—প্রতীকী চিত্র।
পাঁচ কেজির ছোট সিলিন্ডার বিক্রি শুরু করার অনুমতি দিল কেন্দ্র। সেই সঙ্গে নির্দেশ দিল রান্নার গ্যাসের বাণিজ্যিক সিলিন্ডার বিক্রি আরও কিছুটা বাড়ানোর। এ দিকে, এই দিনই এক সমীক্ষায় দাবি, দেশে কালোবাজারি বেড়েছে। পাঁচজন গ্রাহকের মধ্যে একজন বেআইনি ভাবে রান্নার গ্যাস কিনেছেন। যার হার ২০%। এ জন্য বহু গ্রাহককে ২০০০-৩০০০ টাকা দিতে হয়েছে। কেউ কেউ ৫০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করেছেন।
উপদেষ্টা লোকালসার্কলের সমীক্ষা বলছে, মার্চের প্রথম সপ্তাহে ১৪% গ্রাহক বেআইনি ভাবে সিলিন্ডার কিনেছিলেন। দ্বিতীয় সপ্তাহে তা ২০% ছুঁয়েছে। এই সময়ে প্রায় ১৫% একটি সিলিন্ডারের জন্য ২০০০ টাকার বেশি খরচ করেছেন। সর্বাধিক ৫০০০ দিয়েছেন একজন অবসরপ্রাপ্ত আমলা। ১৬% জানান, সিলিন্ডার না নিলেও এসএমএস এসেছে সিলিন্ডার দেওয়া হয়েছে বলে। সংস্থাটির দাবি, কেন্দ্র এবং তেল সংস্থাগুলি সিলিন্ডারের কালোবাজারি রুখতে পদক্ষেপ করলেও, তা পুরো সফল হয়নি। এই তথ্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছেই পাঠানো হবে। লোকালসার্কল গত কয়েক সপ্তাহে দেশের ৩২৮টি জেলার ৫৭ হাজারের বেশি গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে এই সমীক্ষা করেছে। তাতে ২৮% জানিয়েছেন, তাঁদের সিলিন্ডার নিয়ে কোনও সমস্যায় পড়তে হয়নি। তবে বিকল্প পদ্ধতি না খুঁজলে দুর্ভোগ বাড়বে।
এ দিকে, শনিবার পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের সচিব নীরজ মিত্তল দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের চিঠি দিয়ে সোমবার থেকে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ আরও ২০% বাড়ানোর কথা বলেছেন। জানিয়েছেন, এর আগে রাজ্যগুলি চাহিদার ২০% পেত। পরে পাইপবাহিত গ্যাস পরিষেবার পরিকাঠামো তৈরি করলে ১০% পর্যন্ত আরও বৃদ্ধির কথা বলা হয়ে। এ বার আরও ২০% বাড়ছে। অর্থাৎ মোট চাহিদার ৫০% পাবে প্রতিটি রাজ্য। এই বাণিজ্যিক সিলিন্ডার মূলত, হোটেল-রেস্তরাঁ, ডেয়ারি, ক্যান্টিনে দেওয়া হবে, জানান তিনি। তবে প্রত্যেককে তেল সংস্থাগুলির কাছে নাম নথিভুক্ত করে যেতে হবে।
নীরজের বার্তা, সমস্ত শিল্প ক্ষেত্রকে পিএনজি নেওয়ার জন্য আবেদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেটা হলে, তারা মোট চাহিদার ৫০% সিলিন্ডার মিলবে। মন্ত্রকের অন্য এক সূত্রের দাবি, আপাতত বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য হলেও শীঘ্রই গৃহস্থদেরও পাইপবাহিত গ্যাস নিয়ে একই নির্দেশ দেওয়া হবে। এলপিজির ব্যবহার কমিয়ে এলএনজি-র ব্যবহার বাড়াতে চায় কেন্দ্র। তাতে ভবিষ্যতে সমস্যা কমবে। সেই সূত্রেরই দাবি, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে গৃহস্থালির সিলিন্ডারে ১৪.২ কেজির জায়গায় দাম কমিয়ে ৭-১০ কেজি গ্যাস দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।