West Asia Conflict

চিন্তা বাড়াচ্ছে যুদ্ধ, আশঙ্কার কথা শোনাল কেন্দ্রের আর্থিক রিপোর্ট

অর্থ মন্ত্রকের বক্তব্য, যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতের অর্থনীতি দাঁড়িয়েছিল শক্ত ভিতের উপরে। চাহিদা ও জোগানের অভাব ছিল না। মূল্যবৃদ্ধি চড়লেও, তা ছিল মূলত খাদ্যপণ্যের দামের কারণে। বাদবাকি পণ্যের দামে প্রভাব পড়েনি।

নিজস্ব প্রতিবেদন
শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪৩

—প্রতীকী চিত্র।

আমেরিকা-ইজ়রায়েল-ইরান যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যা ভারতের অর্থনীতি নিয়ে চিন্তা বাড়াচ্ছে বলে উঠে এল অর্থ মন্ত্রকের প্রকাশিত মার্চের আর্থিক রিপোর্টে। শনিবার মোদী সরকারের দাবি, এই যুদ্ধ চললে মূলত চারটি দিক দিয়ে আঘাত আসতে পারে অর্থনীতির উপরে। প্রথমত, তেল-গ্যাস, সারের মতো পণ্যের আমদানি ধাক্কা খেতে পারে। কমতে পারে রফতানি। দ্বিতীয়ত, টাকার দরে পতন বহাল থাকলে মাথা তুলবে আমদানির খরচ। তৃতীয়ত, বিদেশ থেকে পণ্য বা পাঠানোর জাহাজ ভাড়া, পণ্যের বিমার মতো ব্যয় বাড়বে। চতুর্থত, পশ্চিম এশিয়া থেকে ভারতে টাকা পাঠানো কমবে। রিপোর্টের মুখবন্ধে কেন্দ্রের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনের বক্তব্য, এই সব কারণে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার কমার আশঙ্কা থাকছে। রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্য ছোঁয়া সম্ভব না-ও হতে পারে। চড়তে পারে মূল্যবৃদ্ধি। যা ফেব্রুয়ারিতে হয়েছে ১০ মাসে সর্বাধিক।

অর্থ মন্ত্রকের বক্তব্য, যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতের অর্থনীতি দাঁড়িয়েছিল শক্ত ভিতের উপরে। চাহিদা ও জোগানের অভাব ছিল না। মূল্যবৃদ্ধি চড়লেও, তা ছিল মূলত খাদ্যপণ্যের দামের কারণে। বাদবাকি পণ্যের দামে প্রভাব পড়েনি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে অনেকটাই। ফলে চিন্তা বাড়ছে দেশের আর্থিক স্বাস্থ্য নিয়ে। এ সবের মধ্যেও এখনও পর্যন্ত ভারতের অর্থনীতি বাইরের ঝড়-ঝাপ্টা মোকাবিলায় তৈরি বলেই দাবি মন্ত্রকের। তবে কেন্দ্রের বক্তব্য, বর্তমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রেখে চলা ও প্রয়োজনে নীতি বদলও জরুরি।

অর্থনীতিবিদ অজিতাভ রায়চৌধুরীর মতে, দেশে চাহিদা বাড়াতে গত বছর সরকার আয়কর ও জিএসটি-তে বদল এনেছিল। কিন্তু এখন ভূ-রাজনৈতিক অশান্তির কারণে জ্বালানি ও পেট্রপণ্য নির্ভর শিল্পের জোগান ঠিক রাখাই চিন্তার। ফলে সব মিলিয়ে সরকারকে ছোট-মাঝারি শিল্প, আমদানি-রফতানিকারী এবং ব্যবসায়ীদের পাশে থাকতে হবে।

উদ্বেগ

বহু শিল্পের কাঁচামাল তৈরি হয় পেট্রপণ্য থেকে।

কিছু ক্ষেত্রে তা এলেও, লাগছে বাড়তি খরচ।

একই দশা সারেরও।

জ্বালানি সঙ্কটে হয়রানি বাড়ছে মানুষ, শিল্পের।

আমদানি-রফতানিতে ধাক্কা বাড়াবে বাণিজ্য ঘাটতি।

টাকার দাম পড়তে থাকলে চড়বে আমদানি খরচ।

চড়বে মূল্যবৃদ্ধি। থমকাতে পারে আর্থিক বৃদ্ধি।

রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্য পূরণ না-ও হতে পারে।

আরও পড়ুন