—প্রতীকী চিত্র।
ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার জেরে অস্থির শেয়ার বাজার। সোমবার ৩২৪ পয়েন্ট নামার পরে মঙ্গলবার আরও ১০৬৫.৭১ পিছিয়ে গেল সেনসেক্স। থামল ৮২,০১০.৫৮ অঙ্কে। লগ্নিকারীদের শেয়ার সম্পদ কমল ৯.৮৬ লক্ষ কোটি টাকা। নিফ্টিও ৩৫৩ নেমে থিতু হয়েছে ২৫,২৩২.৫০-এ।
সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি লগ্নিকারীদের উদ্বিগ্ন করেছিল। আশঙ্কা বাড়ল আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক হামলা এবং গ্রিনল্যান্ডের দখল ঘিরে নেটোর ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলিকে শুল্ক বৃদ্ধির হুমকিতে। ইন্ধন জুগিয়েছে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলির শেয়ার বিক্রি এবং ডলারের সাপেক্ষে টাকার পতনও। শেয়ার পরিসংখ্যানবিদ সিদ্ধার্থ মিত্র জানান, শুধু এ মাসেই ৩২,২৫৩.৫৫ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বিদেশি লগ্নিকারীরা। তবে বড় পতন রুখেছে এই সময়ে দেশীয় আর্থিক সংস্থাগুলির ৪১,৯৭৬.৩০ কোটি টাকা লগ্নি।
বিশেষজ্ঞ আশিস নন্দীর মতে, ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে। শীঘ্রই রায় বেরোবে। তাই অনিশ্চয়তা বেড়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাঁর শুল্ক বৃদ্ধির হুমকিতেও সন্ত্রস্ত লগ্নিকারী। এ দিকে সুদ বৃদ্ধির ইঙ্গিত জাপানে। সাধারণত যেখান থেকে কম সুদে ধার নিয়ে দেশের বাজারে ঢালে একাংশ। সুদ বাড়লে সেই পুঁজি কমতে পারে। তবে এত অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত ভাল জায়গায় দাঁড়িয়ে। বিনয় আগরওয়ালের দাবি, ‘‘তৃতীয় ত্রৈমাসিকে সংস্থাগুলির ফল আসছে ভাল-মন্দ মিশিয়ে। ফলে তা বাজারকে চাঙ্গা করছে না। বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলিও পুঁজি তুলছে।’’ তাঁর বক্তব্য, সামনে বাজেট। অনেকে এখন লগ্নির সিদ্ধান্ত নিতে শেয়ারের লাভ ঘরে তুলে বাজেট ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।