—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
“দুই দিকের ব্যাপার দু রকম। পূর্ব পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক হানাহানির পিছনে আছে ফ্যাসিস্ট রাজশক্তির প্রেরণা।... কলকাতার ঘটনার দুর্নীতি এসেছে জনসাধারণের কাছ থেকে, এবং সরকারের সৎপ্রচেষ্টা সত্ত্বেও তা বন্ধ হয়নি।” লিখেছিলেন মৈত্রেয়ী দেবী, ‘এত রক্ত কেন’ প্রবন্ধে। সেটা ১৯৬৪ সালের কথা। আর এই ২০২৪-২৫-২৬ সালে দুই বাংলাতেই যখন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি নতুন করে বিপদের মুখোমুখি, মৈত্রেয়ী দেবী সম্পাদিত নবজাতক পত্রিকার প্রবন্ধ সঙ্কলন বাঙালির বিস্মরণপ্রবণ মনকে বুঝিয়ে দিতে পারে, দেশভাগের পরও ভাষা কেমন করে বাঙালিকে এক তলে ধরে রেখেছিল এবং তার সঙ্গে ভাষা-সাহিত্যের সাম্প্রদায়িকতা ও বিভেদস্পৃহার প্রতিরোধ করেছিল। বদরুদ্দিন উমর, আবু আহসান, শহীদুল্লা কায়সার, মহম্মদ শহীদুল্লাহ, মৈত্রেয়ী দেবী, গৌরী আইয়ুবের রচনাগুলি অত্যন্ত জরুরি ও দুর্লভ। পূর্ব পাকিস্তানের রবীন্দ্রনাথ চর্চা নিয়ে আলাদা বিভাগটি প্রয়োজনীয়— বাঙালি অনুভবধারার দিগ্নির্দেশের জন্য। আলাদা করে উল্লেখযোগ্য, সম্পাদকদ্বয়ের ভূমিকাটি। দেশভাগের পরে কোন পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মৈত্রেয়ী দেবীর মতো মানুষেরা দুই বঙ্গের জন্যই এত উৎকণ্ঠিত হয়ে নবজাতক পত্রিকার ভাবনা ভেবেছিলেন, এবং দুই বাংলার বাঙালির সহযোগে সেই উদ্যোগ বহমান ছিল— আজ তা শুধু বিস্মৃত অধ্যায় নয়, এর মূল্য বোঝার শক্তিও যেন ক্রমক্ষীয়মাণ। সম্পাদকের জন্য সঙ্কলনের কাজটি সহজ ছিল না, কেননা পত্রিকার সংখ্যাগুলি সহজলভ্য নয়। অনেক ক্লেশ ও যত্নের ফল এই বইটি বাঙালি সত্তাসন্ধানী পাঠকের কাছে আদরণীয় হয়ে থাকবে। তবে একটি লেখক-পরিচিতির প্রয়োজনবোধ হয়, এই লেখকদের অনেকের সঙ্গেই পরপ্রজন্মের পাঠক ক্রমশ অপরিচিত হয়ে পড়ছেন, পড়বেন।
পূর্ববঙ্গের স্মৃতি সংস্কৃতি রাজনীতি: মৈত্রেয়ী দেবী সম্পাদিত নবজাতক পত্রিকার সংকলন
সম্পা: মৃদুল হক, পুনম মুখোপাধ্যায়
৫৫০.০০ তৃতীয় পরিসর
ইংরেজ আমলের বাংলায় যাঁদের ‘ডাকাত’, ‘দস্যু’ দেগে দেওয়া হত, তাঁদের অনেকেই আসলে ছিলেন সন্ন্যাসী, ফকির। সন্ন্যাসী, ফকির থেকে শাসকের চোখে ডাকাতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া— এই দীর্ঘ যাত্রার ইতিহাস ধরা পড়েছে এ-বইয়ে। প্রসঙ্গ এসেছে দেবী চৌধুরাণী ও ভবানী পাঠকেরও। ইতিহাসবিদ অমলেন্দু দে’র রচনা উদ্ধৃত করে আলোকপাতের চেষ্টা হয়েছে সিরাজের সেনাপতি, অজ্ঞাতবাসী মোহনলালের উপরেও। তবে মূল আকর্ষণ অবশ্যই সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহের ইতিহাস। মোগল আমলের মধ্যভাগ থেকেই তাঁরা স্থায়ী ভাবে বাস করতে শুরু