— প্রতীকী চিত্র।
তাঁরা কেউই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন, তাই ২০১৬ এসএসসি প্যানেল বাতিল হলেও তাঁদের চাকরি বহাল থাকবে। এ বিষয়ে আশাবাদী প্রাথমিক শিক্ষকেরা। সোমবার পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক স্তরের ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল মামলার আর্জি গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় নোটিশ জারি করেন। অগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
২০১৪ সালে টেট পাশ করে ভর্তিপ্রক্রিয়ায় যোগ দিয়েছিলেন তাঁরা। শূন্যপদ ছিল ৪২,৪৪৯টি। ২০১৭ সালের প্যানেল প্রকাশের মাধ্যমে নিয়োগ হয়। কিন্তু ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ ওঠে। প্রথমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় ১১,০০০ এবং তার পর প্রশিক্ষণহীন প্রায় ৩২,০০০ জন প্রাথমিক শিক্ষক নিযুক্ত হন। হুগলির একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক শেখ নাসিম আলি বলেন, “অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট না দিয়েই চাকরিতে নিয়োগ হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। আদালতে মামলাও হয়। কিন্তু গত ডিসেম্বরের মামলার রায়ে কলকাতা হাই কোর্ট আমাদের চাকরি বহাল রাখে।’’
সূত্রের খবর, কলকাতা হাই কোর্টে বঞ্চিতদের তরফ থেকে মামলা করা হয়। সেই মামলার প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ১২ মে কলকাতা হাই কোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। পরে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায়। সেখানেও সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বহাল ছিল। এর পরে তৎকালীন রাজ্য সরকার, পর্ষদ ও কর্মরত শিক্ষকেরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেখানেই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। এর পর মামলা ফের ঘুরে আসে কলকাতা হাই কোর্টে বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে। ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর মামলার শুনানি শেষ হয়। সেই মামলারই রায় ঘোষণা হয় ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর, যেখানে হাইকোর্ট কর্মরত শিক্ষকদের পক্ষে রায় দেয়। কিন্ত তার পরে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন বঞ্চিতরা।
এই মামলার ফলে কি চাপে পড়ে গিয়েছেন শিক্ষকেরা?
নাসিম অবশ্য বলেন, ‘‘এক বার হাইকোর্টে আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনও অস্বচ্ছতা ছিল না। সুপ্রিম কোর্টে আবার তা প্রমাণ করতে হবে। ফলে বাড়তি কোনও চাপ নেই। ২০১৬ সালের প্যানেলের প্রসঙ্গ আর আমাদের নিয়োগ বিষয়টা এক জিনিস নয়।’’
পূর্ব বর্ধমানের এক প্রাথমিক শিক্ষিকা অনুসূয়া যশও বলেন, ‘‘কোনও উৎকণ্ঠা নেই কারণ হাইকোর্ট আমাদের পক্ষেই রায় দিয়েছিল। কোনও অস্বচ্ছতা নেই।’’