ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
দুধ উৎপাদনের জন্য বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ঘি, মাখন, দই, চিজ়, আইসক্রিমের মতো বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তৈরিতে এই বিশেষ প্রাণিজ সম্পদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুধ উৎপাদনে বিশ্বজুড়ে ভারত শীর্ষ স্থানে। ২০২৩-২৪ এর তথ্য অনুযায়ী, এ দেশে দুধ উৎপাদন হয় দৈনিক মাথাপিছু ৪৭১ গ্রাম।
প্রাথমিক ভাবে খামার থেকে সংগৃহীত দুধের গুণমান যাচাই করা হয়। তার পর তার প্রক্রিয়াকরণ করা হয়ে থাকে। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, মাইক্রোবায়োলজি, পশুবিজ্ঞান এমনকী ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার বিশেষজ্ঞেরাও ওই কাজটি করে থাকেন। তবে, যাঁরা এই ক্ষেত্রে কাজ করতে চান, তাঁরা চাইলে সরাসরি দুগ্ধপ্রযুক্তি কিংবা ডেয়ারি টেকনোলজি নিয়ে পড়তে পারেন।
কী শেখানো হয়?
দুগ্ধপ্রযুক্তি বিষয়ের মাধ্যমে দুধের গুণমান বজায় রাখা, তাতে থাকা ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণের কৌশল শেখানো হয়ে থাকে। এ ছাড়াও দুগ্ধজাত খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কী ভাবে দুধের পুষ্টিগুণ বজায় রাখা যেতে পারে এবং তা প্যাকেটজাত করার পরও যাতে টাটকা থাকে— তা নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ মেলে। এ ক্ষেত্রে দুধের রাসায়নিক এবং জৈবিক গঠনশৈলী নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি, প্রক্রিয়াকরণের প্রযুক্তিগত বিষয়গুলি শিখে নেওয়া যায়।
কারা পড়তে পারবেন?
যাঁরা ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগ্জ়ামিনেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং-এ উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁরা এই বিষয়টি নিয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন। উচ্চ মাধ্যমিকে তাঁদের পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত এবং ইংরেজি— এই চারটি বিষয় থাকা প্রয়োজন। দ্বাদশের পরীক্ষায় অন্তত ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর পেতে হবে।
টেকনোলজি শাখার অধীনে ডিগ্রি
বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনোলজি শাখার বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয়ে তৈরি দুগ্ধ প্রযুক্তি নিয়ে স্নাতকে ভর্তি হওয়া যায়। ব্যাচেলর অফ টেকনোলজি (বিটেক) ডিগ্রি কোর্সের অধীনে পড়ুয়ারা ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। স্নাতকোত্তর স্তরে মাস্টার অফ টেকনোলজি (এমটেক) কোর্স করতে পারবেন।
কোথায় ভর্তি হওয়া যাবে?
সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও হরিয়ানার ন্যাশনাল ডেয়ারি রিসার্চ ইনস্টিটিউট, কর্নাটকের প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ওই বিষয়টি নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন।
কাজের সুযোগ
ডেয়ারি টেকনোলজি বিষয়ে স্নাতকেরা দুগ্ধ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় চাকরির সুযোগ পেতে পারেন। এ ছাড়াও বহুজাতিক ডেয়ারি সংস্থার উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ এবং মার্কেটিং বিভাগ কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি এবং ডেভেলপমেন্টাল ব্যাঙ্ক, কোয়ালিটি কন্ট্রোল অ্যান্ড অ্যানালিটিক্যাল ল্যাবরেটরিতেও নবীন স্নাতকদের নিয়োগ করা হয়ে থাকে।
এ ছাড়াও দুগ্ধজাত বিস্কুট, নরম পানীয়, কেক-পেস্ট্রি প্রস্তুতকারক সংস্থায় ডেয়ারি মাইক্রোবায়োলজিস্ট, ডেয়ারি কেমিস্ট, ডেয়ারি সুপারভাইজ়ার, ডেয়ারি মার্কেট ডেভেলপমেন্ট অফিসার, নিউট্রিশনিস্ট, ডেয়ারি টেকনোলজিস্ট পদে চাকরির সুযোগ রয়েছে। ওই সব পদে দুগ্ধপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করা হয়ে থাকে।
তবে, এই বিষয় বিশেষজ্ঞদের কাজের পরিধি এ দেশেই সীমাবদ্ধ নেই। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের মতো একাধিক দেশে দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত সংস্থা রয়েছে। সেখানেও বিশেষজ্ঞ হিসাবে চাকরির সুযোগ মিলতে পারে।