—প্রতীকী চিত্র।
অক্ষয় তৃতীয়ার মুখে উইপ্রোর শেয়ারে লগ্নিকারীদের জন্য সুখবর। ১৫ হাজার কোটি টাকার স্টক পুনঃক্রয়ের (বাইব্যাক) মাধ্যমে বাজার থেকে ঘরে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। এর জেরে বিনিয়োগকারীদের যে বাম্পার মুনাফা হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। উল্লেখ্য, প্রতি স্টকের দাম ২৫০ টাকা ধার্য করেছে উইপ্রো।
চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ২০২৫-’২৬ আর্থিক বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের (জানুয়ারি-মার্চ) ফলাফল ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। ঠিক তার পরই বাজারে থাকা স্টক পুনঃক্রয়ের অনুমোদন দেয় উইপ্রোর পরিচালন পর্ষদ। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বাইব্যাকের মাধ্যমে কেনা হবে মোট ৬০ কোটি শেয়ার, যেটা বাজারে ঘোরা তাদের মোট স্টকের ৫.৭ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল বাজার বন্ধ হলে দেখা যায় প্রায় ছ’টাকা কমেছে উইপ্রোর শেয়ারের দর। ফলে বর্তমানে সেটা ২০৪.৩০ টাকায় নেমে এসেছে। গত এক মাসে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাটির স্টকে ৬.৭৮ শতাংশের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। যদিও শেষ ছ’মাসে এর দাম পড়েছে ১৫.১৯ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে সংস্থার তরফে পুনঃক্রয়ের দর শেয়ারপিছু ২৫০ টাকা দেওয়ায় লগ্নিকারীদের মুখের হাসি চওড়া হয়েছে। কারণ, এতে ১৯ শতাংশ লাভ করবেন তাঁরা।
তবে উইপ্রোর বিনিয়োগকারীদের সকলেই যে স্টক বাইব্যাকের সুবিধা নিতে পারবেন, এমনটা নয়। এর জন্য একটি দরপত্র জারি করবে সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। ফলে রেকর্ড তারিখ অনুযায়ী যাঁদের কাছে উইপ্রোর শেয়ার আছে, কেবলমাত্র তাঁরাই নির্দিষ্ট অনুপাতে সেগুলি সংস্থার কাছে পুনরায় বিক্রির সুযোগ পাবেন। স্টকের সংখ্যা যত কম হবে, শেয়ারপ্রতি উইপ্রোর আয়ও ততই হ্রাস পাবে, যেটা দীর্ঘ মেয়াদে স্টকের মূল্যবৃদ্ধির সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
উইপ্রোর এই শেয়ার পুনঃক্রয়ের একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। দরপত্রের মাধ্যমে লগ্নিকারীদের কাছে স্টক বিক্রি করতে রাজি কি না, তা জানতে চাইবে ওই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। উত্তর ইতিবাচক হলে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেবে তারা। তবে এর সুবিধা পেতে হলে অবশ্যই রেকর্ড তারিখ অনুযায়ী শেয়ার হাতে থাকতে হবে।
আর্থিক বিশ্লেষকদের দাবি, একাধিক কারণে কোনও সংস্থা স্টক পুনঃক্রয় করে থাকে। সাধারণত দেখা যায়, অতিরিক্ত নগদ অর্থ হাতে চলে এলে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে পরিচালন পর্ষদ। এর জেরে বাজারে থাকা স্টকের পরিমাণ হঠাৎ করেই কমতে শুরু করে। ফলে ভবিষ্যতে শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ারবাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকিসাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)