রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর কর্ণধার মুকেশ অম্বানী। ফাইল চিত্র।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্ষেত্রে ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ গুগ্লের সিইও সুন্দর পিচাই থেকে ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান। সঙ্গে তাঁরা জুড়েছেন এ দেশে লগ্নির কিছু ঘোষণাও। তবে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে এআই শীর্ষ সম্মেলনের মঞ্চ থেকে ফের তাক লাগিয়ে দিলেন রিলায়্যান্স গোষ্ঠীর কর্ণধার মুকেশ অম্বানী। জানালেন, আগামী সাত বছরে ভারতের এআই ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ কোটি টাকা লগ্নি করবেন তাঁরা। দেশের প্রতিটি কোণায় প্রত্যেক নাগরিক, প্রতিটি ব্যবসা, প্রতিটি সরকারি পরিষেবাকে এই প্রযুক্তি ভিত্তিক করে তোলাই হবে রিলায়্যান্স জিয়োর মূল লক্ষ্য। মুকেশের দাবি, জিয়ো দেশের ইন্টারনেট পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দিয়েছে ডেটার ব্যবহারকে। এ বার সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার। কম খরচে উৎকৃষ্ট মানের এআই— এটাই রিলায়্যান্সের প্রধান লক্ষ্য।
এর জন্য জিয়ো ভারতে একটি সার্বভৌম কম্পিউটার পরিকাঠামো তৈরি করবে। তার মধ্যে রয়েছে গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ডেটা সেন্টার, অপ্রচলিত শক্তি, একাধিক কম্পিউটার লেয়ার। পাশাপাশি, হিন্দি ও ইংরাজি ছাড়া ২২টি ভাষায় যাতে এআইয়ের সুবিধা পাওয়া যায়, সেই প্রযুক্তিও তৈরি করা হবে, জানিয়েছেন মুকেশ।
এ দিন অবশ্য ভারতে একাধিক দফতর খোলার কথা জানান ওপেন এআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যানও। নয়াদিল্লিতে সংস্থার একমাত্র দফতর রয়েছে এখন। চলতি বছরে বেঙ্গালুরু এবং মুম্বইতে আরও দু’টি খোলা হবে। এর হাত ধরে কর্মসংস্থানের বার্তাও দিয়েছেন তিনি। এআই-এ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারতের উন্নতির প্রশংসা করেন অল্টম্যান। পাশাপাশি এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সকলের স্বাধীন ভাবে মতামত প্রকাশের গুরুত্বকেও তুলে ধরেন তিনি।
গুগ্লের সিইও সুন্দর পিচাই প্রত্যাশা মাফিকই মঞ্চে বিশাখাপত্তনমে তাঁদের এআই ভিত্তিক ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও সমুদ্রের তলা দিয়ে ভারত-আমেরিকার কেব্ল সংযুক্তির কথা বলেছেন। তাঁর মন্তব্য, “যদি এআইয়ের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈষম্য থাকে, তা হলে সমাজেও অসাম্য দেখা দেবে। যা কখনওই কাম্য নয়।” গুগ্ল ভারতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের জীবনকে বদলে দিতে কাজ করছে বলেও জানান পিচাই। এই বিষয়ে কেন্দ্রের সহযোগিতার কথা আলাদা করে উল্লেখ করেন। যদিও এ দিন সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।