Climate Change

সম্পাদক সমীপেষু: সচেতন দায়িত্ব

প্রবন্ধকারের সঙ্গে সহমত, মানবতা ও সভ্যতার দিকে তাকিয়ে বর্তমান প্রজন্মকে যথাসাধ্য কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন করতেই হবে। প্রবন্ধকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। এটাও সবার জানা, বিশ্ব পরিবেশনীতি দেশগুলি একযোগে মানতে নারাজ, সহমত দূর অস্ত্।

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ০৬:১৪

‘এর পরে প্রত্যাবর্তন অসম্ভব’ (১-৬) শীর্ষক কল্যাণ রুদ্রের প্রবন্ধ প্রসঙ্গে বলি, বিশ্ব উষ্ণায়নের পরিণতি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও এখন মনে হচ্ছে এটা বিশ্ব পরিবেশনীতি তথা রাজনীতির নিয়তি। বিজ্ঞানমনস্কতায় নিয়তিবাদের স্থান নেই। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এই বিশ্ব প্রকৃতিতে মানুষের জন্ম অনেক পরে। বিশ্ব প্রকৃতির এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯৫ শতাংশ অজানা অন্ধকার। এই শক্তিবাদে বৈজ্ঞানিক নিয়ম ছিল, এখনও আছে, যা ক্রমবিবর্তিত হয়ে চলেছে। মানবজাতির মৃত্যুও হয়তো হবে বিশ্ব প্রকৃতির ধ্বংসের আগে। অর্থাৎ, অনেক কিছুই মানবজাতির হাতে নেই। এই বাস্তবতাই হয়তো একটা বিশ্বাস জোগাচ্ছে, যখন ‘প্রত্যাবর্তন অসম্ভব’, তখন আগামী প্রজন্মের ভাবনা কার্যকর করায় তেমন লাভ নেই।

কিন্তু প্রবন্ধকারের সঙ্গে সহমত, মানবতা ও সভ্যতার দিকে তাকিয়ে বর্তমান প্রজন্মকে যথাসাধ্য কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন করতেই হবে। প্রবন্ধকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। এটাও সবার জানা, বিশ্ব পরিবেশনীতি দেশগুলি একযোগে মানতে নারাজ, সহমত দূর অস্ত্। চেষ্টা চলছে। স্বার্থপর উন্নত দেশ, বিশেষ করে আমেরিকা তাদের মতো করে ভাবছে। অথচ বিশ্ব উষ্ণায়ন বেড়েই চলেছে, যা উন্নত দেশগুলিতেও প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। এ অবস্থায় প্রবন্ধকারের পরামর্শগুলিকে কয়েক ভাগে ভাগ করতে হবে। প্রথমত, কোন কোন কাজ ভারত একাই করতে পারবে এবং যা খুব ব্যয় ও সময়সাপেক্ষ নয়। দ্বিতীয়ত, ভারতীয় উপমহাদেশে অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশ মিলে এই ভাবনায় কী ভাবে যথাসাধ্য ঐক্য আনা যায়। তখন দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ইত্যাদি চুক্তির মাধ্যমে কাজ করা যায়। তৃতীয়ত, কোন কোন কাজ ব্যয়বহুল ও গবেষণাসাপেক্ষ। এগুলি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় কার্যকর করা সম্ভব। আসলে বিশ্বপরিবেশ সচেতনতা আজ প্রায় সব দেশের আছে। কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধানদের রাজনৈতিক চেতনায় তা অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। কিন্তু ছোট ছোট করে স্বল্পমেয়াদে অনেক কিছু সম্ভব। মানবসম্পদের দায়িত্ব বিশ্ব উষ্ণায়ন হ্রাস করা। মানুষকেই সমবেত স্বার্থত্যাগের মাধ্যমে এই পরিবেশ সচেতনতা বাড়িয়ে যেতে হবে। প্রত্যাবর্তন যদি অসম্ভবও হয়, তা হলেও পরিবর্তনের মাধ্যমে রাষ্ট্রচেতনায় জাগরণ ঘটাতে হবে।

