Gas Cylinder Crisis

যুদ্ধের আবহে উৎপাদন যেন ব্যাহত না হয়, গ্যাসের জোগান বজায় রাখার আর্জি চা শিল্পের

দার্জিলিঙের চা কারখানাগুলির বেশির ভাগই দূষণ কমাতে এখন কয়লার বদলে গ্যাস ব্যবহার করে। রাহা জানান, ‘‘দার্জিলিং চা বিশ্ব বিখ্যাত। প্রচুর পরিমাণে বিদেশে রফতানি হয়। তাই এর উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে এই আবেদন জানিয়েছি। সংস্থা ও চা পর্ষদ আশ্বাস দিয়েছে।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ০৭:৩৬

—প্রতীকী চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে বিশ্ব বাজারে গ্যাসের জোগানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং গৃহস্থের হেঁশেলে রান্নার গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ মসৃণ রাখতে তাই আপাতত বাণিজ্যিক এলিপিজি সিলিন্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু কড়াকড়ি চালু করেছে কেন্দ্র। তবে এতে চা উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য ইন্ডিয়ান অয়েল এবং চা পর্ষদের কাছে আবেদন জানাল বড় চা বাগান মালিকদের সংগঠন ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশন (আইটিএ)। আবেদনে সাড়া দিয়ে এলপিজি সরবরাহ বন্ধ করা হবে না বলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল-গ্যাস সংস্থাটি আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইটিএ-র সেক্রেটারি জেনারেল অরিজিৎ রাহা। সম্প্রতি আবশ্যিক ক্ষেত্রগুলিতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এলপিজি জোগানোর যে নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্র তাতেও বলা হয়েছে, অত্যাবশ্যক পণ্য আইন, ১৯৫৫ অনুসারে চা ও তার অনুসারি শিল্প পাবে ৮০%।

দার্জিলিঙের চা কারখানাগুলির বেশির ভাগই দূষণ কমাতে এখন কয়লার বদলে গ্যাস ব্যবহার করে। রাহা জানান, ‘‘দার্জিলিং চা বিশ্ব বিখ্যাত। প্রচুর পরিমাণে বিদেশে রফতানি হয়। তাই এর উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে এই আবেদন জানিয়েছি। সংস্থা ও চা পর্ষদ আশ্বাস দিয়েছে।’’ অবশ্য রাজ্যে দার্জিলিং ছাড়া ডুয়ার্স এবং তরাই অঞ্চলের চা কারখানগুলির ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই বলেই দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের। কারণ, সেগুলিতে চা শুকোনোর (ড্রায়ার) মেশিন চলে কাঠ বা কয়লায়।

অসমের বাগানগুলির দাবি, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে যে সব ক্ষেত্রকে এলপিজি দেওয়ার কথা কেন্দ্র বলেছে, তার মধ্যে তিন নম্বরে রয়েছে চা শিল্প। এতে চিন্তা বেড়েছে। কারণ, গ্যাস ছাড়া তাদের উৎপাদন প্রায় হয় না। দেশের চাহিদার একটা বড় অংশ মেটায় অসম চা। সেখানে উৎপাদন ধাক্কা খেলে বাজারে চা সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কায় সে রাজ্যের চা বাগান মালিকেরা। তাঁদের মতে, এতে বাড়তে পারে চায়ের দামও। ছোট চা বাগানগুলির সংস্থা সিস্টার সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তীর দাবি, এই অবস্থা বেশি দিন চলবে না, ধাক্কা খাবে অসমের বহু চা বাগান। তিনি বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই অসমের বাগানে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। কারখানা বন্ধ হলে মালিকদের সঙ্গে সমস্যায় পড়বেন ছোট চা চাষিরাও। কারণ, চা তৈরির কারখানাগুলির বড় অংশ (বটলিফ কারখানা) ছোট বাগানগুলির থেকে চা কিনে তা প্রক্রিয়াকরণ করে। ওই সব কারখানা বন্ধ হলে তাদের পাশাপাশি, চাষিরাও সমস্যায় পড়বেন।’’

আরও পড়ুন