— প্রতীকী চিত্র।
আজ ভোট গণনা। রয়েছে ঝড়ের পূর্বাভাস। সকাল থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে। কোটি-কোটি চোখ আটকে থাকবে টিভির পর্দায়। পাঁচ রাজ্যে একসঙ্গে নির্বাচন হলেও, গোটা দেশের নজর মূলত পশ্চিমবঙ্গে। এ বার বাংলা দখলের জন্যে বিজেপি যে রকম মরিয়া হয়ে ঝাঁপিয়েছে, অতীতে কোনও বিরোধী দলকেই তেমনটা করতে দেখা যায়নি। গত ক’দিনে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ইরান যুদ্ধ, হরমুজ় প্রণালী, এমনকি আইপিএল-কেও পিছনে ফেলেছে বঙ্গ-ভোট। কেন্দ্রের ভোট না হলেও, পাঁচ রাজ্যে ফলাফলের কিছুটা প্রভাব থাকবে শেয়ার বাজারে।
বিশ্ব বাজারে তেলের চড়া দামে তেল সংস্থাগুলির চাপ বাড়লেও, কেন্দ্র পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়াতে দেয়নি দেশে। তবে ভোট মিটতে না মিটতেই বাণিজ্যিক সিলিন্ডার প্রায় হাজার টাকা দামি হয়েছে। চতুর্থ বার দাম বেড়েছে অটো এলপিজির। মার্চে এক বার গৃহস্থের রান্নার গ্যাসও বেড়েছিল। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এ বার কি পেট্রল, ডিজ়েলের পালা? কেন্দ্র অবশ্য জানিয়েছিল, তেল এখনই বাড়ছে না। কিন্তু হরমুজ়ে যা পরিস্থিতি, তাতে দাম বৃদ্ধি সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
হরমুজ় বন্ধ বহু দিন। মাঝেমধ্যে ইরান জ্বালানিবাহী একটি দু’টি জাহাজকে ভারতে যেতে দিচ্ছিল। এ বার হরমুজ আটকেছে আমেরিকা। ফলে আমদানি বন্ধ। ভারত ৬০-৮০ শতাংশ তেল-গ্যাস আমদানি করে। সিংহভাগই এই পথে। তার উপর অশোধিত তেল ১১০ ডলার। বেশি দামে ঘুরপথে আমদানির খরচ বেড়েছে। ডলার ৯৫ টাকা। সব মিলিয়ে অর্থনীতি সঙ্কটে। হরমুজ় সমস্যা দ্রুত না মিটলে ধাক্কা ঘরে ঘরে পৌঁছবে।
পেট্রল-ডিজ়েল-গ্যাসের দাম লাগামছাড়া যা হতে পারে— পণ্য পরিবহণের খরচ বাড়বে, ফলে বাড়বে দাম। যাতায়াতে খরচ বেশি পড়বে। ফের দাম বাড়তে পারে গ্যাসের। রেস্তরাঁ এবং ফাস্ট ফুডের দোকানে খাবারের দাম বাড়াবে। কমবে বিক্রি এবং লাভ। কাজ হারাতে পারেন অনেক কর্মী। রাসায়নিক সার দামি হবে। কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। খাদ্যপণ্যের দাম চড়বে। দাম বাড়বে বিমান টিকিটেরও। উড়ান সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই দেশে পরিষেবা বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। এ ছাড়া, রঙের দাম চড়বে। জিএসটি কমার সুবিধাগুলির অনেকটাই কেড়ে নেবে দাম বৃদ্ধি। সব জিনিসের এই ভাবে দাম বাড়লে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ককে সুদ বাড়াতে হবে। তাতে পুঁজি জোগাড়ের খরচ চড়বে। শিল্পকে পণ্যের দাম বাড়াতে হবে। না হলে কমবে লাভ। এ সবের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শেয়ার বাজারে।
অন্য দিকে, সুদ বাড়লে বন্ডের দাম কমবে, ফলে তার ইল্ড বাড়বে। যা এখনই ৭% ছাড়িয়েছে। ইল্ড বাড়লে বন্ড ছেড়ে সরকারের বাজার থেকে ধার করার খরচ বাড়বে। বাড়ি-গাড়ির ঋণ শোধের কিস্তি ভারী হবে। পণ্যের খুচরো দাম বাড়তে থাকলে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ককে জুনে সুদ বাড়াতে হতে পারে। সব মিলিয়ে এখন প্রধানমন্ত্রীর “অচ্ছে দিনের’’ দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কঠিন দিনের জন্যে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে শেয়ার বাজার বেশ নড়বড়ে। সমস্যা আশু মেটার নয়। ফলে লগ্নির ক্ষেত্রে সাবধানে পা ফেলা জরুরি। যাঁরা করের আওতায় নেই, সুদ বাড়লে তাঁরা ব্যাঙ্ক-ডাকঘরে টাকা রাখতে পারেন। চড়া কর দিতে হলে শেয়ার এবং ঋণপত্রের ৬৫%+৩৫% অনুপাতযুক্ত হাইব্রিড ফান্ড, ডিভিডেন্ড ইল্ড ফান্ড এবং উঁচু ডিভিডেন্ড ইল্ডযুক্ত ভাল শেয়ারে লগ্নির কথা ভাবা যায়। ফান্ডে এসআইপি থাকলে তা চালিয়ে যাওয়া উচিত।
(মতামত ব্যক্তিগত)