গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
এ বার কলকাতার কোনও কেন্দ্র নয়, পিতৃভূমিতে ভোটে লড়ছেন রুদ্রনীল ঘোষ। জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী অভিনেতা-রাজনীতিকের কথায়, ‘‘শিবপুরের ছেলে শিবপুরে এলাম।’’ ২০২১ সালে ভবানীপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ছিলেন রুদ্রনীল। তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পরাজিত হন। এ বার রুদ্রনীলের প্রতিদ্বন্দ্বী রানা চট্টোপাধ্যায়। পেশায় চিকিৎসক রানা বর্তমানে বালি পুরসভার চেয়ারম্যান এবং ওই কেন্দ্রের বিধায়ক। ইতিমধ্যে মনোনয়ন দাখিল করেছেন দু’জনেই। রুদ্র জানালেন তাঁর বিষয়-আশয়।
শিক্ষক এবং শিল্পী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের পুত্র রুদ্রনীলের বয়স এখন ৪৭ বছর। গত বিধানসভা ভোটের সময় হলফনামায় জানিয়েছিলেন তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৬৯ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা। ঋণ ৬৯ লক্ষ টাকার বেশি।
টাকাকড়ি
হলফনামায় শিবপুরের বিজেপি প্রার্থী জানিয়েছেন, তাঁর হাতে রয়েছে নগদ ১০ হাজার টাকা। চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে অভিনেতা-রাজনীতিকের। সব মিলিয়ে ব্যাঙ্কে জমা ৮২ হাজার টাকা। পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে আছে মাত্র ৫৭ টাকা ৫০ পয়সা। অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কে জমা ৮০৭ টাকা। মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ার বাজারে কোনও বিনিয়োগ নেই অভিনেতার।
গাড়ি
একটি ফরচুনার লেজেন্ডার গাড়ির মালিক রুদ্রনীল। গাড়িটি কিনেছিলেন ২০২১ সালে। মূল্য ৩৮ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা।
গয়নাগাটি
শিবপুরের বিজেপি প্রার্থীর গয়নাগাটি, অলঙ্কার নেই। কমিশনকে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে রুদ্রনীলের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩৯ লক্ষ ৪৪ হাজার ৫৭৯ টাকা।
জমিজমা
কৃষি বা অকৃষিজমি নেই রুদ্রনীলের নামে। উত্তরাধিকার সূত্রেও জমিজমা পাননি।
বাড়ি
মোট তিনটি বাড়ি রয়েছে অভিনেতার। নাকতলা এলাকায় ১৮৭৯ স্কোয়্যারফুটের একটি বাড়ি রয়েছে তাঁর। বাকি দু’টি বাড়ি হাওড়ায় জগাছায়। ৩৬০ স্কোয়্যা ফুটের বাড়িটি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া। দ্বিতীয়টি নিজের কেনা ১৫০০ স্কোয়্যারফুটের। এখন নাকতলার বাড়িটির বাজারমূল্য আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। জগাছার পৈতৃক বাড়িটির দাম প্রায় ১০ লক্ষ টাকা এবং জগাছায় কেনা বাড়িটির আনুমানিক মূল্য ৩০ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে রুদ্রের স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা।
মোট সম্পত্তি
২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে রুদ্রনীলের রোজগার ছিল ২৫ লক্ষ টাকা। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার মালিক রুদ্রনীল। আর ঋণ নেই তাঁর।
শিক্ষা
১৯৯৪ সালে নরসিংহ দত্ত কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করেন রুদ্রনীল। তার পর অভিনয়কেই পেশা করেছেন।
ছাত্রজীবনে রাজনীতি করেছেন রুদ্রনীল। তখন এসএফআই করতেন। অভিনয়জীবনে অনেকটা সময় তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। রাজ্য বৃত্তিশিক্ষা পর্ষদের সভাপতিও ছিলেন রুদ্র। এখন রাজ্য বিজেপির অন্যতম মুখ তিনি।