কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত।
এ রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী চার বছরের স্নাতক পঠনপাঠন শুরু হয়েছে ২০২৩-এ। হিসাব বলছে, ২০২৬-এই প্রথম ওই পাঠ্যক্রম অনুযায়ী তৃতীয় বর্ষের ষষ্ঠ সেমেস্টারে পরীক্ষা দেবেন পড়ুয়ারা। তার পর কী হবে?
এ প্রশ্নের উত্তরে অনেক ধোঁয়াশা— তৃতীয় বর্ষ বা ষষ্ঠ সেমেস্টারের পর কারা পারবেন স্নাতক চতুর্থ বর্ষে ভর্তি হতে? কারা পাবেন স্নাতক সাম্মানিকের শংসাপত্র, কারা পাবেন না? কী ভাবে সরাসরি গবেষণার সুযোগ পাবেন পড়ুয়ারা? কারা পাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনার সুযোগ? পড়ুয়া-অভিভাবকদের পাশাপাশি এ সব প্রশ্ন রয়েছে শিক্ষকদের মনেও। এ বার সে সব ধন্দ কাটাতে উদ্যোগী হচ্ছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ জানান, দ্রুত এ বিষয় নিয়ে অধীনস্থ কলেজগুলির অধ্যক্ষদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। যাবতীয় জটিলতার সমাধান করে শীঘ্রই একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
তিনি জানান, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী স্নাতক এবং গবেষণা সংক্রান্ত সব নিয়ম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে ইতিমধ্যেই। কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে তাঁদের কাছে খবর এসে পৌঁছেছে, পড়ুয়াদের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। সে জন্যই অধ্যক্ষদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
নতুন শিক্ষানীতি অনুযায়ী, ভর্তির সময়ই কোনও পড়ুয়াকে বেছে নিতে হবে তিন বছর অথবা, চার বছরের স্নাতক পাঠ্যক্রম। যাঁরা চার বছরের স্নাতক পাঠ্যক্রম বেছে নেবেন, তাঁদের ভর্তি হওয়ার পর অন্তত তিন বছর অর্থাৎ ষষ্ঠ সেমেস্টার পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। সেখানে তাঁর ফলের উপর ভিত্তি করে তিনটি বিকল্প পাওয়া যাব—
১। পড়ুয়া যদি ৪০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেয়ে ষষ্ঠ সেমেস্টার বা তৃতীয় বর্ষ উত্তীর্ণ হন, তা হলে তিনি স্নাতক সম্মানিক (অনার্স) নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন। চতুর্থ বর্ষে এক বছর অনার্স কোর্স শেষ করলে তিনি স্নাতক সাম্মানিক (অনার্স) ডিগ্রি পাবেন। এর পর বিশ্ববিদ্যালয় বা যে সব কলেজে স্নাতকোত্তর করানো হয় সেখানে এক বছরের স্নাতকোত্তরের ডিগ্রি করতে পারবেন। অর্থাৎ, উচ্চ মাধ্যমিকের পর ওই পড়ুয়ার স্নাতকোত্তরের ডিগ্রি পেতে সময় লাগবে ৫ বছর।
২। যদি তৃতীয় বর্ষের শেষে অর্থাৎ ষষ্ঠ সেমেস্টারের পড়ুয়া ৭৫ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পান, তা হলে তিনি পরের বছর অর্থাৎ, চতুর্থ বর্ষে গবেষণা-সহ সাম্মানিক বা ‘অনার্স উইথ রিসার্চ’ কোর্সের সুযোগ পাবেন। সে ক্ষেত্রে চতুর্থ বর্ষ উত্তীর্ণ হলেই তিনি সরাসরি গবেষণার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন— নেট, সেট বা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রবেশিকা পরীক্ষায় যোগ দিয়ে। তাঁকে আর স্নাতকোত্তর করতে হবে না। অর্থাৎ উচ্চ মাধ্যমিকের ৪ বছর পরেই তিনি গবেষণার কাজে যোগ দিতে পারবেন।
৩। ৭৫ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেয়েও কোনও পড়ুয়া গবেষণার পথে না গিয়ে পরের চতুর্থ বর্ষে ওই কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তিনি স্নাতক ডিগ্রিই পাবেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বা যে সব কলেজে স্নাতকোত্তর কোর্স পড়ানো হয় সেখান থেকে পরের এক বছর স্নাতকোত্তর শেষ করলে তিনি স্নাতকোত্তরের ডিগ্রি পাবেন।
৪। যাঁরা তৃতীয় বর্ষের পর আর পড়তে চাইবেন না তাঁরা সাধারণ স্নাতক বা পাস গ্র্যাজুয়েশন-এর শংসাপত্র পাবেন। ৪০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া কোনও পড়ুয়া অবশ্য চাইলে, দু’বছরের স্নাতকোত্তরে ভর্তি হতে পারবেন।
উপাচার্য বলেন, “পড়ুয়াদের কাছে এই বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার জন্যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। অধ্যক্ষদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।”