India Share Market

সূচক পড়ল ২৪৯৭, উধাও ১২.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা

পেট্রল-ডিজ়েলের দাম, মূল্যবৃদ্ধির হার, কর্পোরেট সংস্থাগুলির লাভ নিয়ে চিন্তাও ধাক্কা দেয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ০৫:৩৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

পশ্চিম এশিয়ার অশান্তি বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দামকে আরও উপরে ঠেলে তুলতেই, বৃহস্পতিবার ভারতে নামতে শুরু করে শেয়ার সূচক। সেনসেক্স ২৪৯৬.৮৯ (৩.২৬%) পড়ে দাঁড়ায় ৭৪,২০৭.২৪ অঙ্কে। প্রায় এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। এ দিন এক সময় অবশ্য ৭৩ হাজারের ঘরে নেমে গিয়েছিল। ২০২৪-এর জুনের পরে এক দিনে তার এত বড় পতনও এই প্রথম। যার জেরে হারিয়ে গিয়েছে লগ্নিকারীদের ১২.৮৭ লক্ষ কোটি টাকার শেয়ার সম্পদ। নিফ্‌টি ৭৭৫.৬৫ পয়েন্ট খুইয়ে নেমে এসেছে ২৩,০০২.১৫-এ।

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এ দিন বাজারের একলপ্তে এত বেশি চোট খাওয়ার কারণ একাধিক—

  • ইরান কাতারে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) উৎপাদন কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করায় বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম বিপুল বেড়ে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেল ওঠে ১১৪ ডলারে। পরে ইরানের জ্বালানি ক্ষেত্রেও আক্রমণের হুমকি দেয় আমেরিকা। দাম আরও বেড়ে হয় ১১৯ ডলার।
  • মাথা তোলে ভারতে জ্বালানি আমদানি খরচ। তেল বিপণন সংস্থাগুলির লোকসানের আশঙ্কায় তাদের (আইওসি, বিপিসিএল, এইচপিসিএল) শেয়ার বিক্রি করতে নামেন লগ্নিকারীরা। ধস নামে তেল সংস্থাগুলির শেয়ার দরে।
  • পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি বিশ্ব জুড়ে বহু দেশের শেয়ার বাজারকেই দুর্বল করে। ভারতে আছড়ে পড়ে তার প্রভাব।
  • পেট্রল-ডিজ়েলের দাম, মূল্যবৃদ্ধির হার, কর্পোরেট সংস্থাগুলির লাভ নিয়ে চিন্তাও ধাক্কা দেয়।
  • জ্বালানির খরচ আরও চড়ার আশঙ্কায় ইন্ডিগোর শেয়ার দর৩ শতাংশের বেশি পড়ে।
  • এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান (আংশিক সময়ের) অতনু চক্রবর্তী অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দেওয়ায় ব্যাঙ্কটির শেয়ার দর৫ শতাংশের বেশি নেমে প্রায় ৮০০ টাকা হয়। হোঁচট খায় অন্যান্য ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং পরিকাঠামো সংস্থার শেয়ারও।

বিশেষজ্ঞ বিনয় আগরওয়াল বলেন, ‘‘ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরেই শেয়ার সূচকের এই অবস্থা। বাজারের এখন সব থেকে ভয় তেল ক্ষেত্র নিয়ে। আমেরিকাকে জব্দ করার জন্য ইরান তেলের ঘাঁটি নষ্ট করার পক্ষে। আবার আমেরিকাও তাদের ভাতে মারার হুমকি দিচ্ছে। মানে তেল-গ্যাসে আঘাত করে অর্থনীতিকে বিকল করা। এ সবের জেরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হওয়ার আশঙ্কা। সেখানকার অন্য দেশগুলি এ বার ইরানের বিরুদ্ধে যেতে পারে। এতে যুদ্ধ আরও জটিল হবে। যুদ্ধের গতিপ্রকৃতির উপরেই বাজারের পথ নির্ভর করছে।’’

আর এক বিশেষজ্ঞ কমল পারেখ বলেন, ‘‘যুদ্ধের জেরে বাজারের টালমাটাল অবস্থা। বৈদেশিক বাণিজ্যে ক্ষতি হওয়ায় সূচক আরও নামতে পারে। পড়তি বাজারে অনেকে লগ্নি করেন বটে। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক হয়ে এগোনোই ভাল।’’

আরও পড়ুন