শুভ্রাংশুকুমার রায়, চন্দননগর, হুগলি

জতুগৃহ

কল্যাণ রুদ্রের ‘এর পরে প্রত্যাবর্তন অসম্ভব’ প্রবন্ধটি মানব সভ্যতাকে এক কঠিন সত্যের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রতি বছরের মতো এই বছরও আনন্দে, উৎসাহে ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়েছে। কিছু গাছ লাগানো হয়েছে। যত গাছ লাগানো হয়েছে, তার চেয়ে ছবি তোলা হয়েছে অনেক বেশি। ভিআইপি-দের ছবি সংবাদমাধ্যমে, আর সাধারণের ছবি সমাজমাধ্যমে জায়গা করেছে। এর কিছু দিন পর জলের অভাবে অথবা সুরক্ষার অভাবে চারাগাছ মরে যাবে অথবা গরু-ছাগলে খেয়ে নেবে। সে খবর আর কেউ রাখবে না।

প্লাস্টিক ব্যবহারের অপকারিতা, ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার নিয়ে আগামী দিনেও ধারালো ভাষায় বক্তৃতা হবে, পোস্টার নিয়ে পদযাত্রা হবে। কিন্তু তার মধ্যেও রাস্তায় কল থেকে জল পড়ে যাচ্ছে দেখে মানুষ পাশ কাটিয়ে চলে যাবে! বাজারে গিয়ে দোকানিকে বলবে প্লাস্টিকের ব্যাগে বাজার দিতে। এই তো আমরা! সবচেয়ে বড় কথা, পৃথিবীর পৃষ্ঠতলে, নীচে ও উপরে যে অনন্ত সম্পদরাশি ছিল, তাকে নষ্ট করেছে সবচেয়ে উন্নত জীব ‘মানুষ’! অন্য কোনও জীব এ জন্য বিন্দুমাত্র দায়ী নয়। প্রাচীন যুগেও বন কেটে বসত হয়েছিল প্রয়োজনের তাগিদে। কিন্তু তার পর? মানুষের লোভ, অবিমৃশ্যকারিতায় আজ বনভূমি উজাড়, ভূগর্ভস্থ জলে টান পড়েছে, দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে সমুদ্র, পাহাড়, নদী, খাল, বিল, জলাভূমি, বাতাস, গাছপালা— সর্বত্র। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য হিমবাহ গলছে, সমুদ্রের জল বাড়ছে। অচিরেই কত দেশ তলিয়ে যাবে সমুদ্র গর্ভে। উত্তরকাশী, সিকিম, কেদারনাথের ঘটনা মনে করিয়ে দেয় আমাদের অদূরদর্শিতার কথা। জীববৈচিত্রের অবক্ষয় খাদ্যশৃঙ্খল নষ্ট করছে‌। খাদ্যের অভাবে অনেক প্রাণী, কীটপতঙ্গ হারিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর বুক থেকে। কৃত্রিম আলোর জন্য জোনাকি, মথ, নিশাচর প্রাণীর আবাসস্থল ও প্রজনন ব্যাহত। কত ফুল তার ফোটার সময় পাল্টে ফেলতে বাধ্য হচ্ছে। গাছপালা ও ফুল হারাচ্ছে তার আকার, রং ও গন্ধ।

প্রকৃতি মানুষকে তার সম্পদ উজাড় করে দিয়েছিল। তার অপব্যবহারে ক্ষুব্ধ প্রকৃতি খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদির মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা দিচ্ছে। আমরা এখন জতুগৃহে অবস্থান করছি। এখনও একটু সচেতন হলে আগুন দেরিতে ধরবে। সেই চেষ্টা দেখা যাবে কি?

