অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। —ফাইল চিত্র।
টাকার দামকে নীচে ঠেলে দিয়ে একের পর এক মাইলফলক পার করে চলেছে ডলার। সোমবার সেই ঝোঁক বজায় রেখেই আমেরিকার মুদ্রা নজিরবিহীন ভাবে পেরোল ৯৫ টাকা। বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়ল মোদী সরকার। তবে এ দিনই সংসদে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জবাবি বক্তৃতায় বলেন, ‘‘হামারে রুপিয়া ঠিক চল রহি হ্যায় (আমাদের টাকা ঠিক পথে চলেছে)।’’ যার প্রতিবাদে সংসদে হল্লা করেন বিরোধীরা। পরে সমাজমাধ্যমেও কেন্দ্রকে বেঁধেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সুপ্রিয়া শ্রীনতে, দীপেন্দ্র সিংহ হুডারা। উড়ে আসে নেটিজ়েনদের কটাক্ষ। তবে এ দিন লেনদেনের শেষে টাকার দাম কিছুটা উঠেছে। ১৫ পয়সা পড়ে এক ডলার হয়েছে ৯৪.৭০ টাকা।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে টাকা পড়েছে ৯.৮৮%। যা ২০১১-১২ সালের ১২.৪ শতাংশের পরে ১৪ বছরে সর্বাধিক। রাহুলের মন্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের ভবিষ্যৎ ‘সারেন্ডার’ করে দিয়েছেন। স্বাধীন ভারতের ৭৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম বার ডলারের ৯৫ টাকা পার হওয়া নিয়ে কটাক্ষ করে হুডার দাবি, পড়শি বিভিন্ন দেশের মুদ্রার তুলনায় ভারতীয় টাকা দুর্বল। শ্রীনতে বলেন, ‘‘২০১৩-এ যখন এক ডলার ৬২ টাকা ছিল, তখন নির্মলা বলেছিলেন এটা বিরাট আশঙ্কাজনক। পড়তি টাকায় প্রতিফলিত হচ্ছে ভারতীয় অর্থনীতির পরিস্থিতি। ২০২৬-এ যখন ডলার ৯৫.৫৬ টাকা, তখন তাঁর দাবি, টাকা একদম ঠিক আছে। এ ভাবেই তার এগোনো উচিত। ঔদ্ধত্য, অজ্ঞতা এবং ভণ্ডামির বিষাক্ত মিশ্রণ।’’
পটনা আইআইটি-র অর্থনীতির অধ্যাপক রাজেন্দ্র পরামানিকের বক্তব্য, ‘‘অদূর ভবিষ্যতে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ শেষ হওয়ার লক্ষণ না থাকাই ডলারের ৯৫ ছুঁয়ে আসার মূল কারণ।’’ আইসিএআই-এর পূর্বাঞ্চলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনির্বাণ দত্তের মতে, ‘‘বিদেশি লগ্নিকারীদের টানা শেয়ার বিক্রি এবং বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের চড়া দাম টাকায় ধাক্কা দিচ্ছে।’’ দু’জনেরই ধারণা এ বার রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ককে হস্তক্ষেপ করতে হবে।