NEET UG 2026 Paper Leak Controversy

‘আরও এক বার নিট দেওয়ার ক্ষমতা নেই!’ চিকিৎসক হতে চাওয়া ছাত্রী আত্মঘাতী, প্রশ্নফাঁসের বলি এক

কিসান ক্রেডিট কার্ড-এর সাহায্যে ঋণ নিয়ে পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছিলেন পরীক্ষার্থীর বাবা। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়েই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন, অনুমান পরিজনেদের।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ১০:৫১

ছবি: সংগৃহীত।

নিট কেলেঙ্কারির জেরে আত্মঘাতী হলেন এক চিকিৎসক হতে চাওয়া পরীক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে নাগপুর। জানা গিয়েছে, সেখান থেকেই চিকিৎসাবিদ্যায় স্নাতকে ভর্তির প্রবেশিকার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ১৮ বছরের আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদী। মধ্যপ্রদেশের মৌগঞ্জ জেলার বাসিন্দা তিনি।

Advertisement

আকাঙ্ক্ষার বাবা কিসান ক্রেডিট কার্ড মারফত তিন লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ধার করেছিলেন আত্মীয়দের কাছেও। আশা ছিল, পরিবারের একমাত্র কন্যাসন্তান চিকিৎসক হওয়ার পর সেই ঋণ শোধ করে দেবেন। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে সেই সন্তান আজ নিথর। নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির ঘটনায় হাল ছেড়ে বেছে নিয়েছেন আত্মহননের পথ। তাঁর শেষ চিরকুটে সে কথা লিখেও গিয়েছেন আকাঙ্ক্ষা। পুলিশের উদ্ধার করা ‘সুইসাইড নোট’-এ লেখা ছিল, “আমি প্রথম বারের পরীক্ষায় ভাল নম্বর পাওয়ার উপযুক্ত উত্তর লিখেছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয় বারে আবার ভাল করে লিখতে পারব কি না, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। মা এবং বাবা, আমাকে ক্ষমা কোরো, আমি সব নষ্ট করে ফেললাম।”

সুইসাইড নোটটি মা বাবাকে চিঠির আকারে লিখে গিয়েছেন আকাঙ্ক্ষা। সেই চিঠি শুরু হচ্ছে এই ভাবে— “মা এবং বাবা, মেয়ের উপর তোমাদের বিশ্বাস ছিল, যে সে ভাল করে পড়াশোনা করে ডাক্তার হবে। কিন্তু আবার পড়াশোনা করে নতুন করে নিট দেওয়ার ক্ষমতা বা সাহস আমার নেই।”

এই প্রথম নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কোনও পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর প্রকাশ্যে এল। তবে, এই পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পরই বহু পরীক্ষার্থী তাঁদের হতাশ হওয়ার কথা সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন। আকাঙ্ক্ষার আত্মীয়েরা জানিয়েছেন, প্রথম বার পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পর আকাঙ্ক্ষা খুশিই ছিলেন। এও বলেছিলেন, তিনি ৬৫০-এর মতো নম্বর পেতে চলেছেন। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের খবর প্রকাশ্যে আসতেই ভেঙে পড়তে শুরু করেন আকাঙ্ক্ষা। খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন, কথাও বলতেন না সে ভাবে কারও সঙ্গেই। কিন্তু তার পরিণতি এমন হতে পারে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউই।

Advertisement
আরও পড়ুন