কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। —ফাইল চিত্র।
দমদম উত্তরের জনসভা থেকে কলকাতার ‘হারানো গৌরব’ ফেরানোর ডাক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, “দিদি এবং কমিউনিস্টদের রাজত্বে পুরো শহর একপ্রকার বস্তির শহর হয়ে রয়ে গিয়েছে। দেশের এমন বিভিন্ন শহর রয়েছে, যেগুলি বস্তিমুক্ত হতে শুরু করেছে। কিন্তু দিদি এর প্রয়োজন মনে করেন না। তিনি তো বস্তিতে অনুপ্রবেশকারীদের থাকতে দিয়ে নিজের ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করতে চান।”
বিজেপি ক্ষমতায় এলে কী কী করবে, সেই ব্যাখ্যা দেওয়ার সময়ে শাহ বলেন, “কলকাতা মেট্রোর তিন গুণ সম্প্রসারণ হবে। দমদম, হাওড়ার সব ক্ষেত্রে মেট্রোর সম্প্রসারণের কাজ করবে বিজেপি।”
শাহ বলেন, “পদ্ম চিহ্নে ছাপ দিন। আমরা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে আসব। চারটে করে বিয়ে এবং তিন তালাক বন্ধ হয়ে যাবে।”
দমদম উত্তরের নির্বাচনী জনসভা থেকে শাহ বলেন, “এখানে পুরসভা দেউলিয়া হওয়ার মুখে। পুরসভার অবহেলার জন্য নোংরা জলের অনেকগুলি ঝিল হয়ে রয়েছে।”
শাহ বলেন, “মমতা দিদি রামমন্দির বানানোর বিরোধিতা করতেন। নাটক করার জন্য হুমায়ুন কবীরকে বের করে দিয়েছেন। হুমায়ুনের নাম দিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে বাবরি মসজিদ বানাতে চাইছেন।”
শাহ বলেন, “মোদীজি অযোধ্যায় রামমন্দির বানিয়ে ঠিক করেছেন, না ভুল করেছেন? সাড়ে ৫০০ বছর ধরে মুঘল, ইংরেজ, কংগ্রেসি, তৃণমূলীরা রামমন্দির বানাতে দেয়নি। আপনারা মোদীজিকে দ্বিতীয় বার প্রধানমন্ত্রী করলেন। মোদীজিও অযোধ্যায় রাম মন্দির বানিয়ে দিলেন।”
শাহ বলেন, “নরেন্দ্র মোদীজি সন্ত্রাসবাদকে শেষ করে দিয়েছেন। সেই নরেন্দ্র মোদীজিকে কংগ্রেস সভাপতি সন্ত্রাসবাদী বলছেন। রাহুল বাবার সঙ্গে থেকে থেকে খড়্গেজিরও ভাষা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আমি রাহুল বাবাকে বলছি, তামিলনাড়ুতে আপনারা দুই অঙ্কে পৌঁছোতে পারবেন না। পুদুচেরিতেও পারবেন না। পশ্চিমবঙ্গে হয়ত খাতাই খুলবে না। অসমে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হার হবে কংগ্রেসের।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “৭৫ বছর ধরে কংগ্রেস এবং তৃণমূল ৩৭০ অনুচ্ছেদকে রেখে দিয়েছিল। মোদীজি সেই ৩৭০ অনুচ্ছেদের বিলোপ করেছেন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে গভীর আঘাত করেছেন মোদীজি। তৃণমূল এবং কংগ্রেসের আমলের সরকার সন্ত্রাসবাদীদের বিরিয়ানি খাওয়াত।”
শাহ বলেন, “আমাদের সংসদে মা-বোনেদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ থাকা উচিত কি না? মমতা দিদি কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে এর বিরোধিতা করে মা-বোনেদের এখানে আসা আটকেছে। বিধানসভায়, লোকসভায় আসা আটকেছে। মমতা দিদি, মাতৃশক্তি ২৯ তারিখের দিকে তাকিয়ে আছে। আপনি দিন গোনা শুরু করে দিন”
শাহ বলেন, “দেশে শিল্পের শুরু হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ থেকে। আজ এক এক করে শিল্প পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ৬০০০ প্রতিষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে দিয়েছে। দিদি আপনার কাটমানির লোকেরা শিল্পের পিছনে উঠেপড়ে লেগেছে। আজ শিল্প পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে বাইরে চলে যাচ্ছে।”
