part time teacher west bengal

পরিচালন সমিতির নিয়োগ! আংশিক সময়ের শিক্ষকদের জুলাইয়ের বেতন নিয়ে টালবাহানা, বিপাকে স্কুলগুলি

একের পর এক স্কুল চলছে আংশিক সময়ের শিক্ষকদের ভরসায়। কিন্তু ১ জুলাই থেকে তাঁদের বেতন বন্ধ হওয়ার মুখে। কারণ পরিচালন সমিতির নিয়োগের দায় মাথায় নিয়ে কোনও কাগজে সই করতে অস্বীকার করছেন কোনও কোনও প্রশাসক।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ১৮:৫৫

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

নীতি-দুর্নীতির ফাঁকে শিক্ষাব্যবস্থা। গত মে মাসে রাজ্য রাজনীতিতে ঘটেছে ক্ষমতার পালাবদল। তার পরই সরকারপোষিত সব স্কুলের পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। বদলে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। দুর্নীতি রোধ করতে কড়া হতে চাইছে সরকার। কিন্তু তার বড় প্রভাব পড়ছে স্কুলশিক্ষায়।

Advertisement

সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বিভিন্ন স্কুলে কর্মরত আংশিক সময়ের শিক্ষকেরা। এক দিক থেকে দেখতে গেলে তাঁদের কাজে সরকারি কোনও সিলমোহর নেই। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের সামান্য বেতনের বিনিময়ে নিয়োগ করেছিল পরিচালন সমিতি। আর সেখানেই প্রশ্ন উঠেছে স্বচ্ছতা নিয়ে।

অথচ বাস্তব বলছে, একের পর এক স্কুল চলছে আংশিক সময়ের শিক্ষকদের ভরসায়। ১ জুলাই থেকে তাঁদের বেতন বন্ধ হওয়ার মুখে। কারণ, পরিচালন সমিতির নিয়োগের দায় মাথায় নিয়ে কোনও কাগজে সই করতে অস্বীকার করছেন প্রশাসকদের একাংশ।

হুগলির একটি স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বাণিজ্য শাখায় পড়াশোনা করে প্রায় ২০০ ছাত্র। অথচ, ওই বিষয়ে একজনও স্থায়ী শিক্ষক নেই। আংশিক সময়ের শিক্ষকেরাই ভরসা। একই ছবি কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে নদিয়া, হাওড়া দুই মেদিনীপুরের সর্বত্র। মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বিভিন্ন স্কুলের পঠনপাঠন চলছে আংশিক সময়ের শিক্ষকদের ভরসায়।

হুগলি জেলার ওই স্কুলের প্রধানশিক্ষক জানান, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এমন কোনও কোনও বিষয় পড়ানো হয়, যেখানে আংশিক সময়ের শিক্ষকেরাই ভরসা। কিন্তু নব নিযুক্ত প্রশাসক তাঁদের বেতনের কোনও দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করছেন। প্রধানশিক্ষক বলেন, “আংশিক সময়ের শিক্ষকেরা তো গোটা জুন মাস ক্লাস করালেন। ১-২ জুলাইয়ের মধ্যে বেতন পাওয়ার কথা। কিন্তু প্রশাসকের স্বাক্ষর ছাড়া সেটা সম্ভব নয়। কী হবে জানি না।”

সূত্রের খবর, বেশির ভাগ প্রশাসকই জানিয়েছেন আংশিক সময়ের শিক্ষকদের প্রথাগত ইন্টারভিউ ছাড়াই নিয়োগ করেছে পরিচালন সমিতি। গোটা প্রক্রিয়ায় স্পষ্টতা নেই। তাই তাঁদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসকেরা দায় নেবেন না।

হিসাব বলছে আংশিক সময়ের শিক্ষকেরা কোনও স্কুলে পান দু’হাজার টাকা, কোনও স্কুলে চার হাজার। কিন্তু স্থায়ী শিক্ষকের মতো প্রায় সব দায়িত্বই পালন করেন। কোনও কোনও স্কুলে এমন অনেক বিষয় পড়ানো হয়, যেখানে একজনও স্থায়ী শিক্ষক নেই।

এই পরিস্থিতিতে আংশিক সময়ের শিক্ষকদের বেতন না হলে তাঁরা যেমন সমস্যায় পড়বেন, তেমনই সমস্যা হবে স্কুলগুলিরও। আংশিক সময়ের শিক্ষকেরা কাজে না এলে পঠনপাঠন চালানোই মুশকিল হয়ে যাবে বলে দাবি করছেন অনেক শিক্ষকই। মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, “একেই শিক্ষকের ঘাটতি। তার উপরে এ ভাবে যদি আংশিক সময়ের শিক্ষকদের বেতন নিয়ে টালবাহানা হয়, তা স্কুলের জন্য ঠিক হবে না। এই শিক্ষকদের বেতন সরকার দেয় না, স্কুলই ব্যবস্থা করে। পড়ুয়াদের স্বার্থে এটা করতে হয়।” তাঁর দাবি, পড়ুয়াদের স্বার্থে এটুকু না করতে পারলে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে এমনিতেই নানা জটিলতা হয়ে রয়েছে। ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিল হওয়ার পরে এখনও সর্বত্র শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। গোটা রাজ্য জুড়ে শিক্ষকের সঙ্কট রয়েছে। তার মধ্যে নতুন করে এই সমস্যা দেখা গিয়েছে।

তবে নদিয়ার এক স্কুলের প্রধানশিক্ষক জানান, প্রশাসকেরা এই বিষয়ে টালবাহানা শুরু করেছিলেন। তাঁদের বোঝানো হয়েছে, আংশিক সময়ের শিক্ষকেরা না থাকলে উচ্চ মাধ্যমিকের কিছু পাঠক্রম বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ যেন দেওয়া হয়। স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তা অবশ্য জানিয়েছেন, সরকার সঠিক ভাবে স্কুল চালাতে চায়। সে ক্ষেত্রে পরিচালন সমিতির পুরনো চালিয়ে যাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। কর্তৃপক্ষ কোনও রকম অচলাবস্থা তৈরির বিপক্ষে। তিনি বলেন, “সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট জেলাস্কুল পরিদর্শক বা দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে পারেন প্রশাসকেরা।”

কোনও কোনও স্কুলের তরফে সিদ্ধান্ত হয়েছে, জুলাইয়ে অর্ধেক হলেও বেতন দেওয়া হবে আংশিক সময়ের শিক্ষকদের। তার পর সরকারি ভাবে গোটা সমস্যার সমাধান করা হবে। এ প্রসঙ্গে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ (বিদ্যালয় শাখা) রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিক বলেন, “বিদ্যালয়ের প্রয়োজন এবং আর্থিক সঙ্গতি দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

Advertisement
আরও পড়ুন