— প্রতীকী চিত্র।
শিক্ষকদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব এড়াতে পদক্ষেপ করছে স্কুল শিক্ষা দফতর। জেলা স্কুল পরিদর্শক অফিস সূত্রের খবর, কর্মরত শিক্ষকদের ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু যাঁরা ২০০৮ সালের পর অবসর নিয়েছেন তাঁদের বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করার কাজ শুরু হয়েছে।
এক জেলা স্কুল পরিদর্শক জানান, সম্প্রতি স্কুলশিক্ষা দফতরের সঙ্গে সব জেলা স্কুল পরিদর্শকদের বৈঠক হয়েছে। সেখানে আলোচনা হয়েছে, ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (এসওপি) অর্থাৎ কী পদ্ধতিতে মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে তা নিয়ে। সেখানেই মৌখিক ভাবে দফতরের কর্তারা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের তথ্য সংগ্রহ করার কথা জানিয়েছেন বলে দাবি।
কিন্তু কেন?
এক ডিআই জানান, কর্মরত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার সমস্যা নেই। জিপিএফ অ্যাকাউন্টে সেটা দেওয়া হবে। সেই তথ্য দফতরের কাছে রয়েছে। কিন্তু অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে বিষয়টি অন্য রকম। পেনশন পান যে সব শিক্ষক, তাঁদের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য জেলা স্কুলপরিদর্শকের কাছে নেই। কারণ পেনশন হয় অর্থ দফতরের ট্রেজারি থেকে। কিন্তু শিক্ষকদের মাসিক বেতনের বিল তৈরি করেন শিক্ষা দফতরের ডিডিও (ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার) । তাঁদের কাছেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা যে অ্যাকাউন্টে বেতন পেতেন তার সব তথ্য রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পেনশন অ্যাকাউন্টের পরিবর্তন হলে সেই তথ্য অনেক সময়ে ডিআইদের কাছে আসে না।
ওই ডিআই জানান, এমনও হতে পারে যে অ্যাকাউন্টে বেতন হতো, তা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। পেনশন পান যে অ্যাকাউন্টে তিনি মহার্ঘ ভাতা সেই অ্যাকাউন্টেই নিতে চান। সে ক্ষেত্রে দফতরের কাছে সে তথ্য না থাকলে সমস্যা হতে পারে। সে কারণেই এই প্রস্তুতি সেরে রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, গোটা রাজ্যের ডিআই অফিস থেকে এই কাজ হচ্ছে।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘কর্মরতদের সঙ্গেই যেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাকেরাও মহার্ঘ ভাতা পেয়ে যান তার দাবি ইতিমধ্যেই স্কুলশিক্ষা দফতরে আমরা জানিয়েছিলাম। তার প্রস্তুতি চলছে ভাল কথা কিন্তু মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার নির্দেশিকা কবে প্রকাশিত হবে সেটাই তো বোঝা যাচ্ছে না।’’ স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই সোমবার নবান্নে এসওপি পাঠানো হয়েছে।
তবে এর পরেও আশঙ্কা কাটছে না শিক্ষকদের। শিক্ষক সংগঠন ‘‘ অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’’ - এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন গরাই বলেন, ‘‘সু্প্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রের কাছে দ্রুত এই মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ করার জন্য আবেদন জানিয়েছি।’’