—প্রতীকী চিত্র।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ গড়াল পঞ্চম সপ্তাহে। আর বাড়তে থাকা সেই উত্তেজনা চলতি অর্থবর্ষের শেষ লেনদেনের দিনে অনেকটা টেনে নামাল শেয়ার বাজারকে। সেনসেক্স সোমবার ১৬৩৫.৬৭ (২.২২%) হারিয়ে থিতু হল ৭১,৯৪৭.৫৫ অঙ্কে। টানা দু’দিনে পতন ৩৩২৬ পয়েন্ট (৪.৪২%)। লগ্নিকারীদের শেয়ার সম্পদ কমেছে ১৮.৬০ লক্ষ কোটি টাকা। এ দিন নিফ্টি-ও ৪৮৮.২০ (২.১৪%) ধাক্কা খেয়ে ২২,৩৩১.৪০-এ এসে থেমেছে। আজ মহাবীর জয়ন্তী উপলক্ষে বাজার বন্ধ। কাল নতুন অর্থবর্ষের (২০২৬-২৭) প্রথম লেনদেন। নতুন বছরে বাজারের মুখ কোন দিকে থাকে, সেটাই প্রশ্ন লগ্নিকারীদের।
ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাক্তন ডিরেক্টর বিনয় আগরওয়াল বলেন, ‘‘বাজারে অস্থিরতা সূচক (ভোলাটিলিটি ইনডেক্স বা ভিক্স) ২৮-এ উঠেছে। হওয়া উচিত ১২-১৫। এটা লগ্নিকারীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে। দু’দিনেই মুছেছে তাঁদের ১৮ লক্ষ কোটি টাকার শেয়ার সম্পদ।’’ তাঁর দাবি, ইরান যুদ্ধ গড়াল পঞ্চম সপ্তাহে। কিন্তু তার তীব্রতা কমার বদলে বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়ে এক দিকে ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিয়েছে হুথি জঙ্গি গোষ্ঠী। অন্য দিকে আমেরিকা আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াতে বাড়তি সেনাবাহিনী পাঠাচ্ছে। ফলে বিশ্ব জুড়েই বিনিয়োগের পরিবেশও অনিশ্চিত এবং অস্থির।
বিশেষজ্ঞেরা সকলেই বলছেন, ‘‘যুদ্ধ থামার লক্ষণ নেই। ইতিমধ্যেই হওয়া ক্ষয়-ক্ষতি পূরণ হতেই দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। যার বিরূপ প্রভাব পড়বে ভারত-সহ গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে। তার উপর নাগাড়ে ভারতে শেয়ার বিক্রি করছে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলি। এ মাসে তা ১ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমল পারেখের প্রশ্ন, ‘‘বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেল ব্যারেল পিছু প্রায় ১১৪ ডলার। ফলে সেই তেলের অন্যতম বৃহৎ আমদানিকারী ভারতের মনে শান্তি থাকে কী করে? বিশেষত টাকা যেহেতু তলানিতে।’’ তাঁর সতর্কবার্তা, এখন দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ হওয়া জরুরি। না হলে অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্র উল্টো দিকে হাঁটতে শুরু করবে। মূল্যবৃদ্ধি চড়বে, আর্থিক বৃদ্ধি শ্লথ হবে, ঘাটতি বাড়বে, কমবে শিল্প সংস্থার আয়-মুনাফা।