হল, যিনি বা যাঁরা কৃত্রিম মেধা বা এআই প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না, তাঁদের সংস্থা ত্যাগের কথা বিবেচনা করা উচিত।

Advertisement
আরও পড়ুন