গৌতম পতি, তমলুক, পূর্ব মেদিনীপুর

তাপপ্রবাহ

উত্তর ভারতের বুন্দেলখণ্ডের তাপমাত্রা এই গ্রীষ্মে ছুঁয়েছিল ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (উত্তাপের বিষচক্র, ২৬-৫)। দিনের বেলা সেখানে বাইরে বেরোনো বারণ। সন্ধের পর এলইডি আলোয় চাষবাস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বাইরের কাজ সারতে হয়েছে। ভূগর্ভস্থ জলস্তর ক্রমশ নেমে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের বিশেষজ্ঞেরা এই বিষম প্রতিকূলতার জন্য দায়ী করেছেন পশ্চিমের থর মরুভূমি থেকে ধেয়ে-আসা শুষ্ক উত্তপ্ত বাতাস আর বুন্দেলখণ্ডের রুক্ষ পাথুরে ভূমিভাগকে। এ ছাড়া দেশের অন্য অংশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অরণ্য ও সবুজের বিনাশ তো বহুল প্রচলিত মূর্খামির তালিকাতেই পড়ে। বিশেষজ্ঞরা আঙুল তুলেছেন আর এক খলনায়কের দিকে। নদীগর্ভ থেকে অবৈজ্ঞানিক পন্থায় দেদার বালি উত্তোলন, যা কিনা জলজ বাস্তুতন্ত্রের উপর প্রতিকূল প্রভাব ফেলেছে। নড়ে বসতে হল এইখানে এসে। আমাদের এই রাজ্যের এক বিরাট ভূমিভাগ শেষোক্ত অভিশাপের ফল। এমনিতে উত্তর ভারত বা পশ্চিমের রাজ্যগুলির তুলনায় দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা নীচের দিকে থাকলেও, আগামী দিনে তা একই থাকবে না, ধরে নিতেই হবে। তাপমাত্রা ততখানি না উঠলেও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে ভোগান্তিতে দেশের উত্তর বা পশ্চিমের অঞ্চলগুলি থেকে দক্ষিণবঙ্গ খুব একটা পিছিয়ে নেই এখনই।

শুধুই দহন, ধ্বংস, যাপনের ক্লেশ আর পালিয়ে যাওয়ার আহ্বান এই সব অঞ্চলে। শুধু উত্তর ভারতের বুন্দেলখণ্ড কেন, তালিকায় এখনই প্রবেশ না করলেও কাছাকাছি এগোচ্ছে মহারাষ্ট্রের একাংশ, সমগ্র রাজস্থানও। ইট-কাঠ-কংক্রিটে মুড়ে রাজধানী দিল্লি যেন এক তপ্ত চুল্লি। যা পূর্বাভাস, তাতে ২০২৬ আবার ‘সুপার এল নিনিয়ো’র বছর। দেড়শো বছর আগে নাকি এমন মারাত্মক গরম পড়েছিল। চাষের প্রয়োজনীয় বৃষ্টির জন্য হাহাকার ছড়িয়েছিল। আশঙ্কা যদি সত্য হয়, প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে এই বছরও। এখন থেকেই তার লক্ষণ ফুটে উঠছে। গ্রীষ্মপ্রধান দেশগুলিতে নানা অর্থনৈতিক ক্রিয়াকাণ্ড গরমে প্রবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মারটা যে দিক থেকেই আসুক, তৃতীয় বিশ্বের মানুষের পিঠে এসেই বিদ্ধ হয় বেশির ভাগ। মুক্তি কোথায়?

বিশ্বনাথ পাকড়াশি, শ্রীরামপুর, হুগলি

দূষণ

কিছু দিন ধরে টালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে রাসবিহারী যাতায়াতের সময় চোখে পড়ছে বিভিন্ন জায়গায় জলসত্রের আয়োজন। অনেক জায়গায় একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ শরবত খাওয়ানোর ব্যবস্থাও করছেন। খুবই ভাল উদ্যোগ। সমস্যা হল, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবহার হচ্ছে প্লাস্টিকের গেলাস। জল বা শরবত খাওয়ার পর সেই গেলাসই ছুড়ে ফেলা হচ্ছে রাস্তায়। কিছু জায়গায় গেলাস ফেলার ড্রাম পাশে থাকলেও চলন্ত গাড়ির যাত্রী বা ড্রাইভাররা তার তোয়াক্কা করছেন না। প্লাস্টিক দূষণ এমনিতেই শহরে ক্রমবর্ধমান। তার পরেও যে কারও টনক নড়ছে না, সেটাই ভয়ের।

মাধুরী বিশ্বাস, কলকাতা-৩৩

আরও পড়ুন