west bengal board of primary education

কাজ থমকে প্রায় দু’মাস! সংশোধিত শূন্যপদে প্রাথমিক শিক্ষক ও স্পেশ্যাল এডুকেটরের নিয়োগের দাবি

নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরও প্রায় ২ মাস অতিক্রান্ত, প্রাথমিক শিক্ষক এবং স্পেশ্যাল এডুকেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে। গত মার্চ মাসে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া বন্ধ করার বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ১৮:৩৩

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

বিধানসভা নির্বাচনের জন্য থমকে গিয়েছিল প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক এবং স্পেশ্যাল এডুকেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরও প্রায় ২ মাস অতিক্রান্ত— নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও সেই তিমিরেই।

Advertisement

২০২২-এ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৩,৫০৬ প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য ২০২৫-এর ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথম থেকে চতুর্থ দফার ইন্টারভিউ শেষ হয়েছে আগেই। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্ষদ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে পঞ্চম থেকে দশম দফায় নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার ইন্টারভিউ শুরু হয়। গত ১৯ মার্চ পঞ্চম পর্যায়ে নদিয়া জেলার ইন্টারভিউ সম্পন্ন হয়েছে। ষষ্ঠ পর্যায়ে গত ২৩ মার্চ পুরুলিয়া জেলার জন্য ইন্টারভিউ শুরু হয়। কিন্তু তত দিনে নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে।

পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, দশম পর্যায়ের ইন্টারভিউ ২৯ মে পর্যন্ত ধরা হয়েছিল। অর্থাৎ এত দিনে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। মনে করা হচ্ছে, মূলত ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এই প্রক্রিয়াটিতে দেরি হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান প্রার্থীরা।

গত মার্চ মাসে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া বন্ধ করার বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। সূত্রের খবর, গত ২৭ মার্চ নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চেয়ে স্কুল শিক্ষা দফতরকে চিঠি দেয়। ৩০ মার্চ সেই চিঠি পৌঁছয় পর্ষদে। সে দিনই বিস্তারিত জানানো হয় পর্ষদের তরফে। মূলত আদর্শ নির্বাচন বিধি লঙ্ঘিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু পর্ষদের যুক্তি ছিল যে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চলছিল তার বিজ্ঞপ্তি নির্বাচন ঘোষণার আগেই করা হয়েছে এবং যে মেধাতালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল তা-ও নির্বাচনের পরে। এতে নির্বাচনী আদর্শ বিধি কোথাও লঙ্ঘিত হচ্ছে না বলেই দাবি ছিল পর্ষদের। যদিও নির্বাচনের পরে এমনকি সরকার গঠনের দু’মাস পরেও সেটা চালু হল না।

অন্য দিকে গত এপ্রিলেই রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলে বিশেষ ভাবে সক্ষম শিশুদের জন্য শিক্ষক (স্পেশ্যাল এডুকেটর) নিয়োগের প্যানেল প্রকাশ করত পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। কিন্তু সেখানেও বাদ সাধে সেই নির্বাচনী বিধি। থমকে যায় সেই প্রক্রিয়াও। সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পূর্বতন রাজ্য সরকার প্রায় ২৭০০ শূন্যপদ তৈরি করে। এর পরে সেখান থেকে সমগ্র শিক্ষার মাধ্যমে প্রায় ৩৫৮ শিক্ষক নিযুক্ত হন। দীর্ঘ দিন তাঁরা স্কুলে শিক্ষকতা করছিলেন। এর পর তাঁদের স্থায়ীকরণ করা হয়। বাকি প্রায় ২৩০০ শূন্যপদের জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা নেওয়া হয়। ফলপ্রকাশ করা হয় ৯ মার্চ। ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক পান ৭৯৮ জন প্রার্থী। সেই প্রক্রিয়াও শেষ। শুধু প্যানেল প্রকাশ বাকি। আর সেখানেই থমকে গিয়েছে পুরো প্রক্রিয়া।

নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল বলেন, ‘‘গ্রামের প্রাথমিক স্কুলগুলিতে শিক্ষক কম। ছাত্রছাত্রীরা খুব অসুবিধার মুখে পড়ছে। এর পরিবর্তন প্রয়োজন। তবে ১৩ হাজার নয়, বর্তমান শূন্যপদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।’’ যদিও গত মঙ্গলবার জাতীয় গ্রন্থাগারে বিজেপি শিক্ষক সেলের অনুষ্ঠানে স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন ছাত্র শিক্ষকের অনুপাতের অসামঞ্জস্য দূর করতে যে সরকার বদ্ধ পরিকর তা উল্লেখ করেন।

Advertisement
আরও পড়ুন