— প্রতীকী চিত্র।
শিশুদের মধ্যে তৈরি করতে হবে জানার আগ্রহ। কোনও অপরিচিত বিষয় নিয়ে সে কি কথা বলতে সক্ষম? কোনও গান বা ছড়া শিখে কি তার মনে কোনও প্রশ্ন আসছে? কী ভাবে শিশুদের মধ্যে জানার ইচ্ছা এবং কথা বলার প্রবণতা বৃদ্ধি করা যায় তা নিয়ে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ দিয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতর। পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ইউনিসেফ থেকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান এক শিক্ষক। সেই ‘মাইক্রো ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান’ কে রাজ্যের সর্বত্র সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত করার নির্দেশ দিল দফতর। তবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনলাইনের বদলে অফলাইনে অর্থাৎ সরাসরি করার দাবি তুলেছেন শিক্ষকদের একাংশ।
প্রশিক্ষণে থাকা এক শিক্ষক জানান, মাস দেড়েক আগে শিশুদের বুনিয়াদি শিক্ষা মজবুত করার লক্ষ্যে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘বুনিয়াদি শিক্ষা হচ্ছে এমন একটি শিক্ষা যেখানে একটি শিশুর মন, জ্ঞান ও দক্ষতা তৈরি হয়। সেখানে ভাষার জ্ঞান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সংখ্যার প্রতি দক্ষতা থাকাটাও জরুরি। কিন্তু কার্যত সবটাই করতে হয় খেলার ছলে।’’
সম্প্রতি এক নির্দেশিকায় ‘মাইক্রো ইপ্রুভমেন্ট প্ল্যান’ স্কুলে বাস্তবায়িত করার কথা বলা হয়েছে। স্কুলশিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানান, প্রাক প্রাথমিক বা প্রাথমিক স্তরে শিশুদের স্কুলে বিভিন্ন খেলনা গাড়ি বা নানা সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে। সেগুলিকে শিক্ষার সামগ্রী হিসাবেই বিবেচনা করা হয়। গাড়ির চাকার সংখ্যা বা গাছের পাতার রঙ ও আকৃতি থেকে শিশুদের শেখানোর কৌশল আয়ত্ত করতে পারলেই একটি শিশুর সার্বিক বিকাশ ঘটানো সম্ভব। তাই শিক্ষকদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।’’
পাশাপাশি, পরিবার থেকেও শিশুদের শেখার বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। কলকাতার পাশের একটি জেলার স্কুল পরিদর্শক জানান, মাসে অন্তত একবার অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করার চেষ্টা করা হয়। পরিবার থেকে শিশুরা কী ভাবে শিখতে পারে সেই সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয় সেখানে। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল বলেন, ‘‘শিক্ষার অধিকার আইনে বলা রয়েছে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কিন্ত সেটা সরাসরি হলেই ভাল হয়। অনলাইনে প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ হচ্ছে না বলে আমার মনে হয়।’’