করেন বাংলা ও বিহারে। ফকিরের দল উত্তরবঙ্গ বেছে নিয়েছিলেন, কারণ এখানে তাঁদের বহু দরগা ও তীর্থস্থান ছিল। কিন্তু ইংরেজ শাসন শুরু হওয়ার পর তাঁদের ধর্মাচরণে বাধা পড়ে। বাংলা-বিহারের ইংরেজ শাসকরা তীর্থযাত্রীদের উপরে নানা কর চাপায়। বাদ পড়েননি সন্ন্যাসী-ফকিরের দলও। তাঁরা নিপীড়িত হন দু’দিক থেকেই: তীর্থযাত্রার করের পাশাপাশি, পেশায় কৃষক হওয়ায় সেই ক্ষেত্রেও শোষণের শিকার। এঁরাই এক সময় ইংরেজদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেন, যে বিদ্রোহ ইতিহাসে সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহ নামে পরিচিত। অসমসাহসী বিদ্রোহীরা ইংরেজদের চোখে ডাকাত হলেও বাংলার গরিব, অসহায় মানুষদের কাছে হয়ে উঠেছিলেন দেবতুল্য। বিশেষত কোচবিহারের বিভিন্ন জায়গার নামকরণেও সেই শ্রদ্ধার ভাবটি সুস্পষ্ট।
সন্ন্যাসী ডাকুর ডঙ্কা
দেবব্রত চাকী
২৫০.০০
সোপান
ভারতে পশ্চিমবঙ্গই প্রথম রাজ্য, যেখানে ক্রেতাদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র দফতর গঠিত হয়। ১৯৯৮ সালে। এর পর ২০০১-এ রাজ্যব্যাপী ক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা প্রসারে ‘কনজিউমার অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ফেয়ার বিজ়নেস প্র্যাক্টিসেস’ নামে একটি ডাইরেক্টরেটও গঠিত হয়। এই বইয়ে সেই সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের সঙ্গে, ক্রেতাদের জ্ঞাতব্য নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। দৈনন্দিন প্রয়োজনে উপভোক্তারা অজস্র জিনিস কেনেন ও পরিষেবা ভাড়া নেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, পণ্য বা পরিষেবার গুণগত মান, পরিমাণ, কার্যকারিতা, ব্যবহার-সহ নানা বিষয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট হতে পারেন না। ক্রেতা সুরক্ষা আইন, ২০১৯ অনুযায়ী কে বৈধ ক্রেতা, অর্থাৎ এই আইনের আওতায় প্রতিকার দাবি করার যোগ্য, পণ্য বা পরিষেবার কোন কোন ত্রুটি ও ঘাটতি এবং কী ধরনের অন্যায্য বাণিজ্যপদ্ধতি ওই আইনের আওতায় বিচার্য, ক্ষতিগ্রস্ত উপভোক্তা কী কী প্রতিকার পেতে পারেন, প্রতিকার দাবির পদ্ধতি, বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য গঠিত ত্রিস্তরীয় বিচারব্যবস্থা, বিচারপদ্ধতি, আপিল ইত্যাদি সহজবোধ্য ভাষায় আলোচিত। রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের জেলাস্তরের সমস্ত ক্রেতা আদালত (কমিশন), রাজ্য কমিশন ও সার্কিট বেঞ্চের ভৌগোলিক ও আর্থিক সীমা, ঠিকানা, যোগাযোগ-নম্বর, ঠিকানা, ইমেল-সহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। কেনাকাটায় ঠকে গেলে প্রতিকারে সহায় হবে।
ক্রেতা সুরক্ষা গাইড
জগন্নাথ বাগ
২৫০.০০
এবং মুশায়েরা