শাহ বলেন, “এখন তৃণমূলের গুন্ডারা কলোনিতে গিয়ে গিয়ে, বড় বড় ফ্ল্যাটে গিয়ে বলছে, ‘বেরোবেন না। ২৯ তারিখ সমস্যা হবে’। আমি তৃণমূলের গুন্ডাদের বলে যাচ্ছি, ২৯ তারিখ বেরোবেন না। বেরোলে গুন্ডাদের সমস্যা হবে।”
মমতাকে বিঁধে শাহ বলেন, “উল্টে বলেন, ৭টার পরে মহিলাদের বাইরে বেরোনোর কী দরকার! দিদি আপনার লজ্জা হওয়া দরকার। মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়েও আপনি বলছেন, ৭টার পর কেন বেরোচ্ছেন? পশ্চিমবঙ্গের সব মা-বোনকে আমি বলে যাচ্ছি, ৫ মে’র পরে একটি ছোট মেয়েও স্কুটিতে বেরোলে, কোনও গুন্ডা তার দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারবে না।”
শাহ বলেন, “বছরের পর বছর ধরে সন্দেশখালিতে পশ্চিমবঙ্গের মা-বোনেদের উপর অত্যাচার করেছে অনুপ্রবেশকারীরা। পশ্চিমবঙ্গের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী চুপ করে থেকেছেন। কারণ, সেই অনুপ্রবেশকারী ছিল তৃণমূলের নেতা।”
শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে সুশাসনের শুরু হবে। কবিগুরু, মহর্ষি অরবিন্দ, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যেমন সোনার বাংলার কথা ভেবেছিলেন, তেমন সোনার বাংলা তৈরির সূচনা করবে বিজেপির সরকার।”
শাহ বলেন, “আমি বিজেপির তরফ থেকে বলে যাচ্ছি, ৪ মে সকালে গণনা শুরু হবে। ৮টায় ব্যালট বাক্স খোলা শুরু হবে। ৯টায় প্রথম রাউন্ড। ১০টায় দ্বিতীয় রাউন্ড। ১টায় গণনা শেষ। দিদি টাটা গুড বাই।”
শাহ বলেন, “বিজেপি প্রার্থীদের জন্য আপনাদের ভোট দিতে হবে না। পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য আপনাদের ভোট দিতে হবে। কলকাতার হারানো গৌরবকে ফেরানোর জন্য ভোট দিতে হবে। দিদির রাজত্বে, কমিউনিস্টদের রাজত্বে গোটা শহর বস্তির শহর হয়ে রয়ে গিয়েছে। দেশে এমন অনেক শহর রয়েছে যেগুলি বস্তিমুক্ত হয়ে উঠেছে। কিন্তু দিদি তার প্রয়োজন মনে করেন না। তিনি বস্তিতে অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা দিয়ে দিয়ে নিজের ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করতে চান।”
দমদম উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত নিউ ব্যারাকপুরের অদ্রদূত ময়দানে বিজেপির সভামঞ্চে পৌঁছোলেন অমিত শাহ। দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, কালীবাড়ি মন্দির, চাকলার লোকনাথবাবার মন্দিরকে প্রণাম করে বক্তৃতা শুরু করলেন তিনি।
বুধবার পশ্চিমবঙ্গে ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। তাঁর প্রথম জনসভাটি রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার নিউ ব্যারাকপুরে।
আগামী ২৭ এপ্রিল (সোমবার) পর্যন্ত কলকাতাতেই থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির একটি সূত্রে এ কথা জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোট আগামী ২৯ এপ্রিল। সোমবার সেখানে প্রচারের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) যখন প্রথম দফার ভোট হবে, তখনও শাহ রাজ্যেই থাকবেন।