ছবি: সংগৃহীত।
রাতারাতি বদলে গিয়েছে দেশের আইনের ধারা। দীর্ঘ দিন ধরে প্রচলিত ইন্ডিয়ান পেনাল কোড-র (আইপিসি) বদলে এসেছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, দণ্ড সংহিতা, নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ২০২৩ এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম। এ বিষয়ে স্কুলস্তর থেকেই সচেতনতা তৈরি করতে উদ্যোগী স্কুল শিক্ষা দফতর।
স্কুলপড়ুয়াদের নিজের সুরক্ষার অধিকার এবং দেশে ন্যায় ও অপরাধ সংক্রান্ত বিধির পাঠ দিতে বাংলা ভাষায় বিশেষ ই-বুক তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে বিধি সংবলিত ওই বইয়ের লিঙ্ক পাওয়া যাবে জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিসে। ইতিমধ্যেই তা সেখানে পৌঁছে গিয়েছে বলে খবর। পরবর্তী কালে স্কুলগুলি তা ছাপিয়ে নিজেদের গ্রন্থাগারে রাখতে পারে। ই-বুকের লিঙ্ক পাওয়া যাবে এনসিইআরটি-র ওয়েবসাইটেও।
জানা গিয়েছে, ক্লাসে পড়ুয়াদের এ বিষয়ে সচেতনতার পাঠ দেবেন শিক্ষকেরা। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন করার দায়িত্বও তাঁদের। স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, এই বই প্রকাশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের স্টেট কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এসসিইআরটি)-কে । দফতরের এক কর্তা জানান, সমগ্র শিক্ষা মিশনের প্রকল্পের অধীনে এই উদ্যোগ।
তিনি জানান, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ২০২৩ এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম ২০২৩ বিষয়ে তিনটি বই প্রকাশ করা হয়েছে। মূলত উচ্চ প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে এই বইগুলিকে। ষষ্ঠ-অষ্টম, নবম ও দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য তৈরি করা বইয়ে লেখা রয়েছে তিনটি বিধির খুঁটিনাটি। গ্রাফিক সহকারে পড়ুয়াদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এই বিধিগুলি।
বইয়ের প্রচ্ছদ
ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) ইংরেজি যে বই প্রস্তুত করেছে সেটিকেই বাংলায় অনুবাদ করেছে এসসিইআরটি। এ জন্য ১৪ জনের একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
কী ভাবে সচেতন করা হবে?
ওই কর্তা জানান, বইগুলি জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিসে থেকে পৌঁছে যাবে স্কুলে। স্কুল কয়েকটি বই ছাপিয়ে নিতে পারে। তা রাখতে হবে স্কুলের গ্রন্থাগারে। যেন পড়ুয়ারা যখন খুশি তা পড়তে পারে। ক্লাসের অবসর সময়ে বা বিশেষ কোনও কর্মশালায় পড়ুয়াদের এ বিষয়ে সচেতন করবেন শিক্ষকেরা।
প্রতি মাসে একবার করে অভিভাবকদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তাঁদের মধ্যেও এই বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ওই কর্তার কথায়, “এই বই থেকে পড়ুয়ারা জানতে পারবে তাদের সুরক্ষার জন্য কী কী আইন রয়েছে। পাশাপাশি এ দেশে কোন কাজ অপরাধ হিসাবে গণ্য হয়, সে কাজ করলে কী শাস্তিই হতে পারে, তা-ও জানানো হবে।” এতে পড়ুয়াদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই অপরাধ ও বিচারের ধারণা সুস্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।
কল্যাণীর পান্নালাল ইনস্টিটিউশনের প্রধানশিক্ষক রমেনচন্দ্র ভাওয়াল বলেন, “সরকারি নতুন কোনও প্রকল্পের বিষয়ে আমাদের জানানো হয় কর্মশালা করে। কিন্তু শুধু কর্মশালার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। এই বিধির বিষয়ে পড়ুয়াদের সচেতন করতে হবে যাতে তারা ভবিষ্যতে এক একজন সচেতন নাগরিক হয়ে উঠতে পার।”
ইতিহাস বিষয়ে এক স্কুলশিক্ষিকা জানান, মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ের শুরুতে সংবিধানের প্রস্তাবনা উল্লেখ করা রয়েছে। কিন্তু মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত দেশের এই সমস্ত বিধি কোনও পাঠ্যক্রমে নেই। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে সংবিধানের কিছু অংশ উল্লেখ রয়েছে। তবে তা খুবই সামান্য। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যক্রমে এবং ইতিহাসে সংবিধানের বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সেখানেও এই বিধির উল্লেখ নেই। তাঁর মত, “এই বই পড়ুয়াদের সাহায্য করবে বলেই আশা করছি।”