— প্রতীকী চিত্র।
সরকারি শিবিরের দাবি, হোটেল-রেস্তরাঁয় ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের দাম প্রায় হাজার টাকার কাছাকাছি বাড়িয়ে আসলে গৃহস্থকে রক্ষা করা হয়েছে। বাড়িতে রান্নার গ্যাস, পেট্রল, ডিজ়েলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় স্বস্তি পাবেন তাঁরা। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, এতেও বিপাকে পড়বেন সাধারণ মানুষই। কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ৯৯৪ টাকা বেড়ে ৩২০২ টাকা হয়েছে। এই খরচ বইতে না পেরে বহু ছোট খাবারের দোকান বন্ধ হবে। সর্বত্র খাবারের দামও বাড়বে। তাতে চাপে পড়বেন বেশি আমজনতা। যে সাধারণ রোজগেরে মধ্যবিত্ত কিংবা স্বল্পবিত্তরা কাজের প্রয়োজনে রাস্তার ছোটখাটো দোকানে বা রেস্তরাঁয় খেতে বাধ্য হন, তাঁরা ভুগবেন বেশি। খরচলাফিয়ে বাড়বে।
তার উপর শুক্রবারও সরকারি সূত্রের বার্তা, অচিরেই বাড়তে পারে পেট্রল-ডিজ়েলের দামও। হয়তো এ মাসেই। ওই সূত্রের দাবি, বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দর যে ভাবে চড়েছে, তাতে দেশে পেট্রল-ডিজ়েল বিক্রিতে লোকসানে ডুবছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। কারণ, চার বছর ধরে ওই দাম অপরিবর্তিত। ইঙ্গিত রয়েছে গৃহস্থালির সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধিরও। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এতটা বাড়িয়ে সম্ভবত ক্ষতি আর বইতে না পারা এবং বাকি জ্বালানিগুলির দাম দ্রুত বৃদ্ধির ইঙ্গিতও দেওয়া হল।
বিরোধীরা প্রত্যাশিত ভাবেই জ্বালানির দাম নিয়ে বিঁধেছেন মোদী সরকারকে। বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীর বার্তা, ‘‘আমি সতর্ক করেছিলাম— ভোটের পরে মূল্যবৃদ্ধির আঁচ পাওয়া যাবে। আজ বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ৯৯৩ টাকা (দিল্লিতে) বেড়েছে। এক দিনে এটাই সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি। এটাই নির্বাচনের ফল। ফেব্রুয়ারি থেকে বেড়েছে মোট ১৩৮০ টাকা। মাত্র তিন মাসে ৮১% বৃদ্ধি। চায়ের দোকান, ধাবা, হোটেল, বেকারি, মিষ্টির দোকান— প্রত্যেকটি রান্নাঘর চাপে। এর প্রভাব আপনার পাতেও পড়বে। প্রথম আঘাতটা ছিল গ্যাসের ওপর, পরেরটা হবে পেট্রল ও ডিজ়েলে।’’ কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপালের মন্তব্য, ‘‘নির্বাচনী পর্ব শেষ হতে না হতেই মোদী সরকার এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়াতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেনি। এর প্রায় ১০০০ টাকা বৃদ্ধি কোটি-কোটি ভারতীয়কে প্রভাবিত করবে।...কোটি-কোটি ক্ষুদ্র খাবার বিক্রেতাকে মূল্যবৃদ্ধির বোঝা বইতে হবে। সাধারণ ভারতীয়দের দুর্ভোগের প্রতি বিজেপির দরদ শুধু নির্বাচনী চমকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ভোট শেষ হলে তাঁদের ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়।’’
সরকারি সূত্র জানিয়েছিল, তেল সংস্থাগুলি পেট্রলের লিটারে ২০ টাকা এবং ডিজ়েলে ১০০ টাকা লোকসান গুনছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কত দিন এই বোঝা টানতে পারবে তারা। সংস্থা সূত্রের খবর, দু’সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বিশ্ব বাজারে তেল এখন ১১৪ ডলারের আশেপাশে।
এ বার দেশীয় উড়ান সংস্থাগুলির জ্বালানি এটিএফের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ৫.৩৩% বেড়েছে আন্তর্জাতিক উড়ানের এটিএফ। কলকাতায় কিলোলিটারে বৃদ্ধি প্রায় ৭৩০০ টাকা। বাল্ক ডিজ়েল অর্থাৎ একলপ্তে বেশি কিনলেও (মূলত বাণিজ্যিক, কলকারখানা, সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি) ১২ টাকা বেশি দিতে হবে। পাঁচ কেজির ছোট সিলিন্ডার প্রায় ২৬২ টাকা বেড়ে কলকাতায় হয়েছে ৮৪৪.০৫ টাকা। আর অটো এলপিজি লিটারে ৬.৪৪ টাকা বেড়ে ৮৯.৪০ টাকা। যুদ্ধের আবহে ১১ মার্চ থেকে চার দফায় তার দাম বাড়ল প্রায় ৩২ টাকা। যা অটোর ভাড়া বাড়িয়ে বিপাকে ফেলবে সেই সাধারণ মানুষকেই।