—প্রতীকী চিত্র।
‘বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থীরা মনোনীত। প্রার্থীদের হতে হবে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত’। ২৯১টি বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার পরে, সমাজমাধ্যমে বুধবার এমনই ‘পোস্ট’ করেছেন পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের অনেক নেতা। সমাজমাধ্যম তো বটেই, রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে বিদায়ী বিধায়কের টিকিট না পাওয়া, এলাকার বিধায়কের আসন বদল, স্থানীয় ‘বড়’ নেতার টিকিট না মেলার ক্ষোভে হয়েছে অবরোধ-বিক্ষোভ।
ক্যানিং পূর্ব থেকে সরিয়ে সওকাত মোল্লাকে ভাঙড়ে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ক্যানিং পূর্বে প্রার্থী বাহারুল ইসলাম। বাহারুলকে প্রার্থী হিসাবে তাঁরা চান না, সওকাতকেই ক্যানিং পূর্বে প্রার্থী করতে হবে— এমনই দাবিতে মঙ্গলবার রাত থেকে জীবনতলা বাজারে রাস্তা অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান যুব তৃণমূলে কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। বুধবার সকাল থেকে সওকাতের বাড়ির সামনে এবং জীবনতলায় তাঁর দলীয় কার্যালয়ের সামনেও বহু তৃণমূল কর্মী বিক্ষোভ দেখান।
সওকাতকে এ দিন ক্যামাক স্ট্রিটে নিজের দফতরে ডেকে পাঠান তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সন্ধ্যায় সওকাত বলেন, ‘‘কিছু সমস্যার বিষয়ে জানানো হয়েছে। দল দেখছে। আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।’’ তবে তৃণমূল সূত্রের মতে, ভাঙড়ে দলের নিলম্বিত নেতা আরাবুল ইসলাম সদ্য দল ছেড়েছেন। তিনি আইএসএফে যোগ দিতে পারেন বলে গুঞ্জন। ভাঙড়ের আর এক নেতা কাইজ়ার আহমেদও দল ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন। সে আবহে সওকাতকে ভাঙড়ে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হতে পারে। আরাবুলের কটাক্ষ, ‘‘উনি হারবেন বুঝে বিক্ষোভ করাচ্ছেন।’’ সওকাত বলেন, ‘‘দল আমাকে ভাঙড়ে প্রার্থী করায় ক্যানিং পূর্বের মানুষ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। বিক্ষোভের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই।’’ বাহারুল বলেন, ‘‘সওকাত মোল্লার সঙ্গে কোনও মতবিরোধ নেই।’’
উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙায় তৃণমূল তিন বারের বিধায়ক রফিকুর রহমানকে টিকিট না দেওয়ায় মঙ্গলবার রাত থেকে এ দিন দুপুর পর্যন্ত একাধিক জায়গায় অবরোধ-বিক্ষোভ হয়। রফিকুর বলেন, ‘‘যিনি প্রার্থী হয়েছেন তাঁকে দিয়ে এই আসন উদ্ধার করা খুব শক্ত।’’ আমডাঙায় তৃণমূলের প্রার্থী পিরজাদা কাসেম সিদ্দিকী বলেন, ‘‘রফিকুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।’’
টিকিট না পেয়ে এ দিন দুপুরে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক তজমুল হোসেন বলেন, ‘‘আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হল। এর উত্তর মানুষই দেবেন।’’ আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক (২০১৬) সৌরভ চক্রবর্তী টিকিট না পেয়ে সমাজ মাধ্যমে একের পরে এক ‘পোস্ট’ করেছেন। ফরাক্কার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের ঘোষণা, তিনি ফরাক্কা থেকেই লড়বেন। জলঙ্গির বিদায়ী বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডলের অনুগামীরা রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। নতুন প্রার্থী শ্যামলী সর্দারকে নিয়ে ক্ষোভ সামনে এসেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে। প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর দোলই বুধবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বলেন, “ঘাটালে সংগঠন নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে।” শ্যামলী বলেন, “সবাইকে সঙ্গেনিয়ে চলব।” পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী উত্তরে টিকিট না পাওয়া তপন চট্টোপাধ্যায় পরামর্শদাতা সংস্থার ভূমিকায় ক্ষুব্ধ। খণ্ডঘোষে বিদায়ী বিধায়ক নবীন বাগকে দল ফের প্রার্থী করায়, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি অপার্থিব ইসলাম ও তাঁর অনুগামীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। এ দিন দলের পরামর্শদাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। সূত্রের দাবি, প্রার্থী বদলের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধেরা।