(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই পশ্চিমবঙ্গের জন্য নির্বাচনী ‘সঙ্কল্পপত্র’ (ইস্তাহার) প্রকাশ করতে চলেছে বিজেপি। সরকার গড়তে পারলে রাজ্য তথা রাজ্যবাসীর জন্য বিজেপি কী কী করতে চায়, তা বিশদে ঘোষণা করা হবে ‘সঙ্কল্পপত্রে’। বিজেপি সূত্রের খবর, সাতটি মূল বিষয়কে অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র হিসাবে সেখানে তুলে ধরা হচ্ছে। রাজ্যের ‘বেহাল’ আর্থিক অবস্থার সংস্কার থেকে কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো বৃদ্ধি থেকে গ্রামীণ উন্নয়ন নিয়ে ঢালাও ঘোষণা তো থাকছেই। থাকছে শিক্ষা-স্বাস্থ্য-শিল্প নিয়ে বেশ কিছু নজরকাড়া প্রতিশ্রুতিও। যে সিঙ্গুরে জনসভা করতে এসে সেখানে শিল্প ফেরানো সংক্রান্ত মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সেই সিঙ্গুরের বিষয়েও অবশেষে স্পষ্ট ঘোষণা করার পথ নিতে পারে বিজেপি। ইস্তাহারে তারও উল্লেখ থাকছে বলে বিজেপি সূত্রের দাবি।
বিজেপির ইস্তাহারে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস জমানাকে আক্রমণ করা হয়নি বলেই খবর। আক্রমণ করা হয়েছে বাম এবং তৃণমূল জমানাকে। শুরুর দিকেই লেখা হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গের গত পাঁচ দশকের কাহিনি হল অনবরত পতনের এক আখ্যান’। অতএব বামেদের সাড়ে তিন দশক আর তৃণমূলের দেড় দশকের রাজত্বকালকেই যে ‘পতনের কাল’ হিসাবে বিজেপি বর্ণনা করছে, তা স্পষ্ট। উচ্চশিক্ষার ‘ভয়াবহ ক্ষতি’র কথা ইস্তেহারে বর্ণনা করতে গিয়ে বাম জমানার ‘অতি রাজনৈতিকীকরণ’ এবং তৃণমূল জমানার ‘দুর্নীতি’র দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। তবে তৃণমূল এবং বাম জমানার আগে যে কংগ্রেস জমানা পশ্চিমবঙ্গে ছিল, সে সময়ের দিকে যে বিজেপি খুব বেশি আঙুল তুলতে চায় না, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের প্রতি ‘সম্মান’ প্রদর্শনে।
ইস্তাহার প্রকাশের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনকালের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেছে বিজেপি। গত শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় এসে সেই অভিযোগপত্র আনুষ্ঠানিক ভাবে পেশ করেছেন। সে দিন তিনি বলেছিলেন, ‘‘আজ আমরা অভিযোগগুলি তুলে ধরছি। এর সমাধান আমরা কোন পথে করব, তা-ও আমরা এর পরে বলব।’’ এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ‘সঙ্কল্পপত্র’ প্রকাশ করে সেই ‘সমাধান’গুলির কথাই বিজেপি আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করবে।
‘চার্জশিট’ প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা আগেই আনন্দবাজার ডট কম জানিয়েছিল, বিজেপির অভিযোগপত্রে কী কী থাকতে চলেছে। ইস্তেহার প্রকাশের আগেও আনন্দবাজার ডট কম আভাস দিচ্ছে, কী কী থাকতে পারে বিজেপির নির্বাচনী ‘সঙ্কল্পপত্রে’:
১. দেউলিয়া রাজকোষ এবং ত্রুটিপূর্ণ প্রশাসনিক পরম্পরা থেকে মুক্তি
ক) গত ১৫ বছরে তৃণমূলের অপশাসন ও দুর্নীতির বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। অবিলম্বে মাফিয়া-শাসন শেষ করা হবে। অবিলম্বে কয়লা, বালি, পাথরের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের অবাধ লুঠ বন্ধ করা হবে।
খ) পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যকে দুষ্কর করে তুলেছে যে সব মাফিয়া সিন্ডিকেট, তাদের প্রতি ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ (জ়িরো টলারেন্স) নীতি নেওয়া হবে।
গ) তৃণমূল সরকারের ভ্রান্ত সংরক্ষণ নীতি বদলানো হবে। অন্যায় ভাবে যে সব সম্প্রদায়কে সংরক্ষণের বাইরে রাখা হয়েছে, সে সব সম্প্রদায়কে সংরক্ষণের আওতায় আনা হবে।
ঘ) ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
ঙ) ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আওতায় মাসে ৩,০০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে বেকার যুবক-যুবতীদের।
চ) ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা মিটিয়ে দেওয়া হবে।
ছ) রাজ্য সরকারের সব শূন্য পদ স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূরণ করা হবে।
জ) সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির উপরে বেকারদের নির্ভরতা কমাতে এমন কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে এবং নীতি প্রণয়ন করা হবে, যা নতুন সংস্থা এবং সুযোগ তৈরি করবে।
ঝ) প্রত্যেক বছর রাজ্যের নানা প্রান্তে মোট চারটি করে ‘অগ্নিবীর’ নিয়োগ শিবির হবে।
