(বাঁ দিকে) পীযূষ গয়ালে এবং হাওয়ার্ড লুটনিক (ডান দিকে)। ছবি: পিটিআই।
মাস কয়েক আগের কথা। ভারতকে তখন তুলোধোনা করছেন তিনি। রাশিয়া থেকে তেল কেনা বাড়ানো নিয়ে হুমকি দিয়ে বলছেন, বেশি দিন ওয়াশিংটনকে অগ্রাহ্য করে রুশ আমদানি বহাল রাখতে পারবে না নয়াদিল্লি। আমেরিকার চাপের মুখে দু’মাসের মধ্যে ‘দুঃখিত’ বলে ক্ষমা চেয়ে বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে। এই হুঙ্কার দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকই বৃহস্পতিবার চুপিসারে ভারত সফর করে গেলেন। এ দেশে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সেরিগো গোরকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠক করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে। লুটনিকের ভারতে আসা থেকে গয়ালের সঙ্গে বৈঠক, পুরো বিষয়টিই সারা হয়েছে গোপনে। গয়াল বৈঠকটির ছবি দিয়ে এক্স-এ জানানোর পরে বিষয়টি সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, সময় বিষম বস্তু। কয়েক মাসের তফাতে পাশার দান উল্টে গিয়েছে। চড়া শুল্ককে অস্ত্র করেই নিজেদের সুবিধাজনক শর্তে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই শুল্ক বেআইনি তকমা পেয়ে খারিজ হতেই সুর নরম। চুক্তি সারতে মরিয়া হয়েই হয়তো লুটনিকের ভারত সফর।
বৈঠকের কথাবার্তা বিশদে জানানো হয়নি। গয়াল শুধু বলেছেন, দু’দেশের আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে সফল আলোচনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, লুটনিকের আচমকা এবং গোপন সফরের সময়কাল তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতের সঙ্গে চুক্তির কথা ঘোষণা করে ট্রাম্প এ দেশের উপর শুল্কের যে হার ৫০% থেকে ১৮ শতাংশে নামানোর কথা জানিয়েছিলেন, তারই আর অস্তিত্ব নেই। আর শুল্কের খাঁড়া সামনে না থাকায় চুক্তির শর্ত নিয়ে ফের দরাদরির সুযোগও খুলেছে নয়াদিল্লির সামনে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় বাণিজ্য প্রতিনিধিদের আমেরিকা সফর স্থগিত হয়েছে। তাতেই প্রমাদ গুনতে শুরু করেছেন ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীরা। আঁচ করছেন, দ্রুত না এগোলে অচিরেই বদলে যেতে পারে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে গোটা ছবিটাই।