আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সঙ্গে সংঘাতের ধাক্কায় বিপর্যস্ত ইরানের অর্থব্যবস্থা। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, লাগাতার বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান; বন্ধ বা আংশিক বন্ধ হয়েছে কলকারখানা, কাজ হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। বিপন্ন আরও অনেকে। দারিদ্রের ঝুঁকিও বাড়ছে। এই সঙ্কটের বীজ প্রোথিত ছিল আগে থেকেই। আর্থিক নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি ও উচ্চ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ছিল অর্থব্যবস্থার উপরে, যুদ্ধ সেই চাপ প্রবলতর করেছে। জোগান-শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে, আমদানি ব্যাহত, আর বহু ক্ষেত্রে ইন্টারনেট-বিচ্ছিন্নতায় থমকে গেছে পরিষেবা ও ডিজিটাল অর্থনীতি। তেল ও ইস্পাতের মতো ভারী শিল্পে আঘাত লাগায় তার ঢেউ ছড়িয়েছে ছোট ও মাঝারি ব্যবসাতেও— কোথাও কারখানা বন্ধ, কোথাও ছাঁটাই। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীরা: তাঁদের কোনও সামাজিক সুরক্ষা নেই। ইন্টারনেট না থাকায় বন্ধ ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, তাতে ঝামেলায় পড়েছেন বিশেষত মহিলারা। সরকার ভর্তুকি ও সহায়তার আশ্বাস দিলেও, পরিস্থিতির গভীরতা সামলাতে তা যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। উলুখাগড়ার প্রাণসংশয় হওয়া যুদ্ধের অনিবার্য পরিণতি। সব দেশে, সব সময়।
বাড়ির দামে ধস
চিনের বাড়ির বাজারে দামের পতন অব্যাহত। মূল্যস্ফীতির হার বাদ দিলে, ২০২১ সালের সর্বোচ্চ থেকে বাড়ির দাম কমেছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ; পৌঁছেছে প্রায় দু’দশক আগের স্তরে। এক ধাক্কায় ধস নামেনি বাজারে, বরং এটি ‘দীর্ঘ সংশোধন’— টানা কয়েক বছর ধরে কমছে নতুন বাড়ি বিক্রি ও বিনিয়োগ, আর তৈরি হয়েও বিক্রি না-হয়ে পড়ে থাকা বাড়ির পরিমাণ বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। এক সময় এই খাতই চিনের অর্থনীতির বড় ভরসা ছিল। বহু পরিবারের সঞ্চয়ের প্রধান ভিত্তি ছিল বাড়ি-ফ্ল্যাট কিনে রাখা। ফলে দামের এই পতন শুধু বাজারের হিসাব বদলাচ্ছে না, সরাসরি প্রভাব ফেলছে গৃহস্থের আর্থিক নিরাপত্তার উপরেও। এক বার বাজারের উপরে আস্থা কমলে তা ফিরতে কত দিন লাগে, তা নিয়ে চিন্তিত চিনা অর্থব্যবস্থা।
যুদ্ধপীড়িত: তেহরানে দেওয়ালচিত্রে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের বিরোধিতা। ছবি: রয়টার্স।
‘ছাদের রং’ বদলাচ্ছে
হিমালয়ের উচ্চভূমির রং ক্রমশ সবুজ হচ্ছে। দু’দশক আগের উপগ্রহচিত্রের সঙ্গে এখনকার ছবি মিলিয়ে দেখে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আগের তুলনায় অনেক বেশি উচ্চতায় জন্মাচ্ছে উদ্ভিদ— কোথাও কোথাও বছরে প্রায় সাত মিটার পর্যন্ত এগিয়েছে এই সীমারেখা। উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরফ কমছে, মাটি উন্মুক্ত হচ্ছে এবং উচ্চতায় উদ্ভিদ জন্মানোর সময়ও দীর্ঘতর হচ্ছে। ফলে এক সময়ের প্রায় অনুর্বর এলাকা ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে উঠছে। তবে পরিবর্তন একরৈখিক নয়— পূর্ব হিমালয়ের কিছু অংশে উল্টো ‘ব্রাউনিং’-এর লক্ষণও মিলেছে, যা ভিন্ন ধরনের উদ্ভিদগত রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়। এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু পাহাড়েই সীমিত না-ও থাকতে পারে; হিমালয় থেকে উৎসারিত নদীগুলির জলপ্রবাহ ও জলধারণ ব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্ব উষ্ণায়নের এই ছবি প্রভাব ফেলতে পারে বৈশ্বিক জল সরবরাহ ও কৃষির উপরেও।
কণ্ঠ ছাড়ো জোরে
এআই-নির্ভর নকলের ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিনিয়ত। তাই নিজের কণ্ঠস্বর ও চেহারার অধিকার নিজের হাতে রাখতে ট্রেডমার্কের আবেদন করলেন টেলর সুইফ্ট। ‘এরাস টুর’ চলাকালীন মঞ্চে তোলা একটি ছবি, এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অ্যালবাম প্রচারের জন্য ব্যবহৃত তাঁর কণ্ঠস্বরে ‘হে, ইট’স টেলর সুইফ্ট’ বাক্যটির অডিয়ো ক্লিপ দিয়ে আবেদন করেছেন ট্রেডমার্কের। সম্প্রতি তাঁর কৃত্রিম মেধা-নির্মিত ছবি ও ভুয়ো বার্তা ব্যবহৃত হয়েছে বহু ক্ষেত্রে, এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারেও। ট্রেডমার্ক নথিভুক্ত হলে শুধু হুবহু নকল নয়, কাছাকাছি মিল থাকা কণ্ঠ বা চেহারার বিরুদ্ধেও আইনি দাবি তোলা সম্ভব হতে পারে। আমিই যে আসল আমি, বুঝব কী ভাবে— এই দার্শনিক প্রশ্ন নিয়েও কি কোনও এক সময় ভাবিয়ে তুলবে এআই?
দাবিদার: টেলর সুইফ্ট। ছবি: রয়টার্স।
শেষ বাঁশির পরে
দিয়েগো মারাদোনার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে বিচার শুরু হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর চিকিৎসায় গাফিলতি ছিল— সেই দায়ে তাঁর চিকিৎসক-দলের কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। ফের প্রশ্ন উঠছে— ঠিকমতো চিকিৎসা পেলে কি বাকি গল্পটা অন্য রকম হতে পারত? তাঁর বর্ণময় জীবনে হরেক বিতর্ক সঙ্গী থেকেছে ফুটবলের রাজপুত্রের। মৃত্যুর ‘ম্যানমার্কিং’ও তাঁকে বিতর্কের কেন্দ্র থেকে সরাতে পারল না।