School Education

রাজ্যে-কেন্দ্রে বিজেপি সরকার, এ বার কি মিটবে বরাদ্দ ঘাটতি! স্কুল নিয়ে আশাবাদী শিক্ষকদের একাংশ

প্রধানমন্ত্রীর নাম নিয়ে প্রকল্প, তা থেকেই যাবতীয় সমস্যার সূত্রপাত। এ বারে কি সেই সমস্যা মিটলে পড়ুয়াদের সার্বিক উন্নয়নে বরাদ্দ অর্থ পাবে স্কুল? ইতিবাচক ফলই আশা করছেন শিক্ষকদের একাংশ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ১৬:২৪

— প্রতীকী চিত্র।

‘প্রধানমন্ত্রী’ নামে আপত্তি রাজ্য সরকারের! তা থেকেই নাকি যাবতীয় সমস্যার সূত্রপাত।

Advertisement

এ রাজ্যের স্কুলে স্কুলে বন্ধ হয়েছিল সমগ্র শিক্ষা মিশনের বরাদ্দ। একই ভাবে উচ্চ শিক্ষায় ‘পিএম ঊষা’ (সাবেক রুসা) প্রকল্পের টাকা না পাওয়া নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন হলে কি সমস্যা মিটবে? সে প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে শিক্ষকদের মধ্যে। কেন্দ্রীয় সাহায্যে স্কুলের পরিকাঠামো প্রকৃতই উন্নয়ন করা হয় কিনা সেই দিকেই তাকিয়ে গোটা শিক্ষামহল।

গত ফেব্রুয়ারিতে খড়গপুর আইআইটি-র এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, “সর্ব শিক্ষার বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে কারণ, রাজ্য সরকার পিএমশ্রী স্কুল মানছে না। এটি একটি প্যাকেজ। সুবিধা পেতে হলে পুরোটাই গ্রহণ করতে হবে।”

শিক্ষমহল সূত্রের খবর, রাজ্য কেন্দ্র দড়ি টানাটানিতেই বিপাকে পড়েছিল স্কুলগুলি। অভিযোগ, কেন্দ্রের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সমগ্র শিক্ষা মিশনের অধীনে জেলায় জেলায় মডেল স্কুল গঠন করতে হবে। সেই স্কুল তৈরি করে ‘প্রধানমন্ত্রী স্কুল’ হিসাবে চিহ্নিত করলেই বিশেষ বরাদ্দের পাশাপাশি সমগ্র শিক্ষা মিশনের টাকাও পাওয়া যেত।

কিন্তু রাজ্য এই প্রকল্পে রাজি হয়নি। বরাদ্দ টাকা হাতে না পাওয়ায় সব স্কুলে শৌচাগার পরিষ্কার করা বা বিদ্যুতের খরচ টানতেই হিমশিম খেতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। কম্পোজ়িট ফান্ডের টাকা থাকলে এ খরচ সহজে বহন করা সম্ভব হত বলে দাবি শিক্ষকদের।

সাধারণত, পড়ুয়ার সংখ্যার উপরে নির্ভর করে টাকা বরাদ্দ করা হয়। ১ হাজার বা তার বেশি ছাত্রছাত্রী থাকলে সেই স্কুলকে বছরে ১ লক্ষ টাকা কম্পোজিট ফান্ড দেওয়া হয়। কিন্তু রাজ্যের তরফে পিএম নামের প্রতি আপত্তি থাকায় কোনও স্কুলই সেই টাকা পায়নি। এ বার বিজেপি সরকার গঠন হলে সেই সমস্যা মিটবে বলেই আশা।

স্কুলের নানা ধরনের কাজে কম্পোজ়িট ফান্ডের টাকা প্রয়োজন। অন্য নানা ধরনের খরচের চাপ তো রয়েছেই। এতে আর্থিক সঙ্কটে পড়ছে স্কুলগুলি। বিশেষত, যে সব স্কুলে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা চলে, সেখানে সমস্যা সব থেকে বেশি। কলকাতার বিটি রোড গভর্নমেন্ট স্পন্সরড হাই স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘জেলার সমগ্রশিক্ষা মিশনের দায়িত্বপ্রাপ্তেরা ভাল ভাবে কাজ করতে পারতেন না। এ বার আর কোনও সমস্যা হবে না আশা করি। পড়ুয়াদের সার্বিক উন্নয়নে বরাদ্দ অর্থ আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে বলেই মনে হয়।’’

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘আশা করা যায় এ বারে সমস্যা মিটিয়ে বাকি সব বরাদ্দ অর্থ পাওয়া যাবে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন