— প্রতীকী চিত্র।
অশোধিত তেলের চড়া দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলির লাগাতার শেয়ার বিক্রির জেরে আরও পড়ল টাকা। বুধবার এক ডলার বেড়েছে ২০ পয়সা। থেমেছে ৯৪.৮৮ টাকায়। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, ডলারের সর্বোচ্চ দাম এখনও পর্যন্ত ৯৪.৮৫ টাকা ছিল। তবে এখন, ভারতীয় মুদ্রা আরও নীচে নেমে রেকর্ড তলানি ছুঁল।
সেনসেক্স অবশ্য এ দিন ৬০৯.৪৫ পয়েন্ট (০.৭৯%) উঠে ৭৭,৪৯৬.৩৬ অঙ্কে থিতু হয়েছে। লেনদেন চলাকালীন ১০৯৫.৬ (১.৪২%) লাফ দিয়ে ৭৭,৯৮২.৫১ হয়েছিল। নিফ্টি ১৮১.৯৫ (০.৭৬%) এগিয়ে থেমেছে ২৪,১৭৭.৬৫-তে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলার পেরিয়েছে। যা ভারতের আমদানি খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়েছে। বিদেশি লগ্নিকারীরা তাই ভারতে শেয়ার বিক্রি বহাল রেখেছে। যা ডলারের চাহিদা বাড়াচ্ছে। এটা টাকা দুর্বল হওয়ার অন্যতম কারণ। এ ছাড়া, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, ফলে তারা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারেরদিকে ঝুঁকছেন।
আইআইটি পটনার অর্থনীতির অধ্যাপক রাজেন্দ্র পরামানিক বলেন, ‘‘ডলার ফের ৯৫ টাকার দিকে ছুটছে। যুদ্ধের অনিশ্চয়তা এবং ভারতের বাজার থেকে বিদেশি পুঁজির বেরিয়ে যাওয়া তাকে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ১০০ টাকাতেও তুলে দিতে পারে। শিল্প উৎপাদন কমায় প্রমাণিত ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কট দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।’’ তবে পড়তি বাজারে লগ্নিকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনার হিড়িক দেখা দিয়েছে, দাবি বাজার বিশেষজ্ঞ আশিস নন্দী-র। তাঁর মতে, ‘‘লগ্নিকারীদের সতর্ক হয়ে বিনিয়োগ করা উচিত।’’