DA for Teachers

সুপ্রিম কোর্টে ৬২ পাতার রিপোর্ট! মহার্ঘ ভাতায় অসন্তোষ, রাজ্যের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত

নবান্নের তরফে সুপ্রিম কোর্টে ৬২ পাতার ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ পেশ করা হয়। জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের প্রায় ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার কর্মচারীকে ২০১৬ থেকে ২০১৯-এর সময়কালের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বাবদ ৪ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর পরই ওঠে বৈষম্যের অভিযোগ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৪৭

— প্রতীকী চিত্র।

মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত যে ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে জমা করেছে, তাতে সন্তুষ্ট নয় শিক্ষক সংগঠনগুলি। তাই এ বারে রাজ্যের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলে ন্যায্য অধিকারের দাবিতে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। বাম মনোভাবাপন্ন শিক্ষক সংগঠন নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির তরফে এমনই জানা গিয়েছে। অন্য শিক্ষক সংগঠনগুলি আদালতে না গেলেও স্পষ্ট জানিয়েছে, সরকারের রিপোর্টে তারাও অসন্তুষ্ট।

Advertisement

বুধবার সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি ছিল। আগেই শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবির পক্ষে রায় দিয়েছিল। নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কী ভাবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন করা হচ্ছে, তা যেন রাজ্যের তরফে তুলে ধরা হয়।

এর প্রেক্ষিতেই নবান্নের তরফে সুপ্রিম কোর্টে ৬২ পাতার ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ পেশ করা হয়। জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের প্রায় ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার কর্মচারীকে ২০১৬ থেকে ২০১৯-এর সময়কালের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বাবদ ৪ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর পরই ওঠে বৈষম্যের অভিযোগ।

নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ মেটাতে বলেছিল। তা মানা হয়নি। ১৫ এপ্রিল সরকার আদালতে কী হলফনামা দেয়, তার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। বোঝা গেল আদালত অবমাননার মামলা করতেই হবে।’’

শিক্ষক সংগঠন অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার ৬২ পাতার যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে তার মধ্যে সুকৌশলে ‘গ্র্যান্ট ইন এইড’-এর কথা বাদ দিয়েছে। আমরা সেটা সুপ্রিম কোর্টের মনিটরিং কমিটি ইন্দু মালহোত্র কমিটিকে জানিয়েছি। আগামী দিনে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।’’

মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার বিষয়ে দ্বিচারিতা করছে। এক দিকে নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশের ঠিক আগে মুখ্যমন্ত্রীর সমাজমাধ্যমে মহার্ঘ ভাতার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটের ফায়দা তুলতে চেয়েছেন। অন্য দিকে সুপ্রিম কোর্টে চাতুরি দেখিয়ে ‘গ্র্যান্ট ইন এইড’-এর কর্মীদের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চাইছেন।’’

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘মহার্ঘ ভাতা নিয়ে একের পর এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হচ্ছে। কিন্তু আদতে রাজ্য সরকার নির্বাচনের আগে টোপ দিয়ে ফায়দা তুলতে চাইছে।” তাঁর দাবি, ঘোষিত ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা এখনও দিতে পারেনি রাজ্য সরকার। উপরন্তু বকেয়া ভাতা নিয়েও চলছে টালবাহানা।

Advertisement
আরও পড়ুন