ঞ) সেনাবাহিনীতে বেঙ্গল রেজিমেন্ট তৈরির বিষয়ে সক্রিয় হবে বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকার।
ট) ‘রামসর কনভেনশন’ মেনে রাজ্যের জলাভূমি এবং বনভূমি রক্ষা করা হবে।
ঠ) মেয়েদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সব রকমের পদক্ষেপ। পুলিশের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি, ফাস্ট ট্র্যাক আদালতগুলিকে সক্রিয় করা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা হবে।
ড) নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করা হবে। এ দেশে এসে বিদেশিদের ঘাঁটি গাড়ায় পূর্ণচ্ছেদ টানা হবে। জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে জিহাদ-মুক্ত করা হবে।
ঢ) পাহাড়ে ‘স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান’ খোঁজার যে প্রতিশ্রুতি আগেই দেওয়া হয়েছিল, তা-ও রক্ষা করা হবে।
ণ) কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
২. উন্নয়নই অগ্রাধিকার
ক) কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গে গভীর সমুদ্র বন্দর বানানো হবে।
খ) দামোদর, রায়ডাক, ভাগীরথীর মতো নদী এবং গঙ্গাসাগরে সেতু তৈরি করে আন্তঃজেলা যাতায়াতের গতি বাড়ানো হবে।
গ) সুন্দরবন থেকে দার্জিলিং পাহাড় পর্যন্ত গোটা রাজ্যকে জাতীয় সড়কের মাধ্যমে জোড়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই দূরত্ব সাত-আট ঘণ্টায় অতিক্রম করার মতো সড়ক পরিকাঠামো তৈরি করা হবে।
ঘ) উত্তরবঙ্গে কৃষি, শিল্প এবং পর্যটনের উন্নতি।
ঙ) মালদহ এবং বালুরঘাটের বিমানবন্দরগুলি থেকে যাত্রী পরিবহণ শুরুর ব্যবস্থা।
ট) জমিজট মুক্ত করে রেল প্রকল্পগুলিকে তরান্বিত করা হবে।
ঠ) বিধানচন্দ্র রায়ের পরম্পরাকে সম্মান জানিয়ে রাজ্যে চারটি নতুন নগরী (দুর্গাপুর, বিধাননগর, কল্যাণীর মতো) তৈরি করা হবে।
ড) শহরাঞ্চলে বস্তিবাসীদের জীবন সহজ করে তুলতে বস্তি এলাকায় পরিকাঠামো বৃদ্ধি করা হবে।
৩. রাজ্যেই কাজের ব্যবস্থা
অনিচ্ছা সত্ত্বেও উপার্জন তথা জীবিকার জন্য অন্য রাজ্যে চলে যেতে যাতে কেউ বাধ্য না হন, তা বিজেপি সরকার নিশ্চিত করবে। পশ্চিমবঙ্গকে একটি চনমনে অর্থনীতিতে পরিণত করাই সে লক্ষ্যে পৌঁছোনোর একমাত্র পথ।
৪. গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতি
ক) কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রাজ্যে বন্যা নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা। খ) সীমান্ত এলাকায় এমন কিছু বাজার তৈরি, যাতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দু’পারের মানুষই উপকৃত হন। গ) কৃষকদের জন্য বীজ, সার ও কীটনাশকের বিশ্বাসযোগ্য সরবরাহ সুনিশ্চিত করা হবে। পরিবেশগত বিষয়ও মাথায় রাখা হবে। ঘ) ধানচাষিরা যাতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পান, তা নিশ্চিত করা হবে। ফসল কেনাবেচায় দালালরাজ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ করা হবে। ঙ) আলুচাষিদের স্বার্থরক্ষার্থে পদক্ষেপ করা হবে। চ) আইসিএআর-এর আলু গবেষণা কেন্দ্রের সহযোগিতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে একই রকমের সংস্থা তৈরি করা হবে, যা রাজ্যের আলুচাষিদের জন্য সহায়ক হবে। ছ) পশুপালন ও রেশম চাষ বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে উৎসাহ দেওয়া হবে। জ) রাজ্যে হিমঘরের সংখ্যা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। ঝ) মৎস্যচাষ ও মৎস্যজীবীদের স্বার্থরক্ষা এবং উপার্জন বৃদ্ধির লক্ষ্যে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করা হবে।
৫. শিল্পের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিতকরণ
ক) সিঙ্গুরে শিল্প উদ্যান (ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক) তৈরি করার লক্ষ্যে স্থানীয় জমি মালিকদের অনুমতি নিয়ে ১,০০০ একর জমি অধিগ্রহণ।
খ) রাজ্যে উন্নত পরিকাঠামো সম্বলিত চারটি বৃহৎ শিল্প উদ্যান।
গ) খনি-সহ যে কোনও শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশ বিধি কঠোর ভাবে মানা সুনিশ্চিত করা হবে।
ঘ) রাজ্যের বিজেপি সরকার দুর্গাপুর এবং বার্নপুরে ইস্পাত কারখানার উন্নয়নে সক্রিয় হবে।
ঙ) আসানসোল, দুর্গাপুর, ব্যারাকপুর, হাওড়া এবং তারাতলার শিল্পতালুকগুলির পুনরুজ্জীবনে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চ) চা এবং পাট শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটানো হবে।
