কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় । ছবি: সংগৃহীত।
স্নাতকোত্তর স্তরেও এ বার পোর্টাল নির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এর আগেই স্নাতক স্তরের জন্য পোর্টাল ব্যবস্থা চালু হয়েছে। জানা গিয়েছে, স্নাতকোত্তর স্তরে পরীক্ষার পদ্ধতিতে গতি আনতেই এই পদক্ষেপ।
সূত্রের খবর, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই পোর্টালের কাজ শুরু হবে। তার ফলে পরীক্ষার আবেদন থেকে ফলপ্রকাশ— সবই পড়ুয়াদের হাতের কাছে পৌঁছে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানান, এত দিন স্নাতকোত্তর পরীক্ষার গোটা প্রক্রিয়াটিই খাতায়কলমে চালিত হত। পরীক্ষার আবেদন থেকে শুরু করে পরীক্ষকদের দেখা খাতার হিসাব, সবই কাগজকলমে গোনা হত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তার দাবি, এই নিয়মে গোটা পরীক্ষা প্রক্রিয়াটির উপর বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নিয়ামক দফতরের নিয়ন্ত্রণ থাকত না। এমনকি কতগুলি সব খাতা দেখা না হওয়া পর্যন্ত কোনও তথ্য পরীক্ষকদের তরফে তাদের কাছে আসত না। পাশাপাশি পরীক্ষার নম্বর জানার ক্ষেত্রেও বিলম্ব হত।
এক আধিকারিক জানান, একজন পড়ুয়া কত নম্বর পেয়েছে সেটা তাঁকে তা জানতে হত সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকেই। যে সব কলেজে স্নাতকোত্তর রয়েছে সেখানকার পড়ুয়াদের অপেক্ষা করতে হত ফল পাঠানো পর্যন্ত। সেই ব্যবস্থাই বদলাতে চলেছে।
জানা গিয়েছে, এর পর থেকে পরীক্ষার্থীরা মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকেই নির্দিষ্ট দিনে নিজেদের ফল দেখে নিতে পারবেন। এতে ফলপ্রকাশ পদ্ধতিতে যেমন গতি আসবে, তেমনই সব তথ্য হাতের মুঠোয় থাকবে। সুবিধা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষেরও।
উল্লেখ্য, এই পদ্ধতিতেই কাজ করে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। যে কারণে, প্রতি সপ্তাহেই কতগুলি খাতা দেখা সম্পূর্ণ করছে পরীক্ষকেরা, সেই তথ্য কর্তৃপক্ষ দেখতে পারেন। তার উপরে ভিত্তি করে ফলপ্রকাশের সম্ভাব্য দিনক্ষণ ঠিক করে রাখতে পারেন তাঁরা।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামনক দফতরের আধিকারিকেরা বলছেন, এতে যেমন পরীক্ষা পদ্ধতি সহজ হবে। তেমনই পরীক্ষা পদ্ধতি অনেকখানি পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠবে। পোর্টাল চালু হলে কাগজহীন বা ‘পেপার লেস’ পদ্ধতিও অনুসরণ করবেন কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানান, যতটা সম্ভব কাগজের ব্যবহার কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বার থেকে অনলাইনেই ফর্ম পূরণ হবে। পরীক্ষাকেরাও খাতা দেখার পরে পোর্টালে নম্বর তুলে দেবেন। জমা পড়া নম্বর দেখেই দ্রুত ফলপ্রকাশ করে দিতে পারবেন কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে স্নাতকের ক্ষেত্রে পোর্টাল চালু হয়েছে। এ বারে স্নাতকোত্তরের ক্ষেত্রেও সেই পথেই হাঁটছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, ‘‘পোর্টালের কাজ চলছে। কিছুদিন পরেই পোর্টাল চালু করা হবে। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়াটিই বাড়তি গতি পাবে।’’