— প্রতীকী চিত্র।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে এক মাসের মধ্যে দেশে চার দফায় বেড়েছে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম। দেশবাসীকে বারবার পরিস্থিতি বিবেচনা করে জ্বালানি ব্যবহারে রাশ টানার পরামর্শ দিচ্ছে কেন্দ্র। এর প্রভাব যে পেট্রল-ডিজ়েল চালিত চার চাকার ব্যক্তিগত গাড়ি বিক্রিতে পড়েছে, সেটাও স্পষ্ট। গাড়ি বিক্রেতাদের সংগঠন ফাডার তথ্য বলছে, সেই সুযোগেই গত চার মাসে বিক্রি বাড়িয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি)। জানুয়ারিতে দেশে বিক্রি হওয়া ব্যক্তিগত গাড়ির ৩.৩% ছিল ইভি। সেটাই মে মাসে বেড়ে এই প্রথম ছাড়িয়েছে ৬ শতাংশের গণ্ডি (৬.৬%)। প্রায় ২৭,০০০টি। জানুয়ারিতে সংখ্যাটা ছিল ১৭ হাজারের কিছু বেশি। ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিলে বৈদ্যুতিকের ভাগ ছিল যথাক্রমে ৩.৫%, ৫.১% এবং ৫.৮%। অর্থাৎ ক্রমশ যে চাহিদা বাড়ছিল তা স্পষ্ট।
শহরের এক টাটা মোটরসের বিক্রেতা জানান, তিন-চার মাস ধরে যা গাড়ি বিক্রি হচ্ছে, তার বেশির ভাগটাই বৈদ্যুতিক। দাম খানিকটা বেশি হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতারা ইভি-ই বেশি পছন্দ করছেন। ফাডার সর্বভারতীয় সভাপতি সিএস বিজ্ঞেশ্বরের মতে, ইভি ব্যবহার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা কাজে এসেছে। মে মাসে রেকর্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে ভারতে। চার চাকা-সহ সব রকম ইভি-রই চাহিদা দেখা গিয়েছে। সব মিলিয়ে এই প্রথম বৈদ্যুতিকের বিক্রি পেরিয়েছে ১১ শতাংশের গণ্ডি। ফাডার পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা রোহিত চৌধুরী জানান, শেষ দেড়-দু’মাসে ইভি বিক্রি দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।
বিজ্ঞেশ্বর জানান, মার্চ থেকে পশ্চিম এশিয়ার সমস্যায় পেট্রল-ডিজ়েল গাড়ির বিক্রি ধাক্কা খেয়েছে। সেই জায়গাটা নিয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি। তাঁর আশা, দু’তিন মাসে এই প্রবণতা আরও বাড়বে। বর্তমানে বৈদ্যুতিকের বাজারের বেশিরভাগটাই নিয়ন্ত্রণ করে টাটা মোটরস এবং মহিন্দ্রা। তাদের দখলে রয়েছে প্রায় ৬৫% অংশীদারি। মার্সিডিজ বেঞ্জ ইন্ডিয়ার সিইও সন্তোষ আইয়ার জানান, বিলাসবহুলেও বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বাড়ছে। এ দেশে তাদের বিক্রির ২০% এই গাড়ি। মার্চ থেকে সেগুলির চাহিদা ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।