প্রতীকী চিত্র।
ভোটের আগে কি নতুন করে জটিলতা চাইছে না রাজ্য! বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আধিকারিক শিক্ষাকর্মীদের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধায় হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখায় তেমনি মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে শিক্ষা দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী আধিকারিকদের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে আগামী ছ’মাস কোনও হস্তক্ষেপ করবে না সরকার। আগামী জুন পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে।
এর আগে জানানো হয়েছিল, গত ১ অক্টোবর ও পরবর্তীকালে জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত যে সব কর্মচারী অবসর নিয়েছেন তাঁরা প্রভিশনাল সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এর পর প্রতিবাদে সরব হয়েছিল কলকাতা, যাদবপুর, বর্ধমান, রবীন্দ্রভারতী-সহ রাজ্যের ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন। আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তারা।
তার পরই অবসরকালীন সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে আরও ছ’মাস সুযোগ-সুবিধার রাখার কথা জানাল উচ্চশিক্ষা দফতর।
উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফ থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পেনশন এবং গ্র্যাচুয়িটির ক্ষেত্রে ২০২৬-এর জুন মাস পর্যন্ত সরকার কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে, জুন মাসের পর থেকে যাঁরা অবসর নেবেন তাঁদের অবসরকালীন সমস্ত ফাইল ছ’মাস আগে পাঠাতে হবে উচ্চশিক্ষা দফতরের কাছে। দফতর তা একটি সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
এ প্রসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠন (জুটার) সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, “আমরা মঞ্চ থেকে সংঘটিত ভাবে প্রশ্ন তুলেছিলাম, বিকাশ ভবনের কর্তারা বলছেন এই অবসরকালীন সুযোগ সুবিধায় কোপ দেওয়া হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর আদেশক্রমে। তা হলে কি মুখ্যমন্ত্রী এটি চাইছেন?”
উচ্চশিক্ষা দফতর দেওয়া চিঠিতে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় গুলির বিধি অনুযায়ী কোনও শিক্ষক শিক্ষাকর্মী ও অফিসার ২০ বছর চাকরি করলে তবেই তাকে সম্পূর্ণরূপে অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বিধি লঙ্ঘন করছে। ১৩-১৪ বছর কাজ করেও অনেককে পেনশন এবং গ্র্যাচুয়িটির ১০০% সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তাই এই নিয়মের ক্ষেত্রে বদল আনছে সরকার।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি সনাতন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এটি নিজের মতো করে হিসাব করেন। আর তা সরকারি নিয়ম মেনেই করে। এখন যদি সরকার মনে করে যে এই অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা টাকা নিজে হিসাব করে করবেন। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারে হস্তক্ষেপ। ভুল থাকলে তা অবশ্যই সমাধান করা যায় তার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার কোনও দরকার হয় না।”