টেট জট থেকে মুক্তির দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত।
স্কুল শিক্ষকদের টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামুলক, গত বছর এমনই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশ জুড়ে সঙ্কটের মুখে লক্ষ লক্ষ শিক্ষক। নানা রাজ্যে থেকে রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হলেও সম্প্রতি রায় বহাল রেখেছে শীর্ষ আদালত। শুধু টেট পরীক্ষায় পাশ করার জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে এক বছর সময়।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের একাংশ দাবি করছেন, কেন্দ্র দ্রুত অর্ডিন্যান্স জারি করে টেট জট থেকে তাঁদের অব্যাহতি দিক। কিন্তু রাজ্য বা কেন্দ্র, কোনও সরকারই এই বিষয়ে কোনও বিবৃতি দিচ্ছে না বলে অভিযোগ। এরই বিরুদ্ধে বুধবার বেলা ১ টা নাগাদ সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে মিছিল করে কলেজ স্কোয়ারে অবস্থান বিক্ষোভ করেন নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতি, বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি-সহ একাধিক শিক্ষক সংগঠন। সরকারকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করার দাবি জানানো হয়। না হলে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
গত বছরই সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানিয়েছিল, দেশের প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। যাঁরা ‘টিচার্স এলিজিবিলিট টেস্ট’ (টেট) উত্তীর্ণ নন, তাঁদের প্রাথমিক ভাবে ২০২৭-এর মধ্যে তা উত্তীর্ণ হতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সম্প্রতি এই সময়সীমা ২০২৮ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। তবে, যাঁদের অবসর পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে, তাঁদের এই নির্দেশের বাইরে রাখা হয়েছিল।
শিক্ষকদের দাবি, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বিজেপি সরকার সমস্ত শিক্ষকের স্বার্থরক্ষায় প্রয়াসী হবে। সেই প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দিয়েই এ দিন ফের সরব হন তাঁরা।
নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল বলেন, ‘‘আমাদের দাবি এই টেট জট থেকে সরকার আমাদের মুক্তি দিক। একাধিক বার সরকারের কাছে এই দাবি জানানো হয়েছে। আজকেও সেই দাবিকেই সামনে রাখা হয়েছিল। কেন্দ্র সরকারকে দ্রুত অর্ডিন্যান্স জারি করতে হবে।’’
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘দ্রুত এই টেট সমস্যা মেটাতে হবে। না হলে সরকারের বিরুদ্ধে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হব।’’ এ দিন ওই অবস্থান মঞ্চে যোগ দিয়েছিলেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী-সহ অন্য শিক্ষক নেতারা।