— প্রতীকী চিত্র।
ভারতের মোট আমদানির প্রায় ১৬% আসে চিন থেকে। তবে উৎপাদন, কল-কারখানা বা বাণিজ্য পরিষেবায় ব্যবহৃত শিল্প পণ্যের ৩০.৮ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করে চিন। বাণিজ্য উপদেষ্টা গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ-এর (জিটিআরআই) সতর্কবার্তা, কোনও একটি দেশের উপরে অত্যধিক নির্ভরতা উদ্বেগজনক। ভারত এবং চিনের মধ্যেকার এই বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা নিয়ে চিন্তা বাড়ছে বেশ কিছু দিন ধরেই।
গত ১৫ বছরে শিল্পের কাজে প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে চিনের অংশীদারি ২১% থেকে বেড়ে ৩০ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। গত অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) দেশের আমদানি বেড়ে ৭৭,৪৯৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৩,১৬৩ কোটি ডলারই ছিল চিন থেকে।
জিটিআরআই-এর বিশ্লেষণ, চিন থেকে ভারতের আমদানির প্রায় ৬৬% বৈদ্যুতিন, যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার এবং জৈব রাসায়নিক ক্ষেত্রে কেন্দ্রীভূত। যার মূল্য ৮২৬০ কোটি ডলার। ভারতের বৈদ্যুতিন-সংক্রান্ত আমদানির ৪৩%, যন্ত্রপাতি ও কম্পিউটার আমদানির ৪০% এবং জৈব রাসায়নিকের ৪৪% চিনের দখলে। গত বছর পড়শি দেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে ১১,২১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা পাঁচ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি। একটি দেশের উপর নির্ভরতা ভূ-রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক ছন্দপতন ঘটাতে পারে। এতে ভারতের নিজস্ব কল-কারখানায় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’-ও ধাক্কা খেতে পারে।
জিটিআরআই-এর এই বার্তা—
জিটিআরআই-র প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, ‘‘চিনা উপকরণের ওপর নির্ভরশীল বলেই দেশ রফতানি বৃদ্ধির চেষ্টা করলেও, তা সীমিত থেকে যায়। ঝুঁকি তৈরি হয়।’’