ছ) প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা হবে। ইছাপুর গান অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরি এবং গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স যাতে জাতীয় গুরুত্বের প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে, তার জন্য চেষ্টা করা হবে।
জ) পশ্চিমবঙ্গে একটি সংহত সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থা আবার ফেরানো হবে।
ঝ) মহিলা এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য সরকারি বাসে নিখরচায় যাতায়াতের বন্দোবস্ত হবে।
ঞ) কলকাতা-হাওড়া, বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং শিলিগুড়িতে ‘লজিস্টিক হাব’ তৈরি করা হবে।
ট) বিড়ি শ্রমিক উন্নয়ন তহবিলের মাধ্যমে বিড়ি শ্রমিকদের উন্নয়ন।
ঠ) বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে বিজেপি সরকার সচেষ্ট হবে। চলচ্চিত্র জগতের উপরে মাফিয়াদের নিয়ন্ত্রণ শেষ করে ছবির নির্মাতা, অভিনেতা এবং কলাকুশলীদের উপহার দেওয়া হবে সৃজনশীলতার আবহ। ড) পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি জগতকে রাজনীতিমুক্ত করা হবে।
৬. শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন
ক) পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাদীক্ষার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করা হবে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষকের অভাব, নিম্নমানের পরিকাঠামো এবং জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষের ছবি বদলে দেওয়া হবে।
খ) বামেদের দ্বারা হওয়া অতি রাজনৈতিকীকরণ এবং তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত কার্যকলাপের জেরে পশ্চিমবঙ্গে উচ্চশিক্ষার যে ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামত করায় অভূতপূর্ব গুরুত্ব দেওয়া হবে।
গ) পশ্চিমবঙ্গে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০’ কার্যকর করা হবে।
ঘ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সব শূন্যপদ পূরণ করা হবে স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
ঙ) উত্তরবঙ্গে আইআইটি এবং আইআইএম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।
চ) রাজ্যে আরও একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির উদ্যোগ।
ছ) মেডিক্যাল পঠনপাঠনের সুযোগ বাড়ানো হবে, কয়েকটি জেলা হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজ করে তোলা হবে।
জ) বাল্যবিবাহ রুখতে প্রশাসনিক বন্দোবস্ত তৈরি হবে।
৭. স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন
ক) প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যায় চিকিৎসক ও নার্স রাখা সুনিশ্চিত করা হবে। পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সুনিশ্চিত করা হবে।
খ) স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রগুলিতে ২৪ ঘণ্টার পরিষেবা নিশ্চিত করা হবে।
গ) এমন স্বাস্থ্যনীতির প্রবর্তন ঘটানো হবে, যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় জোর দেয়।
ঘ) রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালু করা হবে, যাতে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা ভারতের যে কোনও প্রান্তের হাসপাতালে নিখরচায় চিকিৎসার সুযোগ পান।
ঙ) বিশেষ ভাবে সক্ষমদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা হবে।
ইস্তাহার কবে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হবে, তা এখনও নির্দিষ্ট ভাবে বিজেপি ঘোষণা করেনি। কোন নেতা বা নেতৃবর্গ ইস্তাহারের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করবেন, তা-ও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে এপ্রিলের শুরুতে কোনও একটি দিনে ইস্তাহার প্রকাশ করার সম্ভবনা। যে ধরনের প্রতিশ্রুতি বিজেপির এই ‘সঙ্কল্পপত্রে’ থাকতে পারে বলে আভাস মিলেছে, তাতে রাজ্যে বসবাসকারী সব ধরনের আর্থিক ও সামাজিক শ্রেণির জন্য কিছু না কিছু সুনির্দিষ্ট ঘোষণা যে থাকছে, তা নিশ্চিত। এই ‘সঙ্কল্পপত্র’ তৈরির প্রক্রিয়া বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই শুরু করা হয়েছিল। বিশিষ্ট নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ সংগ্রহ করেছিলেন বিজেপি নেতারা। নিজেদের রাজ্য দফতরে এবং প্রতিটি জেলায় জেলায় ‘ড্রপ বক্স’ বসিয়ে সাধারণ জনতার কাছ থেকেও লিখিত পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল। সব ধরনের পরামর্শ দেখে এবং বিবেচনা করেই এক ‘সর্বসমাবেশী সঙ্কল্পপত্র’ তৈরি করা হয়েছে বলে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি।