প্রতীকী চিত্র।
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশপত্র দেওয়ার কাজ শুরু করছে এসএসসি। মঙ্গলবার থেকেই এই চিঠি পেতে শুরু করবেন প্রার্থীরা। এ বছরই প্রথম স্কুলভিত্তিক সংরক্ষণের পরিবর্তে মিশ্র মেধাতালিকা বা ‘কম্বাইনড মেরিট লিস্ট’-এর মাধ্যমে ‘ওপেন কাউন্সেলিং’য়ের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে স্কুল বাছাইয়ে প্রার্থীদের সুবিধা হবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল।
সূত্রের খবর, জাতিভিত্তিক সংরক্ষণের বদলে মেধার ভিত্তিতে র্যাঙ্ক আগে, তাঁরাই আগে স্কুল বাছাইয়ের ডাক পাবেন। স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন, “এই পদ্ধতিতে মেধার ভিত্তিতে সকল প্রার্থী স্কুল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পাবেন। এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।”
মঙ্গলবার থেকে যে কাউন্সেলিং হবে তা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নির্ধারিত তালিকা মেনে। সে ক্ষেত্রে স্কুলগুলির একাদশ–দ্বাদশ ও নবম–দশমের বিষয়ভিত্তিক পোস্টগুলি আগাম বা পূর্ব–নির্ধারিত সাধারণ, এসসি, ওবিসি এবং ইডব্লিউএস প্রার্থীদের জন্যে সংরক্ষণ থাকছে না। এর ফলে বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণির প্রার্থীরা ‘ওপেন কাউন্সেলিংয়ে’র সুযোগ পাবেন।
নিয়ম অনুযায়ী, কোনও নির্দিষ্ট বিভাগে সর্বোচ্চ র্যাঙ্ক-এ থাকা প্রার্থী সেই একই বিভাগের নিম্নতর র্যাঙ্কধারী প্রার্থীর তুলনায় স্কুল বাছাইয়ে অনেক বেশি বিকল্প ও সুযোগ পাবেন। জানা গিয়েছে, এ বার থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের রাজ্য স্তরের নিয়োগের কাউন্সেলিং হবে কম্বাইন্ড মেরিট লিস্টের (সিএমএল) ভিত্তিতে। তাতে বিদ্যালয়ভিত্তিক কোনও থাকছে না। সিএমএল অনুযায়ী, সাধারণ বিভাগের পুরুষ প্রার্থীরা শুধু বালক এবং সহ-পাঠক্রমিক বিদ্যালয়গুলি বেছে নিতে পারবনে। একই ভাবে মহিলা প্রার্থীরা সহ-পাঠক্রমিক বিদ্যালয়গুলির পাশাপাশি বেছে নিতে পারবেন বালিকা বিদ্যালয়ও।
কমিশন সূত্রে খবর, আগে অনেক সময়ই সংরক্ষিত আসন পূর্ণ হতো না। এ বার নতুন পদ্ধতিতে কাউন্সেলিং হওয়ায় সেই আশঙ্কা থাকবে না।
গত দু’দিনে অ্যানথ্রপোলজি, হোম সায়েন্স, মিউজিক, সাঁওতালি, আগ্রোনমি, হিসাবশাস্ত্র, ও শারীরবিদ্যা এই বিষয়ে বাংলা, উর্দু, সাঁওতালি ও হিন্দি বিভাগের শিক্ষক পদপ্রার্থীদের কাউন্সেলিং হবে। ১৮২জন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ডাকা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রথম পর্যায়ের জন্য আপাতত মাত্র ৫০০ শূন্যপদের তথ্য পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩১ অগস্টের মধ্যে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শেষ করে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে এসএসসিকে। তারাই সুপারিশপত্র দেবে যোগ্য প্রার্থীদের। তার পর নিয়োগপত্র দেবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।