CBSE 12th Revaluation 2026

ওএসএম পদ্ধতিতে খাতা দেখা! একের পর এক অভিযোগে জর্জরিত সিবিএসই, পদক্ষেপের বার্তা

সম্প্রতি পড়ুয়াদের অতিরিক্ত টাকা কী ভাবে ফেরত দেওয়া হবে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জরুরি বৈঠক করেছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১৬:০১

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অকারণে কেটে নেওয়া টাকা ফেরত দেবে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)। পড়ুয়া ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে এমনই বার্তা দিয়েছিল বোর্ড। সেই টাকা ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব পড়তে চলেছে কেন্দ্র অধীনস্থ চারটি ব্যাঙ্কের উপর।

Advertisement

সূত্রের খবর, সম্প্রতি পড়ুয়াদের অতিরিক্ত টাকা কী ভাবে ফেরত দেওয়া হবে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জরুরি বৈঠক করেছেন। সে খানেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, কানাড়া ব্যাঙ্ক এবং ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ককে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাঙ্কগুলি মূলত টাকা লেনদেন সংক্রান্ত তিনটি কাজ করবে। প্রথমত, সিবিএসই-র অনলাইন পোর্টাল এবং টাকা লেনদেনের পরিকাঠামোকে সঠিক ভাবে প্রযুক্তি নির্ভর করে তুলবে, যাতে একসঙ্গে হাজারের বেশি পড়ুয়া টাকা জমা দিলেও ওয়েবসাইট বন্ধ না হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তিগত ত্রুটিগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে সম্পূর্ণ নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করবে। তৃতীয়ত, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কোনও পড়ুয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে ভুল করে একের অধিকবার টাকা কেটে নেওয়া হলে সেই টাকা সংশ্লিষ্ট পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়ার কাজ করবে।

একনজরে দেখে নেওয়া যাক পড়ুয়াদের এখনও পর্যন্ত কী কী অভিযোগ উঠেছে এবং সিবিএসই কী বলল—

১৩ হাজার খাতায় সমস্যা

প্রথম বছর প্রায় ৯৮ লক্ষ খাতা ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্ক্যান করা হয়েছিল বলে। প্রাথমিক ভাবে প্রায় ৬৮ হাজার খাতায় স্ক্যানিং সংক্রান্ত সমস্যা দেখা গিয়েছিল। পরে যাচাই করার পর দেখা যায় আসল সমস্যা রয়েছে মাত্র ১৩ হাজার খাতায়। সিবিএসই অবশ্য এর জন্য দায়ী করে পরীক্ষার্থীদের। হালকা কালির কলম ব্যবহার করার জন্যই এমন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আবেদন করতে সমস্যা

১৩ মে ফল প্রকাশের পর কেটে গিয়েছে প্রায় দু’সপ্তাহ। এখনও সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার খাতার প্রতিলিপি দেখতে চাওয়া নিয়ে নানা অভিযোগে জর্জরিত বোর্ড। কখনও অভিযোগ উঠেছে পরীক্ষার খাতার প্রতিলিপি পাওয়ার জন্য আবেদনই করতে পারছেন না পরীক্ষার্থীরা। আবার কখনও অভিযোগ ওঠে, প্রচুর আবেদনের ভিড়ে সেই ওয়েবসাইটে নানা রকমের প্রযুক্তিগত গোলযোগের মুখোমুখি হচ্ছেন আবেদনকারীরা। কারও রেজিস্ট্রেশন করাতেও অসুবিধা হয়েছে, কেউ লগ ইন-ই করতে পারেননি, আবার কারও ‘ভেরিফিকেশন অ্যান্ড স্ক্যানড কপি অ্যাপ্লিকেশন’ উইন্ডোটি খোলেনি। ফলে অনেকেই খাতা দেখার আবেদন করতে চেয়েও তা সম্পূর্ণ করতে পারেননি। একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকলে বোর্ডের তরফে যান্ত্রিক ত্রুটি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। যা ২০ মে-র মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

আবেদনের মেয়াদ বৃদ্ধি

খাতার স্ক্যান করা প্রতিলিপি হাতে পাওয়ার জন্য আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমাও বৃদ্ধি করা হয়েছিল বোর্ডের তরফে। সর্বশেষ আবেদনের মেয়াদ বৃদ্ধি হয়ে ২৫ মে রাত ১২টা পর্যন্ত করা হয়েছিল।

অস্পষ্ট খাতা

সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি পরীক্ষার খাতার প্রতিলিপি। এক পড়ুয়া অভিযোগ তোলেন, খাতার প্রতিলিপি অত্যন্ত ঝাপসা, নিজের হাতের লেখা বুঝতেই অসুবিধা হচ্ছে। অন্য আর এক পড়ুয়ার অভিযোগ, গণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে ‘স্টেপ মার্কিং’-এর নম্বর দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু ওএসএম পদ্ধতিতে নম্বর যাচাই করার ফলে স্টেপ মার্কিং দেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ নম্বর যাচাই প্রক্রিয়াই সঠিক ভাবে হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল।

আবেদনের মূল্য কেটে নিলেও আবেদন করা যায়নি

বেশ কয়েকজন পড়ুয়া দাবি করেছিলেন, খাতা দেখার আবেদনের জন্য মূল্য কেটে নেওয়া হয়েছে, অথচ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে খাতাও দেখা যায়নি। বোর্ডের হেল্পলাইন বা টেলি-কাউন্সেলিং সার্ভিস থেকেও এই অর্থপ্রদান প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ দেখানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত সমস্যার কোনও সঠিক সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না বলেই জানিয়েছিলেন পড়ুয়ারা। প্রতিবারই সিবিএসই বোর্ডের তরফে আশ্বস্ত করা হয় সমস্ত সমস্যাই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তা দিয়েছে বোর্ড। এমনকি অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিল বোর্ড।

ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি

তবে এই সবের মাঝে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আরও একটি বিজ্ঞপ্তি। বলা হয় খাতার প্রতিলিপি দেখার জন্য আর আবেদন করা যাবে না। কারণ সে প্রক্রিয়াই নাকি বাতিল করে দিয়েছে সিবিএসই। যদিও বোর্ডের তরফে এই বিজ্ঞপ্তি সম্পূর্ণ ভুয়ো বলেই দাবি করা হয়েছে।

ভুল খাতা পাঠানোর দায় স্বীকার বোর্ডের

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে এক পড়ুয়া দাবি করেন, বোর্ডের তরফে পাঠানো খাতা নাকি তাঁরই নয়। ভুল খাতার প্রতিলিপি পেয়েছেন ওই পড়ুয়া। ঘটনার দায় স্বীকার করেছে সিবিএসই। বোর্ডের তরফে জানানো হয় সঠিক প্রতিলিপি পড়ুয়ার ই-মেল আইডিতে পাঠানো হয়েছে। পরে ওই পড়ুয়াও সমাজমাধ্যমে লেখেন, সিবিএসই সঠিক খাতার প্রতিলিপি পাঠিয়েছে।

চলতি বছর সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় নাম নথিভুক্ত করেছিলেন মোট ১৭,৮০,৩৬৫ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ১৭,৬৮,৯৬৮ জন পরীক্ষা দিয়েছিলেন এবং ১৫,০৭,১০৯ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। মূলত ২০২৬ থেকে অন স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতিতে খাতা দেখার জন্যই পড়ুয়াদের নম্বর কম এসেছে বলে একাধিক অভিযোগ উঠতে থাকে।

Advertisement
আরও পড়ুন