Sustainiblity Development Goals

সুস্থায়ী উন্নয়ন নিয়ে বাড়ছে চর্চা, পড়াশোনার সুযোগ কোথায়, কেমন? কারা পড়তে পারবেন এই বিষয় নিয়ে?

পরিবেশ ও সম্পদ সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণের মধ্যে সমন্বয় রেখে চলার শিক্ষা দেয় সুস্থায়ী উন্নয়ন। এই বিষয়টি কী ভাবে শেখা যেতে পারে, কারা শিখতে পারেন— সেই সম্পর্কে রইল বিশদ তথ্য।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৯

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

পরিবেশ রক্ষার্থে এবং কার্বণ নিঃসরণের মাত্রা কমাতে বিকল্প শক্তি উৎপাদনের উপর জোর দিচ্ছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। বিভিন্ন দেশ এ বিষয়ে উদ্যোগী। জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে বিকল্প শক্তির ব্যবহার বেড়েছে। এ সবই সুস্থায়ী উন্নয়ন বা সাসটেনেবল ডেভলপমেন্টের অঙ্গ। বিশ্ব জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থার রিপোর্ট বলছে, গত ১১ বছরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.০৬ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্টার্কটিকার বরফ ক্রমশ গলছে। এই পরিস্থিতিতে সুস্থায়ী জীবনযাত্রায় জোর দিচ্ছে বিভিন্ন দেশের সরকার।

Advertisement

তাই, এই বিষয়টি নিয়ে চর্চার পরিসর বৃদ্ধি পেয়েছে, বেড়েছে উচ্চশিক্ষার সুযোগও। বিষয়টি কী, কোথায় পড়ানো হয়, কারা পড়তে পারবেন— জেনে নেওয়া যাক খুঁটিনাটি।

সুস্থায়ী উন্নয়ন কী?

মানুষের যে কোনও চাহিদা মেটাতে যথাযথ ভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার এবং সে সম্পদকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার শিক্ষা দেয় সুস্থায়ী উন্নয়ন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পরিবেশ দূষণ রোধ, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবহার, পরিবেশ অনুযায়ী নগরোন্নয়নের পরিকল্পনার মত বিষয়গুলি শেখানো হয়ে থাকে। এ ছাড়াও পরিবেশ অনুযায়ী, কী ধরনের বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন, আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির বিচারে কী ভাবে পরিবেশের সম্পদ ব্যবহার করা যেতে পারে, তা শেখারও সুযোগ রয়েছে।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আন্তর্জাতিক স্তরে চর্চা:

২০১৫-এ রাষ্ট্রপুঞ্জ সাসটেনেবল ডেভলপমেন্ট গোলস (এসডিজি) বা সুস্থায়ী উন্নয়নের ১৭টি লক্ষ্য ঘোষণা করে। বিশ্ববাসীর শান্তি এবং সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদের মোকাবিলা করার জন্য কী কী বিষয় মাথায় রাখতে হবে, তা-ও জানিয়েছিল রাষ্ট্রপুঞ্জ। এর মধ্যে রয়েছে দারিদ্র দূরীকরণ, ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী, পরিস্রুত পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন, লিঙ্গসাম্য (নারী-পুরুষ অনুপাতের সমতা) এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো বিষয়গুলিও।

কারা পড়তে পারবেন?

উল্লিখিত বিষয় নিয়ে স্নাতক স্তরে পড়াশোনার জন্য পড়ুয়াদের উচ্চ মাধ্যমিক কিংবা সমতুল পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। যদিও কলা এবং বাণিজ্য বিভাগের পড়ুয়ারাও সংশ্লিষ্ট নিয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন। তাঁরা ব্যাচেলর অফ আর্টস (বিএ) কিংবা ব্যাচেলর অফ বিজ়নেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন।

স্নাতক স্তরে যাঁরা পরিবেশ বিজ্ঞান, এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট কিংবা সমতুল বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, তাঁরা স্নাতকোত্তর স্তরে সুস্থায়ী উন্নয়ন বিষয়টি বেছে নিতে পারবেন।

কোথায় পড়ার সুযোগ?

এ দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে স্নাতক স্তরে সুস্থায়ী উন্নয়ন নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ নেই। শুধুমাত্র বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেই সুস্থায়ী উন্নয়ন নিয়ে বিএ, বিএসসি এবং বিবিএ ডিগ্রি কোর্স করানো হয়ে থাকে।

তবে, স্নাতকোত্তর স্তরে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ানো হয়ে থাকে। যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে বিষয়টি পড়ানো হয়—

  • জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়
  • ইনস্টিটিউট অফ এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সাসটেনেবেল ডেভেলপমেন্ট, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়
  • টেরি স্কুল অফ অ্যাডভান্সড স্টাডিজ়, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি), দিল্লি
  • স্কুল অফ ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড সাসটেনেবিলিটি, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়
  • ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট
  • সেন্টার ফর এনভায়রমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড সেফটি, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়
  • ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইআইএসইআর), কলকাতা

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পিএইচডি করার সুযোগও রয়েছে। ২০২৬-এ আইআইটি বোম্বে সেন্টার অফ এক্সেলেন্স প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করার প্রশিক্ষণের পাশাপাশি, সার্টিফিকেট কোর্সও করানো হবে।

কাজের সুযোগ

কেন্দ্র কিংবা রাজ্য সরকারি বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে পরামর্শদাতা, বিজ্ঞানী পদে সুস্থায়ী উন্নয়ন বিষয়ে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়াও বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থাতেও ওই বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়মিত ভাবে নিয়োগ করা হয়ে থাকে। যে সমস্ত পদে এই বিষয় বিশেষজ্ঞদের চাহিদা রয়েছে, সেগুলি হল— ক্লাইমেট চেঞ্জ রিসার্চার, এনভায়রনমেন্টাল কনসালট্যান্ট, সাসটেনেবিলিটি ডেভলপমেন্ট অফিসার।

Advertisement
আরও পড়ুন