—প্রতীকী চিত্র।
হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের (হ্যাল) শেয়ারে লগ্নিকারীদের পোয়া বারো। অবশেষে ২০২৫-’২৬ আর্থিক বছরের চূড়ান্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করল যুদ্ধবিমান নির্মাণকারী বেঙ্গালুরুর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা। এক্সচেঞ্জে দাখিল করা নথিতে তারা জানিয়েছে, স্টকপ্রতি বিনিয়োগকারীদের ১০ টাকা করে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আসন্ন বার্ষিক সাধারণ সভায় (অ্যানুয়াল জেনারেল মিটিং বা এজিএম) মিলবে চূড়ান্ত অনুমোদন।
ইতিমধ্যেই লভ্যাংশের ‘রেকর্ডিং ডেট’ ঘোষণা করেছে হ্যাল। সেটা হল ১৪ অগস্ট। অর্থাৎ, ওই তারিখ পর্যন্ত যাঁদের কাছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাটির শেয়ার থাকবে, তাঁরা পাবেন স্টকপ্রতি বাড়তি ১০ টাকা। বার্ষিক সাধারণ সভায় সবুজ সঙ্কেত মেলার ৩০ দিনের মধ্যে তা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে তাঁদের।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সোমবার, ২৯ জুন লভ্যাংশ ঘোষণার পর নেমে যায় হ্যালের স্টকের দর। ওই দিন এতে ১.১৬ শতাংশের পতন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ফলে দিনশেষে ৪,৩১৮ টাকায় দৌড় থামায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির শেয়ার। দু’দিনের মাথায় সূচক ফের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় লগ্নিকারীদের মুখের হাসি চওড়া হয়েছে।
বুধবার, ১ জুলাই, বাজার খোলার সময় হ্যালের স্টকের দাম ছিল ৪,৩৮৭.৯০ টাকা। এ দিন ৪৫.৪০ টাকা বেড়েছে এর দর, যেটা ১.০৪ শতাংশ। এর জেরে ৪,৪২৬.৬০ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে হ্যালের শেয়ার। দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪,৪৬৪ টাকায় লেনদেন হয়েছে এই স্টক। এ ছাড়া সর্বনিম্ন ৪,৩৮২ টাকায় সংশ্লিষ্ট শেয়ারটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছে।
এ দেশের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির মধ্যে লগ্নিকারীদের বরাবরই মুনাফা দিয়েছে হ্যাল। গত পাঁচ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত যুদ্ধবিমান নির্মাণকারী সংস্থাটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ১.৩৬ শতাংশ। এ ছাড়া শেষ এক মাসে প্রায় ১৭৩ টাকা লাভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। আর পাঁচ বছরে ৩,৮৯৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে হ্যালের সূচক। শতাংশের নিরিখে সেটা ৭২৯-এর সামান্য বেশি।
লভ্যাংশ ঘোষণার পাশাপাশি ২০২৬-’২৭ আর্থিক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাবের জন্য মূর্তি অ্যান্ড কোং এলএলপি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করেছে বেঙ্গালুরুর প্রতিরক্ষা সংস্থা। সম্প্রতি, কেন্দ্রের থেকে ১৪তম মহারত্ন সংস্থার স্বীকৃতি পেয়েছে হ্যাল। ফলে আগামী দিনে এর শেয়ারের দর আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ারবাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকিসাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)