—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
শান্ত এলাকা আরও শান্ত।
দেশপ্রিয় পার্কের উল্টো দিকের ফুটপাতে ভরদুপুরে চায়ের দোকানের ঝাঁপ ফেলতে ফেলতে দোকানির তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘‘মহাভারতের যুদ্ধের মতো সবই সাজানো। যে যার মতো করে দেখছেন।’’
সকাল থেকে শেষ দুপুর পর্যন্ত রাসবিহারী বিধানসভায় চক্কর কেটে দেখা গেল, পুলিশের টহল, বুথ আগলে দাঁড়িয়ে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী, ভোট কেন্দ্রে নিরুপদ্রবে দাঁড়ানো মানুষের সারি। আর বুথে বুথে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন কেন্দ্রের দুই প্রার্থী, বিদায়ী বিধায়ক তৃণমূলের দেবাশিস কুমার এবং বিজেপির স্বপন দাশগুপ্ত।
দেবাশিস ভোর সাড়ে ৪টেয় কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন। অন্য দিকে, প্রতিপক্ষ প্রার্থী স্বপন বিভিন্ন বুথে ছুটে বেড়ানোর সময়ে অগ্রাধিকার দিলেন সেই সব বুথে, যেগুলিতে অতীতে ছাপ্পা ভোট কিংবা বুথ জ্যামের অভিযোগ উঠেছে।
গড়িয়াহাট, যোধপুর পার্ক, সাদার্ন অ্যাভিনিউ, নিউ আলিপুরের মতো বর্ধিষ্ণু এলাকা অধ্যুষিত রাসবিহারী কেন্দ্রের ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে নিম্নবিত্তদের একাধিক এলাকা। চেতলা রোড, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের মতো জায়গার বস্তি এলাকা তাঁদের দুর্গ বলে জানালেন দেবাশিস কুমার। ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনের পথে প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের কাছে এমনই একটি এলাকায় রাস্তায় শিবির করে বসে থাকা লোকজনকে দেখেই দেবাশিস গাড়ি থামালেন। দলীয় কর্মীরাও তাঁকে আশ্বস্ত করলেন। ওই পথেই দেশপ্রাণ শাসমল রোডে তিনশো ফ্ল্যাটের একটি আবাসনে ঢুকতে দেখা গেল দেবাশিসকে।
অবাঙালি প্রধান সেই আবাসনে তখন ভোটারদের সঙ্গে নিজস্বী তুলছিলেন বিজেপি প্রার্থী স্বপন। এ বার সেখানে আবাসিকদের জন্য আলাদা বুথ। তবে, বুথের বাইরে তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থী, দু’জনকেই আটকে দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। খানিক অনুরোধ করে চিঁড়ে না ভেজায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আবাসন ছাড়েন দেবাশিস। তবে, কিছু পরে বুথ ঘুরে হাসিমুখে বেরিয়ে এসে স্বপন বললেন, ‘‘এখানে মাটি কামড়ে পড়েছিলাম। কারণ, গত ভোটে এখানে বুথ জ্যাম করে দেওয়া হয়েছিল।’’
শান্ত এলাকায় ভোটগ্রহণের পটভূমিতে দুই শিবিরের রেষারেষি স্পষ্ট ভাবেই চোখে পড়ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে আটকা পড়েও কিন্তু যৌথ প্রতিবাদের দিকে হাঁটেননি কোনও প্রার্থীই। দক্ষিণ কলকাতার এমনই একটি আবাসনে বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়ের সঙ্গে মুখোমুখি হন দেবাশিস। ভোটের আবহে সংবাদমাধ্যমের তরফে দু’জনের একটি সৌহার্দ্যের ছবির অনুরোধ পেয়ে দেবাশিস স্পষ্টই বলেন, ‘‘ভোটের দিনে এমন তঞ্চকতার কোনও অর্থ নেই। ওঁর সঙ্গে আমার খুবই ভাল সম্পর্ক।’’
ভোটের আগে দেবাশিস সয়েছেন ইডির ঝক্কি। যা নিয়ে অবশ্য এ দিন মন্তব্য করতে চাননি তিনি। দেবাশিসের ভোট ঘেঁটে দিতে বিজেপির এটা চক্রান্ত কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বপন বলেন, ‘‘আমি ভোটে লড়তে নেমেছি। ইডি-র কথা জানি না। শান্তিপূর্ণভোট হচ্ছে।’’