— প্রতীকী চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গের ভোটে বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন নিশ্চিত হতেই নতুন আশায় বুক বাঁধার বার্তা দিল শিল্প মহল। আশা প্রকাশ করে জানাল, কেন্দ্র এবং রাজ্যে একই দলের সরকার থাকায় এ বার বাংলা ঘুরে দাঁড়াবে। অন্ধকার পেরিয়ে শিল্পে সূর্যোদয়ের দিন গুনছে তারা। দ্রুত গতিতে এগোবে উন্নয়নের রথ।
সোমবার দুপুরে ভোটের লড়াইয়ে যখন এ রাজ্যে বিজেপির পায়ের তলার মাটি ক্রমশ শক্ত হচ্ছে, তখন সমাজমাধ্যমে শিল্পপতি হর্ষ গোয়েন্কার একটি পোস্ট সকলের নজর কাড়ে। তিনি লিখেছিলেন, ‘‘নির্বাচনের ফলাফলে বাংলার ব্যবসায়ী মহল আনন্দিত। রাজ্যের উন্নয়ন আবার শিল্প মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসবে। এর ফলে এখানে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ যেমন বাড়বে, তেমনই শক্তিশালী হবে রাজ্য। বিজেপির পক্ষে এই বিপুল জন রায় বাংলার অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে।’’ হর্ষের ভাই, শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েন্কার মতে, স্থায়ী সরকার রাজ্যের শিল্পে লগ্নি টানতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে।
একই সঙ্গে রাজ্যে শিল্পোন্নয়নের স্বার্থে একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরেছে শিল্প এবং বাণিজ্য মহলের একাংশ। যেগুলিকে পরোক্ষে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সমালোচনা বলেই ব্যাখ্যা করছেন বিশ্লেষকেরা। যেমন সংবাদমাধ্যমকে সঞ্জীব বলেন, ‘‘নতুন সরকারের উচিত এই রাজ্যের শিল্পে লগ্নি ফিরিয়ে আনতে লগ্নিকারীদের মনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা। শিল্পের নীতি নিয়ে স্বচ্ছতা, তা ঘন ঘন বদল করার মতো সিদ্ধান্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যা লগ্নিকারীরা ভাল ভাবে নেন না।’’ শিল্পের কর্মকাণ্ডে গতি আনার লক্ষ্যে শিল্প নীতির পাশাপাশি স্বচ্ছ জমি নীতি, আর্থিক সহায়তা এবং পরিকাঠামোয় গুরুত্ব দাবি করেছে বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বার। শহরের আর এক শিল্পকর্তা হর্ষ নেওটিয়া মনে করেন, স্থায়ী সরকারের হাত ধরে রাজ্যে লগ্নির জোয়ার আসবে। কেন্দ্র ও রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের কথা উল্লেখ করে তাঁর মন্তব্য, ‘‘এতে বঙ্গের গুরুত্ব বাড়বে। ফলে উন্নয়নের গতিও তরান্বিত হবে।’’
বণিকসভা বেঙ্গল চেম্বার রাজ্যের এই পালাবদলকে ‘বিকশিত বাংলা’র সূর্যোদয় আখ্যা দিয়েছে। আশা, রাজ্যের মেধাকে এখানেই থাকার সুযোগ দিয়ে নতুন সরকার লগ্নিকারীদের আস্থা ফেরাবে। শিল্পবান্ধব রাজ্য হিসেবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। নিশ্চিত করবে আর্থিক উন্নয়ন। আর এক বণিকসভা ভারত চেম্বারের সভাপতি নরেশ পাচিসিয়া মনে করেন, এ বার রাজ্যে বড় অঙ্কের লগ্নি আসবে। শিল্পপতি সঞ্জয় বুধিয়া সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজsর আশ্বাস দিয়েছেন।
ছোট শিল্পের সংগঠন ফসমির সভাপতি বিশ্বনাথ ভট্টাচার্যের আর্জি, পশ্চিমবঙ্গে স্বচ্ছ নীতি জরুরি তাঁদের জন্যও। সেই সঙ্গে বিশ্ব বাজারে পণ্য বিক্রির জন্য বিশেষ সহায়তা। পূর্তি রিয়েলটির এমডি মহেশ আগরওয়ালের আশা, লগ্নিবান্ধব ও শিল্পবান্ধব প্রশাসন। বন্ধন গোষ্ঠীর প্রধান চন্দ্রশেখর ঘোষের বার্তা, ‘‘বাংলায় নতুন দিনের সূচনা হল। আশা করব, রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে উদ্যোগী হবে নতুন সরকার।’’