Cultural Programmes in Schools

স্কুলের অনুষ্ঠান হবে রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মেনে! গানবাজনা, পোশাক বাছতে বিধি জারি সরকারের

স্কুলপড়ুয়ারা কেমন গান বাজিয়ে নাচবে, কোন পোশাক পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেবে— তা নিয়ন্ত্রণ করবে রাজ্য সরকার।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:২৪

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

যে কোনও গানে আর নাচা যাবে না। পরা যাবে না মনের মতো পোশাকও। স্কুলে স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য এ বার বিধি জারি করতে চলেছে কর্নাটক সরকার।

Advertisement

শালীনতা বজায় রেখে স্কুলগুলিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে হবে বলে জানানো হয়েছে সরকারি ভাবে। এ বিষয়ে কোনও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। কোনও স্কুলের অনুষ্ঠানে অনৈতিক কোনও আচরণ বা পোশাকবিধি লঙ্ঘিত হলে, যথাযথ পদক্ষেপ করবে সরকার।

কর্নাটকের স্কুল শিক্ষা কমিশনের তরফে এ সংক্রান্ত বিধি জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি ওই রাজ্যের কন্নড় সম্প্রদায়ের একটি সংগঠনের (দি কর্নাটক রক্ষণ বেদিক স্বাভিমানী বানা) তরফে স্কুল শিক্ষা বিভাগের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সংগঠনের তরফে স্কুলপড়়ুয়াদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে নাচ বা গান করার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। তারা দাবি করে, স্কুলগুলি এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ না করায় রাজ্যের সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তার প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে কর্নাটকের বেশ কিছু স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে। তাতে কোথাও সিনেমার গানে ছাত্র-ছাত্রীদের, আবার কোথাও শিক্ষকদেরও নাচে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন এবং অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, এ ক্ষেত্রে শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়েছে স্কুলপড়ুয়ারা। এতে স্কুলগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তাই সরকারের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, স্কুলপড়ুয়াদের নৈতিকতার পাঠ দিতে হবে। পাশাপাশি, রাজ্যের ঐতিহ্য বজায় রেখে সংস্কৃতির চর্চায় স্কুলপড়ুয়াদের মন দেওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। দেশপ্রেম এবং কন্নড় সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখে গান, কবিতা, নাটকের সংলাপ, এমনকী পোশাকও বেছে নিতে হবে স্কুলগুলিকে। রাজ্যের এবং দেশের নাগরিক হিসাবে পড়ুয়াদের কী কর্তব্য, তা-ও শেখাতে হবে স্কুলগুলিকে।

তবে, বিধি জারি করে স্কুলের অনুষ্ঠানে কেমন গান গাওয়া হবে বা নাচ করার জন্য কোন পোশাক পড়তে হবে— এই নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। স্কুলগুলি কী ভাবে পড়ুয়াদের নিয়ন্ত্রণ করবে, তা রাজ্য সরকার কী ভাবে ঠিক করে দিতে পারে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

Advertisement
আরও পড়ুন