— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
সারা বিশ্বে পুষ্টিকর খাদ্য হিসাবে মাছের চাহিদা রয়েছে। তাই বিজ্ঞানসম্মত ভাবে মাছ চাষের কথা বহু বছর ধরেই ভাবছে মানুষ। মৎস্যচাষ এবং মৎস্যবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে দ্বাদশ উত্তীর্ণ হওয়ার পরই। কী ভাবে নিজেকে তৈরি করা যায়, চাকরির সুযোগ কেমন, সেই সব নিয়ে রইল বিশদ তথ্য।
দ্বাদশের পর:
উচ্চমাধ্যমিক কিংবা সমতুল পরীক্ষায় জীববিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন বিষয়গুলি থাকলেই স্নাতক স্তরে মৎস্যচাষ নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ মেলে। স্নাতক স্তরে চার বছরের ব্যাচেলর অফ সায়েন্স ইন ফিশারি সায়েন্সেস কোর্সটি করানো হয়। এ ছাড়াও ফিশারিজ় ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়েও ভর্তি হওয়ার সুযোগ মেলে।
কী কী বিষয় শেখার সুযোগ?
স্নাতক স্তরে মাছের জীবনচক্র, তার খাদ্যাভ্যাস, সমুদ্র এবং মিষ্টি জলের মাছ চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি, রঙিন মাছের চাষ, মাছ থেকে বিভিন্ন পণ্য প্রস্তুতকরণ, মাছের গুণমান যাচাই-এর মতো একাধিক বিষয় পড়ানো হয়। খাতায়কলমে পড়াশোনার পাশাপাশি ফিল্ড ওয়ার্ক, অন জব ট্রেনিং দেওয়া হয় পড়ুয়াদের। মূলত পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণ স্নাতক স্তর থেকেই শুরু হয়।
স্নাতকোত্তর স্তরে ওই বিষয়টি নিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়, মুম্বইয়ের সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ ফিশারিজ় এডুকেশন-সহ একাধিক সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওই বিষয় নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।
চাকরির সুযোগ:
মৎস্যবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা অর্জন করলে সরাসরি সরকারি চাকরির সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের তরফে ফিশারিজ় এক্সটেশন অফিসার নিয়োগের পরীক্ষা দিতে পারেন। এ ছাড়াও স্কুল সার্ভিস কমিশন, ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস-সহ অন্য সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিতে পারবেন।
পাশাপাশি, বিভিন্ন রাজ্যের ব্লকস্তরে কেন্দ্রীয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থপুষ্ট প্রকল্পে ফিশারি এক্সপার্ট, ফিশারি স্পেশালিস্ট হিসাবে বিভিন্ন পদে কাজ করার সুযোগ থাকে। বেসরকারি সংস্থার ক্ষেত্রে কোয়ালিটি কন্ট্রোল টেকনোলজিস্ট, হ্যাচারি টেকনোলজিস্ট, অ্যাকোয়ারিস্ট পদে এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের চাহিদা রয়েছে।
পড়াশোনা সম্পূর্ণ হওয়ার পর অধ্যাপক, গবেষক, বিজ্ঞানী হিসাবে দেশ-বিদেশের কলেজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও চাকরির সুযোগ মিলতে পারে।