Exam Paper Leak 2026

প্রশ্নফাঁস থেকে ফল-বিভ্রাট! মূল সমস্যা অধরা, ত্রুটি সংশোধনের স্বীকারোক্তিতেই আটকে এনটিএ?

কখনও পরীক্ষা শুরুর আগেই ফাঁস হয়েছে প্রশ্নপত্র, কোনও ক্ষেত্রে পরীক্ষা চলাকালীন যান্ত্রিক সমস্যার শিকার পরীক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই বার বার ত্রুটি সংশোধন কিংবা দায় স্বীকারের বার্তা দিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ০৯:২৭

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

পরীক্ষার আয়োজনে গাফিলতির অভিযোগ আগেই করেছিলেন পরীক্ষার্থীরা। এ বার ‘আনসার কি’ নিয়েও গোলমাল।

Advertisement

একটি নয়, ২০২৬-এর বেশির ভাগ পরীক্ষার আয়োজনেই নানা কেলেঙ্কারিতে মুখ পুড়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-র (এনটিএ)। পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়ম মানা হয়েছে কি না, সংস্থার কাছে জানতে চেয়েছে লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি।

নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি

৩ মে নিট ইউজি-র পরীক্ষার প্রায় ১০ দিন পর প্রকাশ্য আসে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা। পরে এনটিএ দায় স্বীকার করে, ওই পরীক্ষায় টোকাটুকিও হয়েছিল। এমনকি, পরীক্ষার তিনদিনের মাথায় প্রকাশিত ‘আনসার কি’-এ গরমিল নিয়েও সরব হয়েছিলেন পরীক্ষার্থীরা।

আয়োজক সংস্থার তরফে পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রুখতে ৫জি জ্যামার বসানো হয়েছিল বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে। সিসি ক্যামেরার নজরদারি পেরিয়ে কী ভাবে টোকাটুকির ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে মূল অভিযুক্তদের। সিবিআই সূত্রে খবর, যাঁরা প্রশ্ন তৈরি করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রয়েছেন মূল অভিযুক্তের তালিকায়।

প্রশ্নোত্তর নিয়ে বিভ্রান্তি

জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগ্‌জ়ামিনেশন-এর (মেন) দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষায় রসায়নের প্রশ্নপত্রে সঙ্গে উত্তর না মেলায় বহু পরীক্ষার্থী অভিযোগ জানিয়েছিলেন। গত ১২ এপ্রিল গাফিলতির অভিযোগ স্বীকার করে ‘আনসার কি’ সংশোধন করে এনটিএ।

একই সমস্যা দেখা দিল ফ্যাশন টেকনোলজি-র স্নাতক প্রবেশিকার ক্ষেত্রেও। সদ্য প্রকাশিত সম্ভাব্য ফলাফলের সঙ্গে প্রশ্নের কোনও মিলই নেই বলে অভিযোগ করেছেন এক পরীক্ষার্থী। এ ছাড়াও এনটিএ-এর বিরুদ্ধে আংশিক ‘আনসার কি’ প্রকাশ করার অভিযোগও উঠেছে। ফলে ওই প্রবেশিকার দ্বিতীয় পর্বের জন্য কারা উত্তীর্ণ হতে চলেছেন, তা নিয়ে বাড়ছে সংশয়।

কুয়েট ইউজি-তে যান্ত্রিক গোলযোগ

গত ৩০ মে স্নাতকে ভর্তির প্রবেশিকায় পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের আগেই যন্ত্রের গোলমাল ধরা পড়ে। যন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার দিনেই সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এনটিএ-এর তরফে জানানো হয়, ৩,৭০০-র বেশি পরীক্ষার্থীর বায়োমেট্রিক অসম্পূর্ণ থাকায় তাঁদের পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। নতুন করে ৬ এবং ৭ জুন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল তাঁদের। এ ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিগত সমস্যার জেরেই অঘটনের দায় স্বীকার করে নিয়ামক সংস্থা।

ছোট থেকে বড়— সব ধরনের ত্রুটির অভিযোগ রয়েছে এনটিএ-এর বিরুদ্ধে। পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ জানানোর পরও সমাধান প্রায় অধরা। ২০২৪-এ প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের তরফে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি-র এনটি-এর বিভিন্ন নিয়ম বদলের পরামর্শও দিয়েছিল, যাতে সকলেই সফল ভাবে পরীক্ষা দিতে পারেন। কমিটির দেওয়া প্রস্তাবনায় প্রান্তিক এলাকার পরীক্ষার্থীদের ‘মোবাইল টেস্টিং সেন্টার’ তৈরি করার কথা বলা হয়েছিল। তার কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এনটিএ সর্বভারতীয় স্তরের প্রবেশিকা এবং ফেলোশিপ অর্জনের মতো মোট ১৫টি পরীক্ষা সারা বছর নিয়ে থাকে। এ ছাড়াও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংস্থায় নিয়োগের কিছু পরীক্ষাও ওই নিয়ামক সংস্থাই আয়োজন করে। এ ক্ষেত্রে নিয়োগের পরীক্ষাগুলি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র প্রবেশিকায় মনোনিবেশ করার প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ২০২৪-এ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সেই মর্মে ঘোষণাও করেন, এনটিএ সর্বভারতীয় স্তরের প্রবেশিকার আয়োজন করবে।

যদিও বিভিন্ন পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হোক কিংবা প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন— সবেতেই দেখা গিয়েছে কার্যত ‘অনুত্তীর্ণ’ এনটিএ। অভিভাবকদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, লাগাতার সমস্যা হওয়ার পরও কেন ওই সংস্থার হাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে?

পরীক্ষা নিয়ে একের পর এক কেলেঙ্কারির মাঝে এই প্রশ্নের উত্তরও কি বিজ্ঞপ্তি আকারেই প্রকাশ করবে এনটিএ? এখনও এ প্রশ্নের উত্তর নেই।

Advertisement
আরও পড়ুন