ছবি : সংগৃহীত
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শূন্য অর্ধেকের বেশি শিক্ষক পদ। গত সপ্তাহে উপাচার্য আশ্বাস দিয়েছিলেন কিছু আইনি জটিলতার মীমাংসা করে শীঘ্রই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। তার আগেই রাজ্যে বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গেল, জারি হয়ে গেলে নির্বাচনী আদর্শ আচরণ বিধি। ফলে পিছিয়ে গেল সেই প্রক্রিয়া।
কিন্তু আন্দোলনের পথ থেকে পিছু হটতে নারাজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ‘কুটা’। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত কর্মসূচি মেনে আগামী ১৯ মার্চ কলেজস্ট্রিট ক্যাম্পাসের দ্বারভাঙা ভবনের নীচে অবস্থান বিক্ষোভ করবেন সদস্যেরা। এ দিকে কর্তৃপক্ষের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনী আচরণ বিধির মেয়াদ শেষ হলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে। অর্থাৎ অপেক্ষা করতে হবে আগামী মে মাস পর্যন্ত।
গত বৃহস্পতিবার আনন্দবাজার ডট কমে প্রকাশিত হয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ঘাটতির পরিসংখ্যান। সরকারের অনুমোদিত শিক্ষকের সংখ্যা যেখানে ৬৩২ হওয়ার কথা, সেখানে রয়েছেন মাত্র ২৮১ জন। অর্থাৎ প্রায় ৫৬ শতাংশ পদ শূন্য। বিজ্ঞানের বিভাগগুলিতে ৫৮ শতাংশ, কলা বিভাগে ৬০ শতাংশ শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। কোথাও ২০ বছর, কোথাও ২৫ বছর কোনও নিয়োগ হয়নি। রসায়ন, গণিত, ইতিহাস, উদ্ভিদবিদ্যার মতো বিষয়গুলিতে ৬০ শতাংশের বেশি পদে শিক্ষক নেই। বিজ়নেস ম্যানেজমেন্ট, জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন এবং মেরিন সায়েন্স-এর মতো বিভাগগুলি চলছে একজন শিক্ষকের ভরসায়।
এই পরিস্থিতিতে কুটা-র সভাপতি সনাতন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা চাই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে সব রকমের প্রস্তুতি সেরে রাখাতে হবে। সরকার গঠন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে কর্তৃপক্ষ যেন নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।” অযথা যাতে বিলম্ব না হয়, সে দিকে নজর দেওয়ার কথাই তাঁরা কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।
আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই স্নাতকোত্তর প্রথম বর্ষের পড়ুয়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন। তার আগেই যেন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যায়, তা-ই নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্দোলন হবে বলে কুটা-র দাবি। এ বিষয়ে উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ অবশ্য বলেছেন, “বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য যা যা করণীয় তা আমরা সবই করে রাখব। তবে সরকার গঠনের আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যাবে কি না, তা আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে।”
দীর্ঘ দিন ধরেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ হয় না। এ বিষয়ে বার বার কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েও ফল হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষকদের একাংশ। এ বার স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের পর আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছিল। কিন্তু ভোট ঘোষণার পর সেখানে ফের দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ।