—প্রতীকী চিত্র।
এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের আংশিক সময়ের চেয়ারম্যান অতনু চক্রবর্তী নীতিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করার দিন দুয়েকের মাথায় তাদের দুবাই শাখায় কর্মরত তিন উচ্চপদস্থ আধিকারিককে বরখাস্ত করলেন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। সংবাদ সংস্থার সূত্র এই খবর দিয়ে জানিয়েছে, তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রাহককে ভুল বুঝিয়ে বন্ড বিক্রির ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। এই অভিযোগেই দুবাইয়ে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের ওই শাখা ‘দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল সেন্টার’ (ডিআইএফসি)-এর উপরে নতুন গ্রাহক যুক্ত করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বসায় সেখানকার নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ‘ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস অথরিটি’।
অতুন তাঁর পদত্যাগপত্রে জানিয়েছিলেন, ব্যাঙ্কের কিছু ঘটনাকে তিনি নৈতিক ভাবে মেনে নিতে পারছেন না। তাই ইস্তফা দিচ্ছেন। যদিও কোনও ঘটনার উল্লেখ করেননি তিনি। তবে তাঁর পদত্যাগের পরেই দুবাইয়ের ঘটনাটি সামনে আসায় অতনুর সরে যাওয়ার অন্যতম কারণ এটিই ছিল কি না, প্রশ্ন উঠেছে।
সংবাদ সংস্থা জানাচ্ছে, দুবাই শাখায় কর্মী বরখাস্ত করা নিয়ে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের বিবৃতিতে দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ডিআইএফসি শাখায় গ্রাহক নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। তার পূর্ণাঙ্গ এবং বাস্তবসম্মত পর্যালোচনার পরে ব্যাঙ্কের নীতি মেনে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ করা হয়েছে। বদল করা হয়েছে কর্মীও।
সংবাদ সংস্থার সূত্রের অবশ্য দাবি, ডিআইএফসি থেকে কিছু গ্রাহককে ক্রেডিট সুইস-এর ‘অ্যাডিশনাল টিয়ার-১’ বন্ড বিক্রি করা হয়েছিল। সেটিই ভুল বুঝিয়ে বিক্রির করা অভিযোগ তুলেছে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, ব্যাঙ্কগুলি আয় বাড়াতে অনেক সময় অন্য সংস্থার বন্ড, বিমা বা ফান্ড প্রকল্প বিক্রি করে। ডিআইএফসি-ও সেই পথেই কিছু গ্রাহককে ক্রেডিট সুইসের ‘অ্যাডিশনাল টিয়ার-১’ বন্ড বিক্রি করেছিল। ক্রেডিট সুইস সুইৎজ়ারল্যান্ডের অন্যতম বৃহৎ ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক এবং আর্থিক পরিষেবা সংস্থা। কিন্তু আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়ায় ২০২৩-এ সেটিকে অধিগ্রহণ করে সিঙ্গাপুরের ডিবিএস ব্যাঙ্ক। অন্য দিকে, ‘অ্যাডিশনাল টিয়ার-১ বন্ডে’ সুদের হার সাধারণ বন্ডের থেকে অনেক বেশি। তবে অনেক বেশি তার ঝুঁকিও। সাধারণত সংস্থা গুটিয়ে নেওয়া হলে, তার শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ মেটানোর আগে সংস্থাটির বন্ডের ক্রেতাদের মেটাতে হয়। কিন্তু ‘অ্যাডিশনাল টিয়ার-১’ বন্ডের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতিতে বন্ডের ক্রেতাদের প্রাপ্য না মিটিয়েই সেটিকে শেয়ারে রূপান্তরিত করতে পারে সংস্থা। বিশেষজ্ঞদের বার্তা, গ্রাহককে এই ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক না করে আর্থিক পণ্য বিক্রি অনৈতিক এবং অন্যায়।